ঋতুচক্র শুরুর যেমন বয়স আছে, তেমন নিয়ম মেনে আসে রজোনিবৃত্তি বা মেনোপজ়। ঋতুচক্রের এই শেষ পর্বে মহিলাদের শরীরে হরমোনের হেরফের হয়। ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ায় হট ফ্লাশ, অনিদ্রা, আর্থ্রাইটিস বা ব্রেন ফগের মতো সমস্যা ভোগাতে থাকে। অল্পেই রেগে যাওয়া কিংবা অবসাদেও ভুগতেও দেখা যায়। মনমেজাজ বিগড়ে থাকে। সেই সঙ্গে শুরু হয় নানা শারীরিক সমস্যা।
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীর-মনের এই বদল খুব স্বাভাবিক। তবে এই ভোগান্তি এড়ানো যেতে পারে জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনতে পারলে। সঠিক পুষ্টি, শারীরচর্চা কঠিন সমস্যারও সমাধান করে দেয়। এমনই চার বিষয় মনে করালেন মুম্বইয়ে তারকাদের পুষ্টিবিদ রুজুতা দিবেকর। করিনা কপূর থেকে শিল্পা শেট্টি বহু তারকাই তাঁর পরামর্শ মেনে ডায়েট করেছেন অতীতে। রুজুতা মাথায় রাখতে বলছেন কোন বিষয়?
বয়স যতই হোক, হাড় হোক পোক্ত
রজোনিবৃত্তির সময় থেকে ক্ষয়ে যেতে থাকে হাড়। ব্যথা, যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায় দুর্বল অস্থিসন্ধি। শারীরচর্চা এবং খেলাধুলোর বিকল্প হয় না বলছেন রুজুতা। তাঁর কথায়, মেয়েরা একটু বড় হয়ে গেলেই দৌড়ঝাঁপ করে খেলাধুলোয় লাগাম পড়ে। ছোটাছুটি করে রোদে খেলাধুলো করলে হাড় মজবুত হয়, পেশি সবল হয়। তাই ছোট থেকেই খেলাধুলোয় ছেলেমেয়েদের উৎসাহী করা দরকার। তবে বয়স যদি রজোনিবৃত্তির দোরগোড়াতেও থাকে, তখনও শুরু করা যায় খেলাধুলো।
আরও পড়ুন:
শারীরচর্চা জরুরি
শারীরচর্চার উদ্দেশ্য শুধু ওজন কমানো নয়। তা ছাড়া অনুষ্ঠানকে উপলক্ষ করে ওজন কমানোর চেষ্টাও কার্যকর হতে পারে না। আগামী ৪০ বছর সুস্থ থাকতে হবে, সেই লক্ষ্যেই শারীরচর্চা জরুরি। একদিন বা এক মাস নয়, যোগাসন বা শারীরিক কসরতে ধারাবাহিকতা থাকা দরকার। প্রতি সপ্তাহে অন্তত ৩ ঘণ্টা শারীরচর্চার পরামর্শ দিচ্ছেন রুজুতা।
স্বাস্থ্যোন্নতিতে নজর
বয়স যত বাড়তে থাকে তত কমে যায় বিপাকহার। ফলে একটা বয়সের পর দ্রুত বাড়তে থাকে ওজন। তখন ব্যায়াম করলেও চট করে মেদ ঝরে না। রুজুতার কথায়, মেদ গলানোর দিকে নজর দেওয়ার চেয়ে স্বাস্থ্যোন্নতি নিয়ে ভাবা দরকার। কোমরের মেদ যদি নিতম্বের চেয়ে কম হয়, তা ভাল লক্ষণ। ভুঁড়ি কম থাকলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েড হওয়ার প্রবণতা কমবে।
বয়স বৃদ্ধিকে সহজে গ্রহণ
বয়স বৃদ্ধি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। ৪০-এ পৌঁছে ২০ বছরের মতো তারুণ্য পাওয়া যায় না, তা বোঝা প্রয়োজন। বরং বয়স বৃদ্ধির লক্ষণে হা-হুতাশ না করে নিজের যত্ন জরুরি। রজোনিবৃত্তির সমস্যায় প্রলেপ লাগাতে পারে সঠিক বিশ্রাম এবং পর্যাপ্ত ঘুম। তা ছাড়া, ডায়েট করতে গিয়ে কার্বোহাইড্রেট বাদ দিলেও শরীরে শক্তির অভাব হতে পারে।