বছরকয়েক আগে জনপ্রিয় পঞ্জাবি গায়ক অমর সিংহ চমকীলাকে নিয়ে ছবি তৈরি করেন পরিচালক ইমতিয়াজ় আলি। তাঁকে ঘিরে আপত্তি ছিল সমসাময়িক বহু জনের। অমর সিংহকে এর জন্য পুলিশের সতর্কবাণীও শুনতে হয়েছিল। হনী সিংহের গানে কি অতীতের জনপ্রিয় পঞ্জাবি গায়কের ছায়া?
খবর, চমকীলার মতো প্রায় একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে হনীকে নিয়ে। ১৮ এপ্রিল পুণেতে তাঁর মঞ্চানুষ্ঠান। তার আগে গায়কের উদ্দেশে পুণে পুলিশের কড়া বার্তা, হনী সিংহ যেন এমন কোনও গান না শোনান, যেখানে ‘নেশা’ বা ‘অস্ত্র’ শব্দের ব্যবহার আছে। অথবা, সেই শব্দগুলোর বহুল প্রচার রয়েছে এমন গান শোনানোও বারণ। কেন প্রশাসনের তরফ থেকে এই ধরনের কড়া পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তার কারণও প্রকাশ্যে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, পুণে জেলা শিশুসুরক্ষা কমিটির কর্মকর্তা মঙ্গেশ যাদব পুলিশ কমিশনার অমিতেশ কুমারকে র্যাপার হনীর গান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি চিঠি লিখেছেন। তাঁর অভিযোগ, “গায়কের গান মদ, মাদক, অস্ত্র ইত্যাদিকেই যেন মহিমান্বিত করার চেষ্টা করে।”
ওই চিঠিতেই মঙ্গেশ যাদব পুলিশকে অনুরোধ করেছেন, যেন গায়কের অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু সামাজিক ভাবে দায়িত্বশীল এবং শিশুসুরক্ষা নীতি ও বিধিবদ্ধ সুরক্ষার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ থাকে। এই দিকটি পুণে প্রশাসন যেন দেখে, এটাই তাঁর অনুরোধ। এর পরেই গায়কের প্রতি কড়া বার্তা পুণে পুলিশের। এই প্রসঙ্গে ডেপুটি পুলিশ কমিশনার সময় মাণ্ডে পরে সংবাদমাধ্যমে জানান, তাঁরা এ রকম একটি চিঠি পেয়েছেন। বিষয়টি বিবেচনা করেই এর পরে হনী সিংহের মঞ্চানুষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের এ ব্যাপারে সতর্ক করেন। ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের দাবি, প্রশাসনের সতর্কবার্তা মেনে চলার আশ্বাস দিয়েছেন উদ্যোক্তারা। এ প্রসঙ্গে গায়কের তরফে এখনও কোনও বার্তা পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, হনী সিংহের অনুষ্ঠানটি ৪ এপ্রিল হওয়ার কথা ছিল। ভারী বৃষ্টির কারণে সেটি পিছিয়ে ১৮ এপ্রিল ধার্য করা হয়েছে। পুণে-আলিয়ানগর রোডে অবস্থিত মহালক্ষ্মী লনে গায়কের গান শুনতে পাবেন তাঁর অনুরাগীরা।
হনী সিংহের গানে কী এমন শব্দ বা বার্তা থাকে, যার জন্য উদ্বিগ্ন পুণে শিশুসুরক্ষা কমিটি?
মঙ্গেশ তাঁর অভিযোগপত্রে সে কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, হনীর ‘ওয়ান বটল ডাউন’, ‘চার বটল ভদকা’, ‘মানালি ট্রান্স’, ‘দিস পার্টি গেটিং হট’, ‘মাখানা’, ‘গোলিয়াঁ’ এবং ‘মিলিয়নেয়ার’-এর মতো গানে মদ, মাদক এবং ‘বন্দুক সংস্কৃতি’কে মহিমান্বিত করে। অনেক সময়েই গায়কের অনুষ্ঠানে অপ্রাপ্তবয়স্কদের (১৮ বছরের কম বয়সী) প্রবেশাধিকার থাকে। হনী যদি তাদের সামনে এই ধরনের গান করেন, তা শিশুমনে প্রভাব ফেলতে পারে।” চিঠিতে আরও জানানো হয়েছে, গায়ক ২৮ মার্চ মুম্বইয়ে তাঁর শো চলাকালীন মঞ্চে “অশ্লীল ভাষা” ব্যবহার করেছিলেন। গায়কের ‘মাই স্টোরি’ ট্যুরের দিকেই ইঙ্গিত ছিল মঙ্গেশের। ওই অনুষ্ঠানে গায়ক ‘মিলিয়নেয়ার’, ‘দেশি কলাকার’, ‘মাফিয়া মুন্ডির’ এবং ‘ডোপ শোপ’-এর মতো গান গেয়েছিলেন।
হনীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ একা মঙ্গেশ যাদবের নয়। চণ্ডীগড়ের ডঃ পণ্ডিতরাও ধারেনাভারও মহারাষ্ট্র নারী ও শিশু উন্নয়ন বিভাগে এ রকমই একটি অভিযোগ দায়ের করেন বলে খবর।