Advertisement
E-Paper

রাহুলদার এই ঘটনার মাঝেও শিল্পীদের ‘নিষিদ্ধ’ হওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে, আমি কৃতজ্ঞ: ঋদ্ধি

ঋদ্ধি সেনের সঙ্গে টেকনিশিয়ানরা কাজ করতে রাজি নন। তাই অনেক দিন হল ইন্ডাস্ট্রিতে ‘নিষিদ্ধ’ অভিনেতা। রাহুলের ঘটনার মাঝেই আলোচনার কেন্দ্রে ইন্ডাস্ট্রির এই সমস্যা।

ঋদ্ধি সেন

শেষ আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৩২

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

প্রত্যক্ষ ভাবে সাক্ষী থাকলাম এক অদ্ভুত মুহূর্তের। কিন্তু একটা প্রাণের বিনিময়ে এই দিন আসুক সেটা হয়তো আমরা কেউই চাইনি। অনেক দিন ধরেই চেষ্টা করছিলাম এই ভাবে একত্রিত হওয়ার। কিন্তু কিছুতেই তা হয়ে উঠছিল না। কিন্তু যে ঘটনার মাধ্যমে তা হল সেটা ভোলা অসম্ভব। আমরা তো না হয় রাহুলদাকে চিনতাম। ওঁর কাছের ছিলাম। আমার বিশ্বাস, যাঁরা রাহুলদাকে চিনতেন তাঁরা এই ঘটনা কখনও ভুলতে পারবেন না।

মঙ্গলবার সকালে টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় পৌঁছে গিয়েছিলাম। অনেকগুলো কারণেই একত্র হওয়ার প্রয়োজন ছিল। তবে আজ যা কিছু হল, সবকিছুর কৃতিত্ব দেব প্রিয়াঙ্কাকে। ও যে ভাবে এই লড়াইটা লড়ছে, সত্যিই কুর্নিশ। প্রিয়াঙ্কাই তো সবাইকে এক করেছে। আসলে উত্তর না দেওয়া আমাদের একটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়েছিল। তেমনই উত্তর না পেতে পেতেও আমরা অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি। ভেবে নেওয়া হয়েছিল, আর পাঁচটা ঘটনার মতো এই বিষয়টাও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফিকে হয়ে যাবে।

কিন্তু সেটা যে করা যায় না সেটাই বুঝিয়ে দিয়েছে সবাই। আমার বুম্বাকাকু, মানে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব-সহ ইন্ডাস্ট্রির কলাকুশলীরা সবাই মাটি কামড়ে পড়েছিল। আমরা যে ভাবে রাহুলদাকে হারিয়েছি। আর যেন কাউকে হারাতে না হয়, তার জন্যই এই উত্তরটা পাওয়া জরুরি। আর এই বারে সেই উত্তরটা আমরা নিয়েই ছাড়ব। সেটারই একটা জায়গা তৈরি হয়েছে। কাছের মানুষকে হারিয়ে আমরা হয়তো এক হলাম। এত দিন এই একতার অভাব ছিল, যা হয়তো পূর্ণ হল।

Advertisement

সমবেত ভাবে ইন্ডাস্ট্রির প্রতিটি সংগঠনের সদস্যেরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার মাধ্যমে যা যা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা খুবই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে নেওয়া হয়েছে। কারণ, আমাদের কর্মক্ষেত্রে অনেক জায়গায় ফাটল ধরেছিল। তার মধ্যে শিল্পীদের নিষিদ্ধ করা হতে পারে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা হতে পারে বা আরও নানা ধরনের ফাটল। সেগুলোকেই সমবেত ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সবাই একসঙ্গে সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলেছেন। আমি নিজে সেই বৈঠকে উপস্থিত থেকে যা বুঝলাম— এটা যে এক জন, দু’জনের সিদ্ধান্ত তা নয়। একসঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নেওয়া সিদ্ধান্ত। বুঝলাম, সবার মনেই জমেছিল অনেক প্রশ্ন। সবকিছুকে একছাতার তলায় আনার প্রচেষ্টা করা হল।

তবে আজ যে ‘নিষিদ্ধ’ বা শিল্পীদের ‘ব্যান’ হওয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, এখন এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে নিজের সমস্যাকে লঘু মনে হচ্ছে। অনেক দিন ধরেই এই বিষয় নিয়ে যিশু সেনগুপ্ত, দেব, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলছিলেন। রাহুলদার এই মর্মান্তিক ঘটনার মাঝেও যে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সেটার জন্য ব্যক্তিগত ভাবে আমি কৃতজ্ঞতা, ধন্যবাদ জানাচ্ছি। অবশ্যই খুশি হয়েছি যে এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। যেহেতু আমাদের কর্মক্ষেত্রের অনেক অসঙ্গতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। কিন্তু আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ব্যান ওঠা না ওঠার থেকেও আমার কাছে জরুরি যে মূল বিষয় তা নিয়ে আলোচনা চলছিল। কারণ, রাহুলদার চলে যাওয়া যা এখনও আমাদের কাছে ভাবনারও অতীত। সেখানে নিরাপত্তা নিয়ে পদক্ষেপ করা অনেক বেশি জরুরি ছিল। এই ঘটনাকে ভুলে না গিয়ে যে উত্তর পাওয়ার জন্য পদক্ষেপ করা হয়েছে সেটা সবচেয়ে বেশি দরকার ছিল। এটার জন্য প্রিয়াঙ্কার বড় ভূমিকা রয়েছে। আর অবশ্যই বুম্বাকাকু যদি এগিয়ে না আসতেন তা হলে সবাইকে একছাতার তলায় আনা যেত না।

Riddhi Sen Tollywood Industry Tollywood Celebrities
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy