ছবিতে আর গান গাইবেন না। ঘোষণা করেছেন অরিজিৎ সিংহ। শাহরুখ খান থেকে রণবীর কপূর, এঁদের নেপথ্যকণ্ঠ হিসাবে আর শোনা যাবে না অরিজিৎকে। ভেঙে পড়েছেন গায়কের ভক্তেরা। অনেকে এর ইতিবাচক দিক দেখছেন। তাঁদের বিশ্বাস, এ বার মৌলিক গানে আরও বেশি করে পাওয়া যাবে অরিজিৎকে। তবে বলিউডে ‘প্লেব্যাক’ গাওয়া থেকে অরিজিৎ অবসর নেওয়ায়, শুধুই কি ক্ষতি হয়েছে? বলিউডের গানের একনিষ্ঠ শ্রোতাদের অবশ্য মত, বেশ কয়েকজন গায়ক অরিজিতের এই ঘোষণায় লাভবান হতে চলেছেন।
২০১১ সালের ছবি ‘মার্ডার ২’-এর গানে অরিজিৎ প্রথম কণ্ঠ দিয়েছিলেন। গানটির নাম ছিল ‘ফির মহব্বত’। গানটি আজও জনপ্রিয়। সেই সফরে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি অরিজিৎকে। ২০১২ সালে ‘আশিকি ২’ ছবিতে আদিত্য রায় কপূরের নেপথ্যকণ্ঠে ছিলেন অরিজিৎ। প্রতিটি গান ‘ব্লকবাস্টার হিট্’ হয়। এর পরে অসংখ্য সফল গান গেয়েছেন তিনি।
অরিজিতের সফর শুরু হওয়ার পরে ক্রমশ বলিউডে সফল গানের সংখ্যা কমতে থাকে বেশ কয়েক জন গায়কের। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মোহিত চৌহানও। ২০১১ সালের ছবি ‘রকস্টার’-এ তাঁর গাওয়া প্রতিটি গানই প্রায় সাড়া ফেলেছিল। তা ছাড়াও ‘তুম সে হি’, ‘পি লু’, ‘মসাকলি’, ‘তুনে জো না কহাঁ’, ‘তি আমো’-র মতো গান গেয়েছেন তিনি। কিন্তু ধীরে ধীরে কমেছে তাঁর গানের সংখ্যা। সম্প্রতি তাঁর গাওয়া সফল গানের মধ্যে শোনা গিয়েছে ‘অমর সিংহ চমকিলা’ ছবির গান ‘ইশ্ক মিটায়ে’। তাই মনে করা হচ্ছে, অরিজিতের ‘অবসর’-এর ফলে মোহিতের প্রত্যাবর্তন হতেও পারে।
সাম্প্রতিক কালে বলিউডের ‘প্লেব্যাক’-এ প্রত্যাবর্তনের ধারা দেখা গিয়েছে। পর পর বেশ কিছু গান গেয়েছেন সোনু নিগম। যেমন ‘পরদেসিয়া’, ‘পাপা মেরি জান’। ‘বর্ডার ২’ ছবিতে তাঁর গাওয়া ‘ঘর কব আওগে’-ও সা়ড়া ফেলেছে। তাঁরই সমকালীন আর এক শিল্পী শান। ‘ব্যাটল অফ গলওয়ান’ ও ‘ও রোমিয়ো’ ছবিতে শানের গান রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
অরিজিতের প্রায় সমসাময়িক আর এক গায়ক পাপন। ২০২৫-এর ছবি ‘মেট্রো ইন দিনো’-তে তাঁর একাধিক গান ‘কায়েদে সে’, ‘ইয়াদ’ সফল। তাই শ্রোতাদের অনুমান, এ বার তাঁর গানও শোনা যাবে তুলনামূলক বেশি।
তবে অরিজিৎ ‘প্লেব্যাক’ সঙ্গীত ছেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি যাঁরা লাভবান হতে পারেন, তাঁরা হলেন বিশাল মিশ্র, জ়ুবিন নটিয়াল, আরমান মালিক।
আরও পড়ুন:
একই সঙ্গে গান গাইতে ও বাঁধতে পারেন বিশাল মিশ্র। তাঁর গাওয়া ‘কবীর সিংহ’ ছবির গান ‘ক্যায়সে হুয়া’, ‘অ্যানিম্যাল’ ছবির গান ‘পেহলি ভি ম্যায়’ ঝড়ের গতিতে সফল হয়েছিল। ‘সইয়ারা’ ছবিতেও তাঁর ‘তুম হো তো’ গানটি শ্রোতাদের মুখে মুখে ফিরেছে। এমনকি অরিজিতের গাওয়া ‘ধুন’ও সেই জায়গায় পৌঁছতে পারেনি। মঞ্চের অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও গত কয়েক বছরে অরিজিতের পরেই যে নামটা ভাবা হয়েছে সেটা হল— বিশাল মিশ্র। ‘ধুরন্ধর’-এও রয়েছে তাঁর গাওয়া গান ‘যোগিয়া মাহিয়া’।
এর পরেই উঠে আসে জ়ুবিন নটিয়ালের নাম। ২০১৪ সালে ‘সোনালি কেব্ল’ নামে একটি ছবিতে প্রথম ‘প্লেব্যাক’ তাঁর। ‘শেরশাহ’ ছবির সাড়া ফেলে দেওয়া ‘রাতাঁ লম্বিয়াঁ’ তাঁরই গাওয়া। ‘কবীর সিংহ’ ছবির ‘তুঝে কিতনা চাহেঁ অউর’ এখন বহুশ্রুত গান। ‘ওকে জানু’ ছবিতে ‘হম্মা’ গানটিও নতুন করে গেয়ে তিনিই ফের শ্রোতাদের পছন্দের তালিকায় এনেছেন। সম্প্রতি ‘সইয়ারা’ ছবিতে তাঁর গাওয়া ‘বরবাদ’ গানটি বিশেষ ভাবে সাড়া ফেলে। শ্রোতাদের একাংশ অরিজিতের গায়কির সঙ্গে তাঁর তুলনা টেনেছেন। বিশেষত ‘বরবাদ’ গানটি বিপুল সা়ড়া ফেলায়, মনে করা হচ্ছে এ বার তাঁর ভাণ্ডারেও গানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।
‘এমএস ধোনি’ ছবির ‘যব তক’, ‘বার বার দেখো’ ছবির ‘সও আসমানোঁ’ গান তাঁর গাওয়া। আরমান মালিকও এই তালিকায় অন্যতম নাম। তাঁর ভাই অমাল মালিকও বলিউডের গীতিকার ও সুরকার। বহু সফল গান রয়েছে আরমানের ঝুলিতে। ২০০৭ সালে প্রথম ‘তারে জ়মিন পর’ ছবিতে ‘বাম বাম বোলে’ গানটি গেয়েছিলেন আরমান। ‘ম্যায় রহুঁ ইয়া না রহুঁ’, ‘পহেলা পেয়ার’, ‘হুয়া হ্যায় আজ পহেলি বার’, ‘বেসবরিয়া’, ‘দিল মে ছুপা লুঙ্গা’, ‘সব তেরা’র মতো অসংখ্য সফল গান তাঁর ভাঁড়ারে। এ বার তাঁর পরিচিতি আরও প্রকট হবে বলে অনুমান অনুরাগীদের।
ছবিতে গান গাওয়া থেকে অবসর নিয়েছেন অরিজিৎ। তবে আগামী দিনে তিনি ছবিতে গান বাঁধবেন, সেই আশায় রয়েছেন অনুরাগীরা। ভবিষ্যতে উল্লিখিত গায়কদের সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্ব তিনি নেন কি না সেটা দেখার অপেক্ষাতেও রয়েছেন তাঁরা।