বিয়ের পরে রণজয়ের প্রথম জন্মদিন। শনিবার থেকেই তো আমি সব বাজার-হাট করে ফেলেছি। তবে এই বছরে ওর জন্মদিনে একটাই সমস্যায় পড়েছি। আসলে এখন একসঙ্গে থাকি তো। তাই সারপ্রাইজ় পরিকল্পনা করতে কালঘাম ছুটে যাচ্ছে আমার। আগের বছরে এত অসুবিধা হয়নি। বাইরে থেকে গুছিয়ে সব করেছিলাম। এ বারে তাই সবটা সন্তর্পণে করতে হচ্ছে।
তবে এখনও ভাবতেই পারি না রণজয়ের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়ে গিয়েছে। আমরা একসঙ্গে সংসার করছি। ‘গুড্ডি’র সময়ে এত কিছু ভাবতেই পারিনি। তখন মাঝে মাঝে দেখতাম সেটে রেগে যেত ও। এখনও যদিও অনেকটা বদলে গিয়েছে। বিয়ের সদ্য এক মাস হয়েছে। খুব যে পরিবর্তন লক্ষ করছি তেমন নয়। তবে একসঙ্গে থাকতে থাকতে অদ্ভুত স্বাচ্ছন্দ্য তৈরি হয়ে যায়। যত দিন এগোচ্ছে সেটাই যেন গভীর হচ্ছে। আরও বেশি পরিবর্তন লক্ষ করি যখন ও স্বামী বা পর্দার নায়ক নয়, যখন শুধুই বাড়ির ছেলে।
যে ভাবে আমার মা-বাবা আমাকে শাসন করে, রণজয় ওর মাসি, মামা পরিবারের সবাইকে নিজের সন্তানের মতোই শাসন করে। আমি তৃতীয় ব্যক্তি হিসাবে বাইরে থেকে দেখি। আর উপভোগ করি সেই মুহূর্তগুলো। বিয়ের পরের প্রথম জন্মদিনেও নিজে হাতে সবটা করব ভেবেছি। পাঁচরকম ভাজা। সেখানে ধোকা ভাজা থাকবেই। কারণ ওর প্রিয় খাবার। গয়নাবড়ি ভেজে দেব ভেবেছি। পায়েস করব নিজে হাতে। চিংড়ির মালাইকারিও করব ভেবে রেখেছি।
বিয়ের মরসুমে অনেক পাঁঠার মাংস খাওয়া হয়ে গিয়েছে। তাই চিকেনই রান্না হবে। উপহারটা সারপ্রাইজই দেব ভেবেছি। যদিও জন্মদিনে খুব বেশি আর কিছু ভাবতে পারছি না। কারণ, আমাদের দু’জনেরই কাজ আছে। বেরোতে হবে। রাতে বন্ধুরা আসবে। খাওয়া-দাওয়া হবে। এই কয়েক বছরে রণজয়ের মধ্যে কোনও পরিবর্তন দেখিনি। কী ভাবে কাছের মানুষদের আগলে রাখতে হয়, সেটাই বরং প্রতিনিয়ত শিখছি ওর থেকে। ও যেন এমনই থাকে সারা জীবন, জন্মদিনে এটাই প্রার্থনা।