শিবু-নন্দিতা জুটির সঙ্গে এটি আপনার দ্বিতীয় কাজ। অভিজ্ঞতা কেমন?

আমার প্রথম কাজ ‘প্রাক্তন’। আমি খুবই ভাগ্যবান ওঁরা আমাকে এই চরিত্রটির জন্য ভেবেছেন। ‘প্রাক্তন’-এর পরেও অনেক ছবিই করেছি। কিন্তু প্রধান চরিত্রে আমাকে খুব একটা ভাবা হয়নি।অবশ্য এর পিছনে অন্য এক কারণও রয়েছে।

কী কারণ?

আমি মেগা করি। তাই ছবিতে কাস্ট করার ব্যাপারে সচরাচর কেউ ভাবতে পারেন না। কোথাও না কোথাও এখনও একটা ট্যাবু রয়েছে ইন্ডাস্ট্রিতে। মেগাতে পরিচিত মুখ, তাই একে ছবিতে নেওয়া যাবে না। কিন্তু শিবুদা, নন্দিতাদি অন্যভাবে ভাবেন। আর ওঁদের সঙ্গে কাজ করলে অনেক কিছু শেখা যায়। শুটিংয়ের আগে অনেকগুলো ওয়ার্কশপ হয়েছে যা আমায় খুব সাহায্য করেছে।

সিনেমায় আপনার চরিত্রটি তো খুব প্রাণবন্ত। নীল দিগন্ত গানেও আমরা দেখেছি মানালি ওরফে ‘ঝুমা’ আপন খেয়ালে উড়ে বেড়াচ্ছে। বাস্তব জীবনেও কি মানালি এমনই?

ঝুমা রবীন্দ্রভারতীতে পড়াশোনা করে।কালারফুল। খুবই কথা বলে। মানালিও খুব কথা বলতে ভালবাসে।কিন্তু মানালির থেকে ঝুমা আরও অনেক বেশি প্রাণবন্ত।মানালি কথা বলতে গেলে হয়তো দু’বার ভেবে কথা বলে, কিন্তু ঝুমা তা একেবারেই নয়।

নাইজেল এবং মানালি জুটি মন কেড়েছে দর্শকদের

আপনার আর নাইজেলের জুটি তো বেশ ভালই জমেছে। শুটিং শুরুর সময় বুঝতে পেরেছিলেন?

(হাসি) সত্যি কথা বলতে, নাইজেল এত গম্ভীর একটি ছেলে প্রথম দিন আমাকে ‘হাই’ পর্যন্ত বলেনি। তারপর আমি যখন ছবির গল্পটা শুনি তখন মনে হয়েছিল এই লোকটার সঙ্গে ভাব জমানো তো খুবই দরকার। আমি শিবুদা, নন্দিতাদিকে গিয়ে বলি, ওর সঙ্গে কী কাজ করব! ও তো কথাই বলেনা। তাই শুনে শিবুদা, নন্দিতাদি বলল, ‘ও বলে না তো কী! তুমি কথা বল।’

আরও পড়ুন- আমি নুসরত বলছি, আমার এই অপমান তুলে ধরল ‘গোত্র’

 

তারপর?

তারপর আর কী! আমি তো সটান বলে দিলাম, না ওকেই কথা বলতে হবে। তারপর শুটিং করতে করতে কী ভাবে যে এত ভাল বন্ধুত্ব হয়ে গেল মাঝে মাঝে নিজেরই অবাক লাগে। ‘গোত্র’ থেকে আমি একটা ভাল বন্ধু পেয়েছি। আর সে হল নাইজেল।

নিজেকে কোনওদিনও নাইজেলের বিপরীতে ভাবতে পেরেছিলেন?

সত্যি কথা বলতে কি, একবারেই নয়। আর শুধু আমি কেন, আমার মনে হয় না শিবুদা ও নন্দিতাদি ছাড়া এই দুঃসাহস আর কেউ দেখাত বলে। ‘প্রাক্তন’-এর কথাই ধরুন, আমার বিপরীতে বিশ্বনাথদা। সেই জুটিও কিন্তু বেশ ভাল লেগেছিল সবার।

মানালির কাছে কারও গোত্র কতটা জরুরি?

আমার কাছে গোত্র খুব একটা ম্যাটার করে না। ওই পুজোর সময় জিজ্ঞাসা করা হয়, ওইটুকুই। একটা গল্প বলি, আমার বাড়িতে এক মুসলিম মেয়ে কাজ করত। ওকে যখন নাম জিজ্ঞেস করি, বলেছিল মানু। তো একদিন কথায় কথায় জিজ্ঞেস করি তোর পুরো নাম কী রে। প্রথমে তো কিছুতেই বলবে না। পরে বলে, মানুয়ারা মোল্লা। ও আমার বাড়িতে কিন্তু পুজোটাও করত।

টিম ‘গোত্র’

‘গোত্র’ কেন দেখবে লোকে?

‘গোত্র’ আপনাকে ভাবাবে।  বার্তা দেবে। ছবির শেষে ভাললাগা নিয়ে আপনি বাড়ি ফিরবেন।

নকশি কাঁথা ধারাবাহিকেও লিডে আপনি। একই সঙ্গে মেগা এবং বড় হাউজের ছবিতে অন্যতম প্রধান চরিত্র। সময়ের অসুবিধা হয়নি?

এর পুরো কৃতিত্ব শিবুদা এবং নন্দিতাদির। এবং অবশ্যই নকশি কাঁথা-র প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর। ওরাই ডেট অ্যাডজাস্ট করেছে আমার সঙ্গে।

আরও পড়ুন- ‘রাজকে আমি চোখে হারাই’

 

এখনও পর্যন্ত তথাকথিত নেগেটিভ চরিত্রে আপনাকে দেখা যায়নি।

পরিচালকেরা আমায় নেগেটিভ রোলে নিতে চান না কেন জানিনা। তবে নেগেটিভ চরিত্র নিয়ে আমার কোনও অসুবিধা নেই। যদি মনমতো চরিত্র পাই নিশ্চয়ই করব।

ঝুমার চরিত্রে মানালি

ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে লুকোছাপা করতে খুব একটা দেখা যায়নি আপনাকে। বর্তমানে অভিমন্যুর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশ ভোকাল আপনি। দু’জনের রসায়নের ম্যাজিকটা কী?

যে কোনও সম্পর্কে বন্ধুত্ব খুবই দরকার। অভিমন্যু আর আমি খুব ভাল বন্ধু। যার সঙ্গে কথা বলতে গেলে দু’বার ভাবতে হয় না। আর সেই জন্যই বোধহয় সম্পর্কটা টিকে গেল ভাল ভাবেই।

একটা সময় তো ব্যক্তিগত জীবনেও ঝড় বয়েছিল। এখন বছরখানেক পার করে অনুশোচনা হয়?

একদমই না। আমার মনে হয় সব কিছুই লেখা রয়েছে। যা হয় ভালর জন্যই হয়। সেটাকে মেনে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আমি যদি একশো বছর বাঁচি আমার ৫০ শতাংশ ভাল এবং ৫০ শতাংশ খারাপ হবে। যা খারাপ হওয়ার ছিল আমার সঙ্গে তা হয়ে গিয়েছে। এখন শুধুই ভাল হবে।