• স্রবন্তী বন্দ্যোপাধ্যায়
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

গানের মাঝে অনেক কথা বললে শ্রোতারা বিরক্ত হন: অনুপম

ন’বছর পরে নিজের প্রথম কনসার্ট ‘ভালবাসা বাকি আছে’র প্রস্তুতি আর বাংলা ছবির গান নিয়ে আনন্দবাজার ডিজিটালের কাছে অকপট অনুপম রায়।

Anupam Roy
অনুপম রায়।


‘এবার মরলে গাছ হবো আমি
সবুজ সারা গায়ে
এবার মরলে গাছ হবো আমি
দাঁড়িয়ে খালি পায়ে’



হিংসের মাঝে সবুজের সুর বোনা তাঁর ভেতরের স্বপ্ন। সেই স্বপ্নসুরের প্রকাশের নানা ধাপ মনের মধ্যে এঁকে চলেছেন তিনি। অনুপম রায়। দেখতে দেখতে ইন্ডাস্ট্রিতে ন’বছর।কল শো আর অগুনতি ছবির গানের মাঝে শহরে নিজের একক করা হয়ে ওঠেনি কখনও। যতই তিনি বলুন না কেন ‘নিজেকে নিজের মতো গুছিয়ে নিয়েছি’,নিজের কনসার্ট করা হয়ে ওঠেনি।


‘‘আমাকে আমার মতো থাকতে দাও’ দিয়ে আমার পথ চলা শুরু। প্রচুর গান নিয়ে চলা। কিন্তু এমন অনেক গান আছে যা গাওয়া হয়ে ওঠে না। সেই ‘বসন্ত এসে গেছে’আর ‘তুমি যাকে ভালবাস’গেয়ে চলি। অথচ যে গান গাওয়া হয়নি তার শ্রোতাও তো আছে। এই ভাবনা থেকেই বেশ গুছিয়ে অনেকখানি সময় নিয়ে আমার প্রথম কনসার্ট ‘ভালবাসা বাকি আছে’১৪সেপ্টেম্বর, শনিবার নজরুল মঞ্চে।’’বললেন অনুপম।
এই কনসার্ট কেবল গান গাওয়া নয়, বিশ্বপ্রকৃতি রক্ষার একটা দায়িত্ববোধ গান ভালবাসার মানুষদের মধ্যে গড়তে চাইছে।


বিষয়টা কেমন?
‘‘আসলে গাছ রক্ষা বা আরও গাছ লাগানো নিয়ে আমরা অনেক কথা বলি। লিখি। কিন্তু দেখেছি, লিখে খুব একটা কাজ হয় না। এ বার ঠিক করেছি আমার কনসার্টের যতগুলো টিকিট বিক্রি হবে ঠিক ততগুলোই গাছ লাগানোর ব্যবস্থা করা হবে,’’বিষয়টা বুঝিয়ে দিলেন অনুপম। এ জন্য তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘বনমহোৎসব’বিভাগের সঙ্গেও কথা বলেছেন। শুধু তাই নয়, এই বিষয়ে যে কোনও সংস্থা গাছ লাগানোর জন্য আগ্রহী হলে তিনি সেই কাজে উপস্থিত থাকতেও প্রস্তুত। টিকিটের বিনিময়ে একটি করে গাছ জন্ম নেবে।

 

মঞ্চে অনুপম 


গানের লিস্ট রেডি। কখন কোথায় কীহবে,সে প্ল্যান রেডি।কনসার্টে থাকছে নানা চমক। বিষয়টা পুরোপুরি খুলে বলতে চাইছেন না অনুপম, ‘‘গান আমাকে ভাল গাইতেই হবে। কিন্তু শুধু ভাল গান গাইলেই চলবে না। উপস্থাপনা একটা বড় ব্যাপার। এই অনুষ্ঠানে তিন ভাবে আমায় দেখা যাবে। আর গানের সঙ্গে অডিয়ো ভিস্যুয়াল প্রেজেন্টেশনথাকছে যা সচরাচর দেখা যায় না,’’উৎসাহী অনুপম। তাঁরসুর-জীবন প্রকাশের সবটাই থাকবে নজরুল মঞ্চের শ্রোতাদের জন্য।

 


আর একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যোগ করলেন অনুপম,‘‘এই অনুষ্ঠানে কথা কম গান বেশি। কথা নয়, আমি মানুষের সবচেয়ে কাছাকাছি থাকতে পারি যখন গান গাই।’’অনুপম বিশ্বাস করেন তাঁর শ্রোতা গান শুনতে চান। ‘‘অনেক কথা বললে মানুষ বিরক্ত হন। আর কথা বললেই যে শ্রোতার কাছাকাছি পৌঁছন যায় এমনটা নয়।’’প্রত্যুষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিয়মিত গানচর্চা করেন তিনি। আর এই কনসার্টে প্রত্যুষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দুটো গানে ফিচার করার কথা ভেবেছেন অনুপম।

আরও পড়ুন- ঠিক করেছি ছেলেদের আমার তৈরি গয়না পরাবোই: সুজয়প্রসাদ

 


‘‘পিকু' ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর খুব জনপ্রিয়। কিন্তু এ শহরে মূল ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর কখনও বাজেনি। এই কনসার্টে প্রত্যুষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরোদ সহযোগে এই প্রথম ‘পিকু’র ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর বাজবে।’’কনসার্ট নিয়ে আর একটা ভাবনা বেরিয়ে এল অনুপমের গলায়।
এর মধ্যেই চলছে প্রচুর ছবির কাজ। ‘‘সারাক্ষণ ধরে ছবির গান তৈরি করে চলেছি।এত কাজ যেমন ক্লান্তির, দুঃখের, তেমনই আনন্দেরও। পুজোতে বাইরে অনুষ্ঠান। তাই সেপ্টেম্বরে ডেডলাইন! বেশ চাপে আছি,’’উত্তেজনা অনুপমের গলায়।


দেব-পাওলি অভিনীত ‘সাঁঝবাতি’-র কাজ করছেন অনুপম। লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচালনায় এই ছবিতে ভিন্ন ধারার মিউজিক থাকছে, জানালেন অনুপম। অন্যদিকে শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় আর নন্দিতা রায়ের ‘বেলাশুরু’তো আগে থেকেই চলছিল। আছে পরমব্রত আর কোয়লের ছবি। এখন সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর সিক্যুয়েলে হাত দিয়েছেন তিনি।

 

সুরের ছন্দে


বাইশে শ্রাবণের সিক্যুয়েলের ব্রিফ কী? ‘‘ব্রিফ হচ্ছে আগের চেয়ে ভাল করতে হবে। এই সিক্যুয়েলের কাজ করতে আমি একটু ভয় পাই।আগের হিট গানের সঙ্গে তুলনা আসে খুব। আমি হিট হবে বলে তো গানটা লিখিনি। তাহলে তার চেয়েও ‘ভাল’গান লেখা...এই কারণে সিক্যুয়েল ভাল লাগে না আমার,’’চিন্তিত অনুপম। মনে করেন, বাংলা ছবির গানের নিজস্ব প্যাটার্ন তৈরি হয়ে গিয়েছে। তার যেন বদল নেই।


‘‘একটা হ্যাপি সং, একটা দুঃখের গান, আর একটা নাচের গান, ঘুরতেই থাকি আমি। আমি চাইলেও ব্রেক করতে পারিনা এই প্যাটার্ন। কারণ দৃশ্যায়নগুলো খুব কাছাকাছি। আর এত কাজ হচ্ছে,কোনও গানই সময় পাচ্ছে না...’’ক্ষোভ অনুপমের গলায়।তবে আনন্দের খবরও আছে। নন ফিল্ম গানের জায়গা আসছে আবার।

আরও পড়ুন- বলি থেকে টলি- গণেশ পুজোয় মাতলেন রেখা থেকে মিমি, দেখে নিন ছবি


‘‘আমি ভাবতেই পারিনি ‘বর্ণপরিচয়’ছবির গানের চেয়ে আমার আগমনীর গান অনেক বেশি জনপ্রিয় হবে।’’ আশার আলো অনুপমের স্বরে।
কিন্তু পিয়াকে(অনুপমের স্ত্রী) দিয়ে গাওয়াচ্ছেন না কেন? ‘‘কোনও পরিচালক তো বলেননি ওকে গাওয়ানোর কথা! পুশ করব কেন?’’
কনসার্টের আমন্ত্রণপত্র হাজির। ইন্ডাস্ট্রির সব পরিচালককে নেমন্তন্ন করার পালা।
কাজ আর গানের পথে মিশে যান তিনি।তাঁর সুরের গল্পে এখনও ‘ভালবাসা বাকি আছে’।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন