কহানি টু-এর বিদ্যা বালনের বেণুকাকাকে মনে পড়ে? কিংবা অঞ্জন দত্তর ‘ব্যোমকেশ’-এর মেস ম্যানেজার? দীর্ঘদিন জামশেদপুরে থাকতেন। ২০০২-তে পাকাপাকি ভাবে কলকাতায় ফিরে প্রথম অভিনয় অরুণ মুখোপাধ্যায়ের নির্দেশনায় চেতনা-র নাটক ‘নির্ণয়’-এ। তিনি প্রদীপ চক্রবর্তী।
বিজন ভট্টাচার্য তাঁর নিজের লেখা নাটক ‘জবানবন্দি’তে ৭৫ বছরের এক চাষার ভুমিকায় এই প্রদীপের অভিনয় দেখে যখন মুগ্ধ হন, তখন তাঁর বয়স ২২ কি ২৩।
ভদ্রলোক এককালে দূরদর্শনের টেলিনাটকে তৃপ্তি মিত্রের বিপরীতেও অভিনয় করেছেন। বিজনের সঙ্গে গুরু মানেন মোহিত চট্টোপাধ্যায়কে।
এ শহরে প্রথম বারের জন্য বাংলা থিয়েটারে নির্দেশনায় এলেন তিনি। দেবাশিস মজুমদারের থ্রিলার নাটক ‘ছায়াবৃতা’র গায়ে লেগে ‘মেলশভিনিজম’এর থাবা।
খুন দিয়ে নাটকের শুরু, শুধু সংলাপ আর কাহিনির গড়নে টান-টান বাঁক। এ-মোড়ে ও-মোড়ে সন্দেহের বুদবুদ। আবহসংগীতের (গৌতম ঘোষ) চোরা গোঙানিতে আতঙ্কের কামড় বা়ড়ে। সেটে (নীল ও কৌশিক) ছড়ানো ছেটানো অদ্ভুত জ্যামিতিক আকারের খোঁচা-খোঁচা আসবাবগুলোকে কখনও মনে হয় ধারালো দাঁত আর পিছনে ঝোলানো দড়িগুলো যেন হয়ে যায় হামলে পড়া ফাঁদ। এ নাটক অনেকটা যেন ব্রাত্য বসুর ‘চতুষ্কোণ’-কে মনে করায়। ‘ছায়াবৃতা’র প্রযোজনায় ‘নিভা আর্টস’ ও ‘ছত্রছায়া’।
অভিনয়ে রজত গঙ্গোপাধ্যায়, দেবদূত ঘোষ, অনিন্দিতা সরকার, পাপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়, শান্তনু নাথ প্রমুখ। প্রথম শো ২৪ মার্চ, তপন থিয়েটারে। সন্ধে সাড়ে ছ’টায়।