জীবনে নতুন মোড়ে, নতুন দঙ্গলে জাইরা ওয়াসিম। তাঁর অকালঅবসর নিয়ে শোরগোল সোশ্যাল মিডিয়ায়। কাশ্মীরিকন্যার বিদায়বার্তায় দ্বিধাবিভক্ত নেটিজেনরা। কারও কাছে তিনি নন্দিত। অনেকের কাছেই আবার নিন্দিত অনস্ক্রিন ‘ফোগতকন্যা’।

জাইরা জানিয়েছেন,তিনি নিজের পরিচয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না। যা করতে চাইছিলেন না, সেটাই করতে হচ্ছিল। বলিউডেঅভিনয় করতে গিয়ে তাঁর ‘মানসিক শান্তি’, ‘ইমান’ ও ‘ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট’ হচ্ছিল।কাজের মাঝেই চলে আসছিল ধর্ম।তাই ‘ইমান’ অর্থাৎ বিশ্বাস বজায় রাখতেই অভিনয়কে বিদায় জানাচ্ছেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই যাবতীয় বিতর্ক। অনেকেই বলেছেন তিনি যা করেছেন এবংযে কারণে করেছেন, তা একান্তই ব্যক্তিগত। এমন কারণের জন্য কেউ অবসর নিতেই পারেন বলে তাঁদের মত। শুভেচ্ছা জানিয়ে টুইট করেছেন আমির খান। মিস্টার পারফেকশনিস্টের হাত ধরেই বলিউডে জাইরার ডেবিউ ২০১৬ সালে। প্রথম ছবি দঙ্গল-এ সেরা সহ-অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কার। পরের ছবি‘সিক্রেট সুপারস্টার’। সে ছবিতেও বাজিমাত আমির-জাইরার রসায়ন। ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে সেরা সহ-অভিনেত্রী বিভাগে সমালোচকদের পছন্দ ছিলেন জাইরা, পর্দার গোপন তারকা ইনসিয়া। সামনেই মুক্তি পাবে তাঁর তৃতীয় ছবি ‘দ্য স্কাই ইজ পিঙ্ক’। জাইরা সেখানে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন প্রিয়ঙ্কা চোপড়া, ফারহান আখতারের সঙ্গে।

চলচ্চিত্র সমালোচকদের মতে, জাইরা বলিউডের সেরা উঠতি প্রতিভা। কিন্তু সব সম্ভাবনায় জল ঢেলে জাইরা জানালেন, তিনি কোনওদিন জনগণের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতে চাননি। নতুন প্রজন্মের রোল মডেল হওয়ারকোনও নাকি তাঁর ইচ্ছেই ছিল না। ইন্ডাস্ট্রি থেকে অনেক সমর্থন ও ভালবাসা পেয়েছেন। কিন্তু এই পথে তাঁর ‘ইমান’ নষ্ট হচ্ছিল। ধর্মের পথ থেকে তিনি বিচ্যুত হয়ে পড়ছিলেন। না বুঝে চলতে গিয়ে ধর্মের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বিপন্ন হয়ে পড়েছিল। সঙ্কীর্ণ জাগতিক মোহ তাঁকে তৃপ্ত করছিল না। অকাল বিদায়ের কারণ হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বার্তাই দিয়েছেন জাইরা।

আরও পড়ুন:  ২৭ লক্ষ টাকার জুতো! চমকে গেলেন ঋষি কপূরও

আরও পড়ুন: বিমানবন্দরে এ বার আলোকচিত্রীকে গাড়িতে ডাকলেন দীপিকা!

 

কিন্তু জাইরার এমন ‘বার্তা’য় অনেকেই অখুশি। সাধারণ নেটিজেনদের পাশাপাশি সরব সেলিব্রিটিরাও। যেমন অভিনেত্রী রবিনা ট্যান্ডন। তিনি তো সরাসরি ‘অকৃতজ্ঞ’ই বলেছেন জাইরাকে। রবিনার কথায়,‘‘মাত্র দু’টি ছবি-খ্যাত জাইরা ইন্ডাস্ট্রির প্রতি অকৃতজ্ঞ হলে, ইন্ডাস্ট্রির কিচ্ছু এসে যায় না। কিন্তু যে জায়গা তাঁকে সবকিছু দিয়েছে, তাকে সমধুর ভাবে বিদায় জানাতে পারতেন। বিদায়ের কারণ বলতে গিয়ে নিজের পিছিয়ে পড়া মনকে সামনে না আনলেই পারতেন জাইরা।’’তাঁর মতে, এটা জাইরার‘পুরনো চিন্তাভাবনা’ যা নিজের কাছেই রাখা উচিত ছিল বলে মনে করেন রবিনা।

দঙ্গল ছবিতে আমির খানের সঙ্গে জাইরা।

তবে এভাবে ভাবতে নারাজ রবিনার অনেক সহকর্মীই । জাইরার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন অনুপম খের, জাভেদ আখতার, স্বরা ভাস্কর-সহ আরও অনেকে। একইভাবে, কাশ্মীরের রাজনীতিক ওমর আবদুল্লার বক্তব্য, ‘‘অবসরের সিদ্ধান্ত জাইরার ব্যক্তিগত। তাঁর ভবিষ্যতের জন্য শুভেচ্ছা।’’ নেটিজেনদের একাংশ মনে করছেন, মানসিক শান্তি বিঘ্নিত হলেকেউ সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন। তা নিয়ে অযথা জলঘোলা করা অর্থহীন।

যদিও তাঁর এই সিদ্ধান্তের কারণের তীব্র সমালোচনা করে অনেকেই জাইরাকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, শাহরুখ-সলমন-আমির তিন জনই মুসলিম। নায়িকাদের মধ্যেও অনেকেই ইসলাম ধর্মাবলম্বী। ওই আলোচনায় উঠে এসেছে ওয়াহিদা রহমান, মীনা কুমারী, মধুবালা, নার্গিস, শাবানা আজমি, পরভিন ববি, জিনত আমন-সহ আরও অনেকের নাম।

তবে এত বিতর্কের মধ্যে না ঢুকে অনেক টুইটারেত্তি জাইরার অল্প বয়সের কথাও বলেছেন। তাঁদের মতে, এই বয়সে পর্দায় আসার মাশুল যথেষ্ট দিতে হয়েছে জাইরাকে। বিতর্ক তাঁর সঙ্গী ছিল আগাগোড়া। গত বছরই জাইরা জানিয়েছিলেন, তিনি হতাশার শিকার। নার্ভাস ব্রেক ডাউনের কবলে আত্মঘাতী হওয়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি। তার আগে জাইরা বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছিলেন জম্মু কাশ্মীরের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর। তীব্র ট্রোলিংয়ের মুখে জাইরা বাধ্য হয়েছিলেন ফেসবুকে তাঁর ধন্যবাদসূচক পোস্ট ডিলিট করতে। এ বার মুছে ফেললেন অভিনয় জগতে বেড়ে ওঠার সম্ভাবনা।