ছোট্ট মেয়েটা সুন্দরী। নাকে নোলক পরা সরল মুখ। আর সেই সারল্যই ছিল তার সাফল্যের চাবিকাঠি। সে অর্থাত্ ‘মৌরী’ ওরফে মানালি মনীষা দে। বাংলা টেলিভিশনের দর্শক ‘মৌরী’কে আজও মনে রেখেছেন। সেই চরিত্র তুমুল জনপ্রিয়তা দিয়েছিল মানালিকে। অভিনেত্রী মাস কয়েক হল ফের ফিরেছেন টেলিভিশনে। এ বারের বাজি ‘নকশিকাঁথা’।

এই ধারাবাহিকে মানালির চরিত্রের নাম শবনম। “মুসলিম ক্যারেক্টার আগে কখনও করিনি। সে জায়গা থেকে একদম নতুন শবনম চরিত্রটা। সকলের ভাল লাগছে”স্টুডিওর মেকআপরুমের চেয়ারে বসে বললেন মানালি।

মাঝে বেশ কিছুদিন টেলিভিশনে দেখা যায়নি অভিনেত্রীকে। তা হলে কি এটা কামব্যাক? প্রশ্ন শুনেই ভুরু কুঁচকে গেল মানালির। বললেন, ‘‘অনেকেই বলছেন কামব্যাক। আমি সেটা বলতে চাই না। কারণ মাঝে কাজ করেছি তো। মেগা সিরিয়াল করিনি। তবে ছবির কাজ চলছিল। অনেক দিন পর লিড হিসেবে মেগার কাজ করছি।’’

আরও পড়ুন, ‘সোহিনীর সঙ্গে প্রেমের পর স্যারকে বলেছিলাম, ওকে বিয়ে করতে চাই’

বেশ কিছু ছবির কাজে মন দিয়েছিলেন মানালি। তা হলে টেলিভিশনের অফার কি ছিল না? ‘‘মেগার অফার ছিল। কিন্তু সে সময় ছবির কাজে মন দিয়েছিলাম। আর তখন ওয়ার্কিং আওয়ার্স যা ছিল মেগা করতে করতে ছবি করা বা উল্টোটা, অ্যাজ আ লিড খুব কঠিন ছিল। কিন্তু এখন সব কিছু ভীষণ সময় মেপে করা হয়’’ জবাব অভিনেত্রীর।


শবনমের লুকে মানালি।

টেলিভিশনে শিল্পীদের কাজের নির্দিষ্ট সময়, সঠিক সময়ে বেতন পাওয়া-সহ বেশ কিছু ইস্যুতে কয়েক মাস আগে দিন সাতেক কাজ বন্ধ ছিল ইন্ডাস্ট্রিতে। শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে সমাধান সূত্র বের হয়। সেই সমাধানে খুশি মানালি। ‘‘ওই ঘটনার পর সবটাই খুব স্মুথলি চলছে। এখন আমরা প্রত্যেকে ভাল ফ্লোতে কাজ করছি। আমার মনে হয় এই চেঞ্জটা দরকার ছিল। হয়তো শুটিংয়ের সময় কমেছে। সেটা মেগার জন্য একটু কঠিন। কিন্তু অ্যাজ অ্যান আর্টিস্ট আমরা সুন্দর ডেলিভার করতে পারছি। এমনও হয়েছে ২২ ঘণ্টা টানা শুটিং। দু’ঘণ্টার জন্য বাড়ি গিয়েছে। আসলে ঘুম না হলে ক্যামেরার সামনে ফ্রেশ দেখায় না। এখন সেটা হচ্ছে। আগে মেগা করার সময় কোনও পার্সোনাল লাইফ ছিল না। এখন সেটা আছে। আর অন্য কাজ করার কথা তো আমরা ভাবতেই পারতাম না’’ শেয়ার করলেন তিনি।

আরও পড়ুন, প্রেম বা বিয়ে করার জন্য কলকাতায় ছেলে পাওয়া মুশকিল: পায়েল

‘নকশিকাঁথা’র চিত্রনাট্য লিখছেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। মানালিকে ধারাবাহিকের শুরুতে চরিত্র অল্প করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার পর নাকি লীনা বলেছিলেন, ‘বাকিটা স্ক্রিপ্ট পড়তে পড়তে বুঝতে পারবে’? মানালির দাবি, সত্যিই তাই। স্ক্রিপ্টে যা লেখা থাকে সেগুলো ঠিক করে ডেলিভার করলে চরিত্রটা এমনিই তৈরি হয়ে যায় বলে মনে করেন তিনি।


‘নকশিকাঁথা’র দৃশ্যে মানালি।

পরিচালক অভিমন্যু মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে মানালির সম্পর্কের খবর টলি পাড়ার অজানা নয়। কিন্তু বিয়ে কবে করছেন এই জুটি? হাসতে হাসতে মানালির উত্তর, ‘‘এই মুহূর্তে বিয়ের কোনও প্ল্যান নেই। আমরা দু’জনেই কাজ নিয়ে ব্যস্ত। তবে একসঙ্গে কাজ করতে চাই না। ও ওর মতো করে করছে। আমি আমার মতো। কেউ যেন আমাকে কখনও এটা না বলতে পারে যে, আমার কিছু তৈরি হয়েছে ওর জন্য বা ওর সিনেমা মানেই মানালিকে দেখা যায়। ফলে একসঙ্গে খুব বড় কাজ হয়তো কখনও করব না। এখনও অবধি তেমনই ভাবনা। বাকি পরে দেখা যাবে।”

আরও পড়ুন, ‘সবাই দেখা হলে বলেন, খুব ভাল অভিনয় কর, কিন্তু কেউ ডাকেন না’

দিন কয়েক আগে #মিটু বিতর্কে সরগরম ছিল ইন্ডাস্ট্রি। মানালির সঙ্গে আড্ডায় এল সে প্রসঙ্গও। ইন্ডাস্ট্রির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে মানালির মতটা একটু আলাদা। স্পষ্ট বললেন, ‘‘যারা এখন প্রটেস্ট করছে, তারা হয়তো তখন ভয় পেয়েছে। কিন্তু একজন প্রতিবাদ করল মানেই সকলে এতদিন পর কেন বলতে শুরু করল? আমার যদি কারও ব্যবহারে সমস্যা মনে হয় আমি সঙ্গে সঙ্গে সেটা বলব। সেটাকে নিয়ে প্রটেস্ট করব। এত দেরি করে কেন রিঅ্যাক্ট করব? কাউকে ছোট না করে, কাউকে দুঃখ না দিয়ে বলছি। যারা ফেস করেছেন, তাদের পাশে থেকেও বলছি, আমার সঙ্গে এমন কোনও অসভ্যতা হলে ফেসবুকে লেখার আগে অন্য কোনও স্টেপ নেব। মারব, কিছু না কিছু করব। সাত মাস আগে বিরিয়ানি খেয়ে অম্বল হয়েছিল। সে দিনই অম্বল সারাব। সাত মাস পরে আমার অম্বল হয়েছে বলে ওষুধ খাব না। সঙ্গে সঙ্গে সমাধান করব। কখনও #মিটু হলে, ফেসবুকে জানালেও সে দিনই জানাব। পাঁচ মাস পর জানাব না।”

(সেলেব্রিটি ইন্টারভিউ, সেলেব্রিটিদের লাভস্টোরি, তারকাদের বিয়ে, তারকাদের জন্মদিন থেকে স্টার কিডসদের খবর - সমস্ত সেলেব্রিটি গসিপ পড়তে চোখ রাখুন আমাদের বিনোদন বিভাগে।)