Advertisement
E-Paper

রোদে প্রচার আঙুরলতার

ভ্রাম্যমাণ থিয়েটারে এক সময় বেনজির ভুট্টোর অভিনয় করতেন তিনি। অসমের জনপ্রিয় সেই অভিনেত্রী আঙুরলতা ডেকা এ বার নামলেন রাজনীতির ময়দানে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৩:০৮

ভ্রাম্যমাণ থিয়েটারে এক সময় বেনজির ভুট্টোর অভিনয় করতেন তিনি। অসমের জনপ্রিয় সেই অভিনেত্রী আঙুরলতা ডেকা এ বার নামলেন রাজনীতির ময়দানে। শ্রীমন্ত শঙ্করদেবের জন্মস্থান নগাঁও জেলার বটদ্রবা অসমবাসীর কাছে পবিত্র ঠাঁই। সেই কেন্দ্রেই বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন আঙুরলতা। তাঁর বিপক্ষে প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম বরা।

গৌতমবাবু কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা এবং নগাঁওয়ের ধিঙের বাসিন্দা। আঙুরলতা নলবাড়ির মেয়ে। সম্প্রতি অভিনেতা আকাশদীপকে বিয়ে করে নগাঁও থেকে লড়ার পাসপোর্ট পেয়েছেন তিনি। আঙুরলতা বটদ্রবার টিকিট পাওয়ায় দলের ভিতরে বিস্তর প্রশ্ন উঠেছিল। দিনভর নিজের কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রান্তে টহল দিয়ে ফর্সা চামড়া বাদামি করে ফেলা অভিনেত্রী অবশ্য কথার ধারে সে সব প্রশ্ন উড়িয়ে দিয়েছেন। ২০০৮ সালে ভ্রাম্যমাণ থিয়েটারের মঞ্চে 'বেনজির ভুট্টো'র ভূমিকায় অভিনয় করে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন আঙুরলতা। তারপর অনেক ছবি, নাটকে অভিনয় করে বাড়িয়েছেন জনপ্রিয়তা। পেয়েছেন ‘হট নায়িকা’র তকমাও। আচমকা পর্দা থেকে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে লড়তে নামা কেন? কোন জাদুতে দলের পুরনো নেতাদের টপকে এমন সম্মানের আসনে প্রার্থী হলেন? আঙুরের দাবি, তিনি গত বছর জানুয়ারি মাসে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তারপর থেকে ঘুরেছেন গোটা রাজ্য। ৮ বছর ভ্রাম্যমাণ থিয়েটারে অভিনয়ের সূত্রে গ্রামের মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বেড়েছে। কাছ থেকে দেখেছেন মানুষের সমস্যা। কিন্তু তাঁর আগে বিজেপিতে যোগ দেওয়া প্রযোজক, গায়ক, শিল্পী পবিত্র মার্গারিটা, যতীন বরা, কৃষ্ণমণি চুতিয়ারা কেন বটদ্রবার টিকিট পেলেন না? আঙুরলতা বলেন, ‘‘আমি প্রার্থী হতে চেয়ে কারও কাছে দয়াভিক্ষা করিনি। দলের শীর্ষ নেতারা আমায় যোগ্য মনে করেছেন বলেই দাঁড় করিয়েছেন। শুধুই অভিনেতা হলে টিকিট মেলে না। তার জনসংযোগ, ব্যক্তিত্ব, দক্ষতাও বিচার্য বিষয়।’’

তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, বহিরাগত হয়েও আকাশদীপকে বিয়ে করে বটদ্রবার টিকিট জোগাড় করেছেন। আঙুরলতার সহাস্য জবাব, ‘‘জন্ম-মৃত্যু-বিবাহ উপরওয়ালা ঠিক করেন। আকাশদীপের সঙ্গে আমার বিয়েটাও তাই। এর সঙ্গে রাজনীতির যোগ নেই। ও বরং আমার পাশে থেকে লড়াইতে উৎসাহ দিচ্ছে।’’ কোন অঙ্কে কংগ্রেসের দূর্গে গৌতম বরার মতো নেতাকে হারানোর আশা করছেন? আঙুরলতা বলেন, ‘‘এই লড়াই বিজেপির মরণ কামড়। জিততে গেলে অঙ্ক তো কষতেই হবে। সেটা উহ্য থাক। আপাতত অগপ-বিজেপিকে এক হয়ে লড়ে জনসমর্থন আদায় করাই বড় কথা।’’ বাহারি পোশাকের বদলে এখন তাঁর পরণে শাড়ি-মেখেলা। গলায় পদ্মচিহ্নের উত্তরীয়। নাগাড়ে রোদে ঘুরে, ভাষণ দিয়ে গায়ের রঙ পুড়েছে, ভেঙেছে গলা। তাও আক্ষেপ নেই অভিনেত্রীর। তিনি বলেন, ‘‘নরেন্দ্র মোদীকে দেখার আগে ভাবতাম রাজনীতি নোংরা জায়গা। নেতারা শুধুই অন্যের টাকায় আরাম করেন। আজ ভাবি, রাজনীতি নোংরা জায়গা হলে, আমাদের মতো যুব সমাজকেই সেই নোংরা সাফ করতে এগিয়ে আসতে হবে।’’

অভিনয়ের পেশা কী নেত্রীর ভূমিকায় সাহায্য করছে? মঞ্চের বেনজিরের জবাব, ‘‘করছে তো বটেই। তবে তা রূপ বা জনপ্রিয়তার জন্য নয়। দিনের পর দিন কষ্ট করে নাটক করা, গলা ও শরীর সতেজ রাখার অনুশীলন অনেকটা সাহায্য করে। লোকে ভাবে অভিনেতাদের জীবন মানেই আরামের। কিন্তু আমাদেরও অনেক অভাব-অভিযোগ থাকে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy