পর্দায় তিনি ‘ধুরন্ধর’। বাস্তবে তারকা হয়েও অন্যায় করে পার পাচ্ছেন কই? একদিকে ‘ধুরন্ধর ২-এর সাফল্য। শুভেচ্ছায় ভাসছেন রণবীর সিংহ। খবর, একই সময়ে ফের কর্নাটক হাই কোর্ট থেকে তলব অভিনেতাকে। আদালতে প্রশান্ত মেথালের অভিযোগ, ‘কান্তারা’-কাণ্ডে সঠিক ভাবে ক্ষমা চাননি রণবীর। আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন বেশি। ২৩ এপ্রিল ফের এই অভিযোগের শুনানি।
এক পুরস্কারমঞ্চে ‘কান্তারা’ ছবির দেবী চামুণ্ডাকে ‘মেয়ে ভূত’ বলে উল্লেখ। দেবীর মতো জিভ বের করে অভিনেতা ঋষভ শেট্টীকে কটাক্ষ। বিষয়টি বাকিরা হেসে উড়িয়ে দিলেও ভাল চোখে দেখেননি কন্নড়ভাষীরা। তাঁদের দেবী, তাঁদের ধর্ম এবং তাঁদের ছবির পরিচালককে অপমান করেছেন— এই অভিযোগে বেঙ্গালুরুতে রণবীরের বিরুদ্ধে প্রথম লিখিত অভিযোগ এবং মামলা দায়ের। সেই জল এত দূর গড়াবে কে জানত?
আত্মপক্ষ সমর্থন করে এর পরেই রণবীর কর্নাটক হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালতকে তিনি জানান, কন্নড় ভাষাভাষীর ধর্মে আঘাত করতে চাননি। ঋষভের অভিনয়ের প্রশংসা করতে গিয়েই দেবীর ‘অনুকরণ’ করেছেন। আদালত তাঁকে এর পরেই নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে ভর্ৎসনা করে, খ্যাতনামী হয়েছেন বলেই যা খুশি করতে পারেন না রণবীর। বরং, তাঁর উপরে দায়িত্ব বেশি। কারণ, তাঁকে অনুসরণ করে এই প্রজন্ম। তার পরেও বিতর্ক চলছেই। অভিযোগকারীর দাবি, রণবীরের ক্ষমা চাওয়ার মধ্যে আন্তরিকতা ছিল না। বরং, প্রচ্ছন্ন গর্ব মিশে ছিল।
আরও পড়ুন:
এই জায়গা থেকেই আদালত ফের তলব করেছে অভিনেতাকে। খবর, অভিনেতার পক্ষে আইনজীবী সজন পুভায়া আদালতকে জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই অনুশোচনা প্রকাশ করে একটি হলফনামা দাখিল করেছেন তাঁর মক্কেল। আরও যোগ করেছেন, প্রয়োজনে অভিনেতা একটি সংশোধিত সংস্করণ জমা দিতেও প্রস্তুত। হলফনামায় সিংহের বক্তব্য, তিনি সেই মুহূর্তে বুঝতে পারেননি, তাঁর মন্তব্য দেবীর ভক্তদের অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে। অভিনেতার দাবি, তিনি সমস্ত ধর্ম ও ঐতিহ্যকে সম্মান করেন।
আইনজীবী আদালতকে আরও জানিয়েছেন, রণবীর দেবীর মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করতেও চান। এত বড় ভুলের নেপথ্য কারণ হিসাবে অভিনেতার দাবি, তিনি মুম্বইয়ের এক সিন্ধি পরিবারে বড় হয়েছেন। তিনি কন্নড় ভাষাভাষীদের ধর্ম, ভাবাবেগ সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞাত।