মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবার প্রকোপে চিন্তা বেড়েছে কেরলে। এ দেশে এই রোগ নতুন নয়। তবে অতীতে আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই কম ছিল। গত এক বছরে কেরলে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। গত ১৭ মাসে মৃত্যু হয়েছে চার জনের। বিরল এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বঙ্গেও। চিকিৎসকদের ধারণা, এর পিছনে অনেকটাই দায়ী বদলে যাওয়া আবহাওয়া।
কী ভাবে ছড়াতে পারে?
অ্যামিবা হল থার্মোফিলিক, উষ্ণ প্রস্রবণ বা গরম জলে এই প্রাণীকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। সাধারণত পরিষ্কার জলেই অ্যামিবার বাস। জলের উষ্ণতা যত বাড়বে, অ্যামিবার সংখ্যাও ততই বৃদ্ধি পাবে। বদ্ধ জলে এরা দ্রুত বংশবিস্তার করে। এদের বিজ্ঞানসম্মত নাম ‘নিগ্লেরিয়া ফোলেরি’। নদী, পুকুর হ্রদ থেকে সুইমিং পুল, যে কোনও জলেই এদের অবাধ বাস। শিল্পাঞ্চলের কাছাকাছি এলাকায়, দূষিত জলেও দেখা মেলে এদের। দীর্ঘ দিন ধরে পরিষ্কার না করা সুইমিং পুল বা ক্লোরিনেটেড নয়, এমন বদ্ধ জলে দ্রুত ছড়ায় মগজখেকো অ্যামিবা।
সংক্রামক রোগ বিষয় চিকিৎসক অনির্বাণ দলুই এ বিষয়ে জানিয়েছেন, এমন এককোষী প্রাণী এক বার নাক দিয়ে ঢুকে মস্তিষ্কে বাসা বাঁধলে সেখানে সিস্ট তৈরি করে ফেলে। এর সংক্রমণে নিগ্লেরিয়াসিস বা প্রাইমারি অ্যামিবিক মেনিনগোএনসেফালাইটিস (পিএএম) রোগ হয়। যা মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়লে রোগীকে বাঁচানো খুব মুশকিল হয়ে পড়ে। দ্রুত অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ওষুধ না দিলে মস্তিষ্কের কোষ ছিঁড়েখুঁড়ে দিতে পারে অ্যামিবা। তাই কোনও জলাশয়ে বা পুকুরে নামার আগে সতর্ক হতে হবে। কলের জল পেটে গেলে তেমন ভয় নেই, কারণ পাকস্থলীর অ্যাসিড সেখানে সুরক্ষা দেবে, কিন্তু নাক দিয়ে শ্বাসনালীতে ঢুকে গেলে তখন বিপদের কারণ হতে পারে।
সতর্ক থাকতে কী কী করণীয়?
গরমের সময়ে অনেকেই সুইমিং পুলে নামেন, সেখানে সতর্ক থাকতে হবে, জল যেন কোনও ভাবেই নাক দিয়ে না ঢোকে। সাঁতারের সময়ে নাকের ক্লিপ ব্যবহার করলে ভাল।
সাধারণ কলের জলে বা পাইপলাইন পরিষ্কার না করা হলে সেখান দিয়ে আসা জলে পরজীবী থাকতেই পারে, তাই এ সময়ে জল ফুটিয়ে ব্যবহার করা ভাল। জল কোনও ভাবেই নাক দিয়ে টানা যাবে না।
বাড়িতে যে ট্যাঙ্ক থাকে তা সময়ান্তরে পরিষ্কার করতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে অপরিষ্কার ট্যাঙ্কে পরজীবী বাসা বাঁধতেই পারে।
অনেক সময় পাইপলাইনের ফাটল দিয়ে মাটি থেকে এই জীবাণু জলে মিশতে পারে। তাই সাবধান হতে হবে।
নাক বা মুখ ধোয়ার কাজে ব্যবহৃত জল অন্তত ১ মিনিট ফুটিয়ে ঠান্ডা করে ব্যবহার করতে হবে।