অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে নোভাক জোকেভিচ। সেমিফাইনালে হারালেন ইয়ানিক সিনারকে। ম্যাচের ফল জোকোভিচের পক্ষে ৩-৬, ৬-৩, ৪-৬, ৬-৪, ৬-৪ । রবিবার ফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ শীর্ষ বাছাই কার্লোস আলকারাজ়। ২০২৪ সালের উইম্বলডনের পর আবার কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে উঠলেন জোকোভিচ।
ম্যাচের দ্বিতীয় গেম দেখেই যাঁরা দ্বিতীয় সেমিফাইনালের ফলাফল আন্দাজ করে ফেলেছিলেন, তাঁদের জন্য চমক বাকি ছিল। ৩৮ বছরের জোকোভিচ ৪ ঘণ্টার বেশি লড়াই করবেন বোঝা যায়নি। ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিকের প্রথম সার্ভিস গেম ব্রেক! সিনার, আলকারাজ়দের সঙ্গে কি সত্যিই আর এঁটে উঠতে পারবেন না জোকার? প্রথম সেট সিনার ৬-৩ ব্যবধানে জিতে নেওয়ার পর তাঁর সমর্থকদের আশা আরও পোক্ত হয়।
টেনিস দর্শকদের কাছে জোকোভিচ দারুণ জনপ্রিয়, তা নন। এ দিনও ম্যাচের মাঝে দর্শকদের বিদ্রুপের জবাব দিয়েছেন। পাশাপাশি ১৪ বছরের ছোট প্রতিপক্ষকে কোর্টে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটিয়ে বেড়িয়েছেন। দ্বিতীয় সেট ৬-৩ ব্যবধানে জিতেছেন জোকার। প্রথম সেটের পর যাঁরা সিনারের জয় দেখতে শুরু করেছিলেন, তাঁদের সিট বেল্ট বেঁধে বসার উপক্রম হয়। সিনারের সঙ্গে তখন সমানে সমানে পাল্লা দিচ্ছেন জোকোভিচ। ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যামের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া জোকোভিচকে তৃতীয় সেটে রুখে দিলেন সিনার। ফল তাঁর পক্ষে ৬-৪।
১-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পরও হাল ছাড়েননি জোকার। চতুর্থ সেটে পাল্টা জবাব। এ বার তিনি জিতলেন ৬-৪ ব্যবধানে। ম্যাচ গড়াল পঞ্চম সেটে। জোকারকে নিয়ে খুব বেশি আশা এর পর আর ছিল না। এখন আর পাঁচ সেটের ম্যাচ বার করতে পারেন না সার্ব খেলোয়াড়। হাঁপিয়ে যান। শেষ দিকে তাঁর লড়াই অনেকটাই হয়ে যায় অভিজ্ঞতা এবং অনুমান নির্ভর। সেট শুরু হতেই সিনারের দাপট। সহজে এগিয়ে গেলেন ২-১ ব্যবধানে। জোকোভিচকে লড়াই করতে হল নিজের দ্বিতীয় সার্ভিস গেমে। এক সময় ১৫-৪০ পিছিয়ে পড়েন। দু’টি ব্রেক পয়েন্ট পেয়ে যান সিনার। সেখান থেকে গেম ধরে রাখলেন জোকোভিচ। ২-২। সিনারের পাওয়ার সার্ভিসের জবাবে জোকোভিচ জোর দিচ্ছিলেন প্লেসিংয়ের উপর। সিনারের কোর্ট কভারিংয়ের পরীক্ষা নিতে শুরু করেন। প্রতিটি শটে সিনারকে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন তাঁকে হারিয়ে ফাইনালে উঠতে হলে সেরাটাই দিতে হবে। ৩-৩ হওয়ার পর সিনারে সার্ভিস ব্রেক করেন জকোভিচ। দমের ঘাটতি নিয়েই আবার চমক। ফল তাঁর পক্ষে ৪-৩। নিজের সার্ভিস ধরে রেখে এগিয়ে গেলেন ৫-৩ ব্যবধানে। বাকি সময়টা নিরাপদ টেনিস খেলে ফাইনালে চলে গেলেন। ফল ৬-৪।
আরও পড়ুন:
শেষ দিকে হয়তো কিছুটা স্নায়ুর চাপে ভুগেছেন। না হলে ম্যাচ পয়েন্টে দাঁড়িয়ে সহজ ভুল করতেন না অভিজ্ঞ জোকোভিচ। ভুলটা করে নিজেই যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না জোকার। ঠিক যেমন ম্যাচের শুরুটা দেখে মনে হয়নি সিনার হেরে যাবেন। জোকার এখনও ম্যাজিক দেখাচ্ছেন। এমন এক জনকে হারিয়ে বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে উঠলেন, যাঁর কাছে শেষ পাঁচটা ম্যাচেই হারতে হয়েছে তাঁকে।