লাল, নীল, হলুদ, বেগনি— কালো চুলে আর মন ভরে না নতুন প্রজন্মের। আর তাই বাংলা-সহ গোটা ভারতে ছেলেমেয়েদের কেশসজ্জা পাল্টেছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। চেহারায় বদল আসে, আত্মবিশ্বাস বাড়ে, ব্যক্তিত্বে নতুন মাত্রা যোগ হয়। অনেকেরই পাকা চুলের কারণে আত্মবিশ্বাস কমে যায়। জিনগত কারণেই হোক বা শারীরিক সমস্যার দরুন, অল্প বয়সে পাকা চুলের কারণে অনেকেরই ভোগান্তি হয়। আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে তাই মাসে দুই থেকে তিন বার চুলে রং করেন তাঁরা।
কৃত্রিম রংগুলিতে যে রাসায়নিক থাকে, তা চুলের স্বাভাবিক রং পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়। কমতে থাকে চুলের গোড়ায় থাকা মেলানিন। কৃত্রিম রঙে থাকা ভারী ধাতু ও রাসায়নিক উপাদান মাথার ত্বকে ঢুকে গিয়ে বিভিন্ন রকম চর্মরোগের কারণ হয়ে ওঠে। তবে মাথায় রং করলে কি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে? রায়পুর নিবাসী ক্যানসার চিকিৎসক জয়েশ শর্মার মতে, ‘‘হেয়ার ডাইগুলিতে ফর্ম্যালডিহাইড নামক এক প্রকার উপাদান থাকে, যা আদতে কার্সিনোজেনিক প্রকৃতির। তবে ১৫ দিন অন্তর বা এক মাস, দু’মাস অন্তর চুলে রং করলে কিন্তু আপনার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়বে না। তাই সাজগোজের ক্ষেত্রে মনে কোনও রকম ভয় না রাখাই ভাল।’’
সতর্কবার্তা
চিকিৎসকের মতে, হেয়ার ডাই থেকে সমস্যা তাঁদের হবে, যাঁরা সালোঁয় দিনে দশ থেকে পনেরো বার হেয়ার ডাইয়ের মাধ্যমে ফর্ম্যালডিহাইডের সংস্পর্শে আসেন। অতিরিক্ত ব্যবহারে কিন্তু তাঁদের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই তাঁদের সতর্ক থাকতে হবে। হেয়ার ডাই ব্যবহারের সময় হাতে অবশ্যই গ্লাভস পরতে হবে। এ ছাড়া সালোঁয় যেন সঠিক পদ্ধতিতে ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা থাকে, তা-ও নিশ্চিত করতে হবে।