যাঁর পদত্যাগ ঘিরে ৪ মে থেকে লাগাতার আন্দোলন ইমপা অফিসে, সংগঠনের সেই সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত অনুপস্থিত। উপস্থিত ছিলেন না তাঁর কমিটির বাকি সদস্যেরাও। বৃহস্পতিবার তাঁকে ছাড়াই সংগঠনের চার কমিটির সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করলেন বিরোধীপক্ষের প্রযোজকেরা। এ দিনও তাঁরা সভাপতির পদত্যাগের বিষয়টিতেই অনড়। আনন্দবাজার ডট কম-কে এ কথা জানিয়েছেন পরিবেশক, হলমালিক শতদীপ সাহা। এ দিনের বৈঠকের বাড়তি আকর্ষণ পরিচালক-প্রযোজক গৌতম ঘোষ।
কেন কোনও তথাকথিত খ্যাতনামীদের বিরোধীপক্ষের প্রযোজকদের পাশে দেখা যাচ্ছে না? এই নিয়ে চাপা আলোচনা চলছিলই। এ দিন গৌতমবাবুর উপস্থিতি একটু হলেও কি সেই আলোচনায় জল ঢালল? বৈঠকের পর গৌতমবাবু সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তাঁরও অভিযোগ, “সংগঠনের পরিবেশ আগের থেকে অনেকটা বদলে গিয়েছে। সেই জন্যই অনেক দিন হয়ে গেল ইমপায় আসি না। বাংলা ছবি বানানোও প্রায় ছেড়ে দিয়েছি। কারণ, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে নানা বিষয়ে সারা ক্ষণ অশান্তি।” তাঁর আক্ষেপ, একটা সময় ভিন্রাজ্যের প্রযোজক-পরিচালকেরা এখানে কাজ করার জন্য মুখিয়ে থাকতেন। ক্রমাগত অশান্তি দেখতে দেখতে তাঁরাও পিছু হটেছেন।
বিরোধীপক্ষের প্রযোজকদের অভিযোগ, সংগঠনের গায়ে রাজনীতির রং। ইমপা যেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখাপেক্ষী হয়ে উঠেছিল। পিয়ার পদত্যাগ চাওয়ার পিছনে এটিও একটি অন্যতম কারণ বলে দাবি তাঁদের। এ প্রসঙ্গে গৌতমবাবুর বক্তব্য, “বিনোদনদুনিয়া যত স্বচ্ছ থাকবে, ততই তার জন্য মঙ্গল। কোনও সংগঠনের গায়েই রাজনৈতিক রং বা তকমা লাগতে দেওয়া উচিত নয়।” পাশাপাশি এ-ও জানিয়েছেন, পিয়ার বিরুদ্ধে যা যা অভিযোগ উঠেছে, তিনি শুনেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে, স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সভাপতি খোঁজা উচিত বলে মনে করেন তিনি। এ ছাড়া তাঁর আরও অনুযোগ, “প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে শুনেছি, এখন নাকি প্রযোজকদের তাঁদের ছবির বাজেট আগাম জানাতে হয়। যদি সত্যিই এ রকম কিছু নিয়ম হয়ে থাকে, তা হলে সেটা একেবারেই কাম্য নয়। প্রযোজকেরা কত টাকায় ছবি বানাবেন, এই স্বাধীনতা তাঁদের থাকা উচিত।”
আরও পড়ুন:
যাঁর অনুপস্থিতিতে এত আলোচনা, সেই পিয়া কী বলছেন? কেনই বা অনুপস্থিত তিনি এবং তাঁর কমিটি? জানতে যোগাযোগ করেছিল আনন্দবাজার ডট কম। পিয়া জানান, তিনি অসুস্থ। তাই এ দিনের মিটিংয়ে যেতে পারেননি। তবে কমিটির বাকি সদস্যরা কেন যাননি, সে বিষয়ে তিনি ওয়াকিবহাল নন। গৌতমবাবুর সব বক্তব্যও তিনি শোনেন। জবাবে বলেন, “গৌতমদা যে ঘনঘন ইমপা-য় আসতেন এমন তো নয়! তবে কোনও অনুষ্ঠান থাকলে দাদাকে আমন্ত্রণ জানানো হত। দাদাও এসেছেন।” একই ভাবে তিনি জানান, যে প্রযোজকেরা ৩০ লক্ষ টাকার বাজেটের ছবি বানাবেন, তাঁদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ফেডারেশন। তার জন্য তাঁদের ছবির বাজেটের একটি খসড়া জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে। এখানে ইমপার কোনও ভূমিকাই নেই। তিনি বলেন, “গৌতমদার হয়তো কোথাও বুঝতে ভুল হয়েছে।”
রাজনীতিমুক্ত সংগঠন প্রসঙ্গে জবাব দিয়ে গিয়ে ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেননি পিয়া। তিনি সাফ জানান, আগে সংগঠনের অফিসে কোনও দলীয় পতাকা থাকত না। ৪ মে-র পর থেকে বিজেপি-র পতাকা ঝুলছে। একই সঙ্গে অফিসের অন্দরে গেরুয়া আবির খেলা হয়েছে। পিয়ার কথায়, “প্রযোজকদের অভাব-অভিযোগ নিয়ে বাম সরকার, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের দ্বারস্থ হয়েছি। নতুন বিজেপি সরকারকেও স্বাগত। আগামী দিনে সংগঠনের প্রয়োজনে তাদেরকেও সমস্যার কথা জানাব।”