পুজো আসছে। ২০১০ সালে এরকমই একটা সময়ে‘আমাকে আমার মতো থাকতে দাও’ আর ‘বেঁচে থাকার গান’ ঝড় তুলেছিল বাঙালির মনে। সেই পুজোয় রিলিজ করা সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘অটোগ্রাফ’ পরিচয় করিয়েছিল অনুপম রায়ের সঙ্গে। সুমন চট্টোপাধ্যায়, নচিকেতা, অঞ্জন দত্তের পর বাঙালির আলাপ হয়েছিল এমন এক নতুন সুরকার-গায়কের সঙ্গে যিনি দৈনন্দিন জীবন নিয়ে গান বেঁধে মনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম তরঙ্গগুলোকে আবার নাড়া দিয়েছিলেন।
দেখতে দেখতে ন’টা বছর পেরিয়েছে। গান বেঁধে, সুর দিয়ে জাতীয় পুরস্কার সমেত নানা পুরস্কার জিতেছেন অনুপম। কিন্তু অনুপম থেকে গিয়েছিলেন এক প্রকার অধরাই। মানে কোনও এক খামখেয়ালি সন্ধেয় প্রিয় গায়কের সঙ্গে একান্তে মোলাকাত হয়নি তাঁর অনুরাগীদের। তাঁর সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, শুধু তাঁরই গান শোনার সুযোগ অবশেষে মিলল। সম্প্রতি এক সন্ধ্যায় নজরুল মঞ্চ মাতালেন ‘একক অনুপম’। না, একেবারে এক বললেন ভুল হবে। ছিলেন রূপঙ্কর, সোমলতারাও, তবে তাঁরা আজ দর্শকাসনে।কারণ এই সন্ধেটা ছিল শুধুই অনুপমের।

আরও পড়ুন-দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পাচ্ছেন অমিতাভ বচ্চন

 

আরও পড়ুন- ‘এখনও সম্মান করি নেহাকে’, বিচ্ছেদের এক বছর পর অকপট হিমাংশ কোহালি

 

বৈঠকখানার আদলে মঞ্চের সেটে গিটার হাতে গান ধরলেন অনুপম। তিন ঘণ্টার অনুষ্ঠান—‘শাজাহান রিজেন্সি’র ‘ঘুরে তাকাও’, হেমলক সোসাইটির ‘আমার মতে’ দিয়ে আলাপ জমতে জমতে অনুষ্ঠান যখন ঝালায় পৌঁছল, তখন অনুপমের সুরে অডিটোরিয়াম উদ্বেল। মেজাজ বুঝে ভাল লাগে সোমকের সঞ্চালনা।অনুষ্ঠানের অন্যতম বড় পাওয়া ছিল অনুপমের শিক্ষাগুরু প্রত্যুষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরোদের সুর। এই প্রথম এক মঞ্চে বাজালেন গুরু ও শিষ্য। আর ভরা নজরুল মঞ্চ শুনলো‘পিকু’ছবির থিম মিউজিক। দর্শক আবেগে আচ্ছন্ন। কারও মুখে কথা নেই। মোবাইল বেজে ওঠে না। একের পর এক সুর এসে ধাক্কা দিয়ে যায় তাদের ভাবনায়। এই সুরের নাম অনুপম রায়। আর সেই কথার নামও অনুপম রায়। যিনি বইয়ের ভেতর হারিয়ে গিয়ে অক্ষরের আলমারিতে সুর ভরে রাখেন। তাঁর গানের প্রেম অবিরত। দর্শকের মুগ্ধতা বাড়ে। আলাদা করে যন্ত্রের অনুষঙ্গের ব্যবহারে সেই এককে বুঝিয়ে দেন তিনি সঙ্গীতশিল্পী আর যন্ত্রানুষঙ্গের মর্যাদা। যেমন মনে থেকে যায় সুরে সুরে, ‘তুমি অন্য কারও সঙ্গে বেঁধো ঘর’। কথা থাক...সুরের মধ্যে যা অনুপম তাই সে দিনের এককের সম্পদ।
শহরে সন্ধে ভরাট হয়। রাত পাশে আসতে চায়।আর দর্শকের মন খারাপের মন অনুপমের গানে তার কাঙ্ক্ষিতকে খুঁজে বেড়ায়। অনুপম যেন সেদিনের সন্ধ্যায় তাঁর সব দর্শকের মায়ার চাবি চুরি করেন।