রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর কেটে গিয়েছে তিন দিন। বার বার কথা উঠেছে, যে প্রযোজনা সংস্থার ধারাবাহিকের শুটিংয়ে তালসারি গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটল, তাদের তরফে কেউ ঘটনার দায়িত্ব নিতে এগিয়ে এলেন না কেন। এমনকি, সংস্থার মুখ লীনা গঙ্গোপাধ্যায় রাহুলের মৃত্যুর পরে তাঁর পরিবারের সঙ্গে এক বারও দেখা করেননি বলে সমালোচনা হয়েছে। ঘটনার তিন দিন পরে অবশেষে সেই সংস্থার তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে একটি বিবৃতি প্রকাশিত হল। সেখানে নানা কথার সঙ্গে জানানো হল, লীনা গঙ্গোপাধ্যায় আর মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন থাকতে চান না। তাদের বক্তব্য, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের খাতিরেই এমন ইচ্ছাপ্রকাশ লীনার।
তালসারিতে রাহুলের আকস্মিক মৃত্যুর পর থেকেই বার বার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রযোজক সংস্থার অন্যতম মুখ লীনা গঙ্গোপাধ্যায়কে। শিল্পীমহলের একটা অংশ সরাসরি তাঁর নাম নিয়ে প্রশ্নও তোলেন, এত বড় ঘটনার পরেও কেন তিনি বা তাঁর সংস্থা নীরব? বুধবার যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে সংস্থার তরফে, তাতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই সংস্থা লীনার একার নয়। আরও এক জন অংশীদার রয়েছেন, তিনি শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়। বিবৃতিতে এ-ও জানানো হয়েছে, লীনা ২০১০ সাল থেকে এই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত লেখক ও ‘ক্রিয়েটিভ হেড’ হিসেবে। তিনি সংস্থার সৃজনশীল বিষয়টিতেই যুক্ত থাকেন। এর পরেই জানানো হয়েছে, ঘটনার দিন শৈবাল শহরে ছিলেন না। খবর পেয়ে বিমান ধরে মুম্বই থেকে ফিরে আসেন। দেখা করতে যান রাহুলের পরিবারের সঙ্গে। কিন্তু প্রযোজনা সংস্থার দাবি, সেই সময়ে রাহুলের পরিবারের সদস্যদের সেই অবস্থা না থাকায় তাঁকে কথা না বলেই ফিরে যেতে হয়। যদিও সেখানে উপস্থিত কেউই তাঁকে দেখেননি বলে দাবি।
সমুদ্রের জলে ডুবে অভিনেতার মৃত্যুতে শুটিংস্থলের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। ওড়িশা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল, এ শুটিংয়ের কোনও অনুমতি ছিল না। যদিও সংস্থার তরফে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অনুমতি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র তারা নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবে।
রাহুলের মৃত্যুর কারণ ঘিরে যে সব খবর চারদিকে ঘুরছে তার সবটা সত্যি নয় বলেই দাবি সংস্থার। তারা জানিয়েছে, শুটিং ইউনিটের লোকজনের তরফে ওই মুহূর্তে দুর্ঘটনাস্থলে রাহুলকে বাঁচানোর যথাসম্ভব চেষ্টা করা হয়েছিল। ঘটনার পরে দ্রুত রাহুলকে কাছেই একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয় বলে সংস্থার দাবি। সেখানে চিকিৎসক না থাকার কারণে প্রোডাকশন টিমের লোকজন তখন রাহুলকে দিঘা হাসপাতালে নিয়ে যান।
সর্বশেষে প্রযোজনা সংস্থার তরফে বলা হয়েছে, রাহুল তাঁদের শুধু সহকর্মী নন, বন্ধু ছিলেন। তাঁদের প্রযোজনা সংস্থা ও প্রোডাকশন টিমের প্রত্যেকে এই তদন্তে সাহায্য করবেন।