Advertisement
E-Paper

এসআইআর প্রক্রিয়া চলুক, কিন্তু কাউকে হেনস্থা না করে! মত বাংলা বিনোদনদুনিয়ার

কখনও বাংলার খ্যাতনামীদের এসআইআর শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। কখনও ডাকা হচ্ছে অসুস্থ প্রবীণ নাগরিকদের! দেশছাড়া হওয়ার ভয়ে কাঁপছে বাংলা। বলছেন বাংলা বিনোদনদুনিয়ার অনেকেই।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৮
এসআইআর নিয়ে কী মত রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের?

এসআইআর নিয়ে কী মত রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের? ছবি: ফেসবুক।

কখনও সাংসদ-অভিনেতা দেব। কখনও বাংলার খ্যাতনামী কবি জয় গোস্বামী। নির্বাচন কমিশন এসআইআরের নোটিস ধরিয়েছে এঁদের! হয়রানির এখানেই শেষ নয়। শুনানিতে একাধিক বার ডাকা হচ্ছে অসুস্থ প্রবীণ নাগরিকদের। দেশছাড়া হওয়ার ভয়ে কাঁপছে বাংলা। বলছেন বাংলা বিনোদনদুনিয়ার অনেকেই।

এসআইআর-এর নামে এই হেনস্থার প্রতিবাদ জানিয়ে মঙ্গলবার সিইও ভবনে উপস্থিত অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, সুরকার-পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, পোশাকশিল্পী অভিষেক রায়। একতা মঞ্চ থেকে তাঁরা একটি আবেদনপত্র এ দিন জমা দেন দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারের হাতে। আনন্দবাজার ডট কম-কে পোশাকশিল্পী অভিষেক বলেন, “এসআইআর প্রক্রিয়া চলুক। আমাদের তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু প্রক্রিয়ার আরও সরলীকরণ হোক। খ্যাতনামীদের অযথা হয়রানি বন্ধ হোক। বন্ধ হোক প্রবীণ নাগরিকদের শুনানির নামে বার বার ডেকে পাঠানো। তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।” তাঁর মতে, সারা রাজ্য জুড়ে দেশছাড়া হওয়ার আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই ভয় কোনও ভাবেই কাম্য নয়। পরমব্রত সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, বাংলার প্রান্তিক মানুষ বা যাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কম তাঁদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাঁদের মনে প্রশ্ন, ‘তা হলে কি আমি ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হলাম?’ তাঁর মতে, এই অহেতুক, অমূলক আতঙ্ক দূর করার আশু প্রয়োজন।

ক্রমশ গোটা বাংলা যেন কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বাংলা বিনোদনদুনিয়ার খ্যাতনামীদের বক্তব্য কী? জানতে যোগাযোগ করা হয়েছিল অভিনেতা রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়, সাংসদ-অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। কী বলছেন তাঁরা?

এসআইআর নিয়ে নান্দীকার নাট্যদলের প্রধান, পর্দা-মঞ্চের খ্যাতনামী রুদ্রপ্রসাদের মত, “এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের কাছে একেবারেই কাম্য নয়। কারণ, তাঁরা খুব সাধারণ ভাবে নিজেদের মতো করে বাঁচতে চান। যাঁরা এই প্রক্রিয়া চালু করেছেন, তাঁরা সেই সব মানুষের মনে আতঙ্ক বা ভয় তৈরি করে দিয়েছেন। এটাই হয়তো তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল।” তাঁর খারাপ লেগেছে, এই ধরনের প্রক্রিয়া আগে চালু হলে সমাজের বুদ্ধিজীবীরা প্রতিবাদ জানাতে পথে নামতেন। এখন যেন তাতে ভাটা পড়েছে বলে তাঁর মনে হচ্ছে। বর্ষীয়ান অভিনেতা-নাট্যব্যক্তিত্বের মতে, তাঁরা যদি ভয়-ভীতি সরিয়ে এগিয়ে আসেন তা হলে হয়তো অবস্থান বদলাতে পারে। তিনি তাই সমাজের বুদ্ধিজীবীদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন।

বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় একটা সময় কট্টর বামপন্থী ছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতি তাঁকে কতটা ভাবাচ্ছে? বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে বিপ্লব দীর্ঘ দিন ধরে ঘরবন্দি। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এখনকার রাজনীতি তিনি বিন্দুমাত্র বুঝতে পারেন না। তাঁর সময় আর এখনকার রাজনীতির মধ্যে অনেক ফারাক। তাই তিনি রাজনীতি নিয়ে কোনও মন্তব্য করবেন না।

রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তের মতোই পুরো পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা করেছেন সাংসদ-অভিনেত্রী রচনা। তাঁর কথায়, “এসআইআর প্রক্রিয়া চলুক। আমাদের তাতে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু এই প্রক্রিয়ার সরলীকরণ হোক। সাধারণ মানুষ অনেক কিছুই বুঝতে পারছেন না। ফলে, রাজ্যবাসীর মনে ভয়-বিভ্রান্তি বাড়ছে। এটা কাম্য নয়।” তিনি প্রতিবাদ জানান খ্যাতনামীদের হেনস্থার বিষয়টি নিয়েও। তাঁর মতে, “সারা দেশ এঁদের চেনে। এঁরা বাংলার গর্ব। আজ তাঁদের হাজিরা দিতে হচ্ছে! এর চেয়ে লজ্জাজনক পরিস্থিতি আর কিছুই হতে পারে না।” পাশাপাশি অনুরোধ জানান, অসুস্থ প্রবীণ নাগরিকদের বার বার না ডেকে তাঁদের বাড়ি গিয়ে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করা হোক। এতে সব কাজ সুষ্ঠু ভাবে হবে।

Rudraprasad Sengupta Rachna Banerjee Biplab Chatterjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy