তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতূহল থাকে অনুরাগীদের। তেমনই তাঁদের বিয়ে নিয়েও থাকে আগ্রহ। তারকাদের বিয়েতে এলাহি আয়োজন, মধুচন্দ্রিমায় ব্যয়বহুল জায়গায় ভ্রমণেরই চল রয়েছে। তবে চিরাচরিত ট্রেন্ডে গা ভাসালেন না বিজয় দেবরকোন্ডা ও রশ্মিকা মন্দানা। বিয়ের পরে মধুচন্দ্রিমাতেও প্রচলিত নিয়মের বিপরীতে হাঁটলেন তাঁরা। ‘হানিমুন’-এর বদলে বেছে নিলেন ‘বাডিমুন’।
আরও পড়ুন:
সাধারণত, ভারতীয় বিয়ে মানে তিন থেকে পাঁচ দিনের বিষয়। সেই সঙ্গে আত্মীয়-পরিজনের সমাগম। তাই ক’টা দিন নিভৃতে, একান্তে সময় কাটাতে মধুচন্দ্রিমায় যান নবদম্পতি। বিজয়-রশ্মিকাও বিয়েতে এলাহি আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু তার পরেও একা একা মধুচন্দ্রিমায় না গিয়ে তাঁরা গেলেন ‘বাডিমুন’-এ। তাইল্যান্ডের কো সামুই দ্বীপে ক’টা দিন ছুটি কাটাতে তাঁরা। সঙ্গে ছিলেন বিজয় ও রশ্মিকার ‘বাডি’ অর্থাৎ বন্ধুরা।
এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী রশ্মিকা বলেন, ‘‘আমাদের কাছে ঘুরতে যাওয়া মানে, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে স্মৃতি তৈরি করা। যেখানে সকলে একসঙ্গে সময় কাটাতে পারব। ঘুরতে যাব, খেলব, পুলে আনন্দ করব, একসঙ্গে সবাই সূর্যাস্ত দেখব, নানা ধরনের খাবার খাব। যেখানে কোনও চিন্তাভাবনা থাকবে না।’’ বিজয়ও এক সময় জানিয়েছিলেন, তিনি একা একা থাকার মানুষ নন। চিরকাল লোকজন নিয়ে থাকতেই ভালবাসেন।
চোখ মেললেই প্রকৃতি, সাগরের হাতছানি। নীল সাগরের পাশাপাশি মাথা তুলে দাঁড়িয়ে সবুজ পাহাড়। তারই কোলে ছবির মতো আস্তানা, যেখানে সব সময় মেলে সাগরের সান্নিধ্য। সাক্ষী থাকা যায় মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্তের। তাইল্যান্ডের কো সামুই দ্বীপে এমনই এক ঠিকানা অবসর যাপনের জন্য বেছে নিয়েছেন নব দম্পতি বিজয় দেবরকোন্ডা এবং রশ্মিকা মন্দানা।
পাহাড়ের কোলে সাজানো ভিলা। ছবি:সংগৃহীত।
বড় বড় কাচের জানলা, শৌখিন দরজা। ঘরময় বয়ে যায় নোনা বাতাস। প্রকৃতি কী ভাবে অন্দরসজ্জায় মিলে যেতে পারে— এই জায়গা তার সুন্দর উদাহরণ। প্রকৃতির আঙিনায় রয়েছে পিৎজ়া তৈরির অভেন। সেখান থেকেই টাটকা পিৎজ়া তৈরি হচ্ছে অতিথিদের জন্য। এমন পরিবেশ জমিয়ে উপভোগ করছেন যুগল। দম্পতির প্রকাশ করা ভিডিয়োর ঝলকে দেখা গিয়েছে পিৎজ়া তৈরি করছেন বিজয়। নিজে হাতে এনে দিচ্ছেন রশ্মিকাকে।
আটটি ঘর রয়েছে এখানে। আছে ঘর সংলগ্ন বাগিচা। সব জায়গা থেকেই সমুদ্রের দেখা মেলে। সুইমিং পুল, খেলার জায়গা, সমুদ্রের ধারে আরামদায়ক বসার জায়গা।ঘরের সঙ্গে আলাদা করেও রয়েছে সুইমিং পুল।
সামনেই সমুদ্র। বসার জায়গাটিও সাজানো-গোছানো। ছবি:সংগৃহীত।
আস্তানার রূপ বদলে যায় সূর্যাস্তে। আকাশ রাঙিয়ে ডুব দেয় সূর্য। তার পরেই জ্বলে ওঠে আলো। আলো-আঁধারির খেলায় জায়গাটি হয়ে ওঠে মোহময়।
আলো জ্বলে উঠলে বদলে যায় জায়গাটির সৌন্দর্য। ছবি:সংগৃহীত।
অবসর বিনোদনের সমস্ত ব্যবস্থাই মজুত এখানে। রয়েছে বই পড়ার জায়গা, স্পা, জিম। কাচের দেওয়াল ঘেরা জিমটি একবারে সমুদ্রের গা ঘেঁষে তৈরি।
সাগরের পাড়েই ‘ক্যান্ডেললাইট ডিনার’-এর আয়োজনও থাকে। একাধিক রেস্তরাঁ রয়েছে। তথ্য বলছে, এই ভিলায় এক রাতে থাকার খরচ মোটামুটি ২.৩ লক্ষ টাকা।