হুসেন উস্তরার জীবন নিয়ে তৈরি বিশাল ভরদ্বাজের ছবি ‘ও রোমিয়ো’। এমনই শোনা যাচ্ছে। যদিও নির্মাতারা এমন কিছু ঘোষণা করেননি। শাহিদ কপূরকেই নাকি মুম্বইয়ের একসময়ের গ্যাংস্টারের চরিত্রে দেখা যাবে। ছবিমুক্তির ঠিক ক’দিন আগেই এ বার মুখ খুললেন মুম্বই পুলিশের প্রাক্তন ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ প্রদীপ শর্মা। জানালেন হুসেন উস্তরা কতটা নৃশংস ছিলেন।
লেখক হুসেন জ়ইদি তাঁর বই ‘মাফিয়া কুইন্স অফ মুম্বই’-তেও হুসেন উস্তরাকে নিয়ে লিখেছিলেন। গ্যাংস্টারের ‘উস্তরা’ নামের নেপথ্যের কারণও জানিয়েছিলেন। উস্তরা কথার অর্থ ক্ষুর। প্রদীপ শর্মা জানিয়েছেন, সাধারণ অপরাধীদের মতো ছিলেন না এই হুসেন উস্তরা। হত্যা করলে, সেখানেও নিজের ছাপ রাখতেন তিনি। অত্যন্ত আগ্রাসী মনোভাবের ছিলেন তিনি। মুম্বইয়ে ১৯৮০ থেকে ১৯৯০-এর মধ্যে একাধিক গ্যাং ওয়ারে উস্তরার নৃশংসতা বিশেষ ভাবে আলোচিত ছিল। সেই সময়ে তাঁর নাম শুনে ভয় কাঁপত মানুষ।
কেন এমন ভাবমূর্তি ছিল উস্তরার? কিশোরবেলা থেকেই এমন নৃশংস ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছিল তাঁর। দাড়ি কামানোর ক্ষুর দিয়ে এক ব্যক্তির উপর হামলা চালিয়েছিলেন উস্তরা। সেই ব্যক্তির কাঁধ থেকে কোমর পর্যন্ত ক্ষুর দিয়ে সুনিপুণ ভাবে ফালা করে দিয়েছিলেন হুসেন। এই ঘটনা সকলকে চমকে দিয়েছিল। এমনকি, চিকিৎসকেরাও এমন ভাবে ক্ষুর চালানো দেখে আঁতকে উঠেছিলেন। এর পর থেকে হত্যা করলেই নিজের ক্ষুরের ছাপ রাখতেন হুসেন উস্তরা।
আরও পড়ুন:
এমন ভয়াবহ অপরাধী হলেও মুম্বই পুলিশের কাজেও একাধিক বার এসেছেন হুসেন উস্তরা। প্রদীপ শর্মা জানান, পুলিশের হয়ে চরের কাজও করতেন উস্তরা। গোয়েন্দা দফতরকে বহু জরুরি তথ্যের জোগান দিতেন বলে তাঁকে মুম্বই পুলিশ বেশ গুরুত্ব দিত। বিভিন্ন মামলায় সাহায্য করতেন উস্তরা। বিশেষত দাউদ ইব্রাহিম সম্পর্কিত বেশ কিছু তথ্য মিলেছিল তাঁর কাছ থেকে। তবে পুলিশের সঙ্গে কথা বলার সময়েও উস্তরার মেজাজ থাকত সপ্তমে। কখনও শান্ত ভাবে কথা বলতে পারতেন না। সব সময়েই উঁচু স্বরে ভয় ধরানো ভঙ্গিতে নাকি কথা বলতেন তিনি।
বিশাল পরিচালিত এই ছবিতে শাহিদ ছা়ড়াও অভিনয় করেছেন বিক্রান্ত ম্যাসি, তৃপ্তি ডিমরী, তমন্না ভাটিয়া, দিশা পটানী। ১৩ ফেব্রুয়ারি ছবিটি মুক্তি পাবে।