Advertisement
E-Paper

সন্তান কি শ্বেতিতে আক্রান্ত? ত্বকের এই রোগ শিশুদের ক্ষেত্রে কী ভাবে শনাক্ত করা যায়? রইল ৫ লক্ষণ

শ্বেতি যে কোনও বয়সে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। অনেক সময়ে শিশু বয়সে শ্বেতির নানা প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যায় দেহে। শুরুতে দাগ ছোট হতে পারে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা ছড়িয়ে যেতে পারে। তাই আগেভাগে সতর্ক হয়ে গেলে চিকিৎসায় সুবিধা হতে পারে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ১৯:৫৫
শ্বেতির ৫ লক্ষণ।

শ্বেতির ৫ লক্ষণ। ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।

ভিটিলিগো বা শ্বেতি নিয়ে সংস্কারের অন্ত নেই। কেউ ভাবেন, এই রোগ ছোঁয়াচে, কেউ আবার ঠাট্টা বা মস্করা করেন। ত্বকের রং তৈরির কাজটি করে মেলানোসাইটস নামক কোষগুলি। এগুলি ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত বা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে শ্বেতি তৈরি হয়। এর ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে সাদা বা ফ্যাকাসে দাগ দেখা দেয়। এটি একটি অটোইমিউন সমস্যা। অর্থাৎ শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে এই কোষগুলিকে আক্রমণ করতে শুরু করে।

কিন্তু এই রোগ একেবারেই ছোঁয়াচে নয়, একই সঙ্গে ঠাট্টার রসদও নয়। এই রোগ যে কোনও বয়সে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। অনেক সময়ে শিশু বয়সে শ্বেতির নানা প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যায় দেহে। শুরুতে দাগ ছোট হতে পারে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে আকার বাড়তে পারে। তাই আগেভাগে সতর্ক হয়ে গেলে চিকিৎসায় সুবিধা হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে কোন কোন লক্ষণ দেখে বুঝবেন, শ্বেতির সমস্যা শুরু হয়েছে?

এই রোগ একেবারেই ছোঁয়াচে নয়।

এই রোগ একেবারেই ছোঁয়াচে নয়। ছবি: সংগৃহীত

ছোটদের মধ্যে শ্বেতির লক্ষণ

১. সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হল ত্বকে হঠাৎ সাদা দাগ দেখা দেওয়া। এই দাগগুলি সাধারণত মুখ, ঠোঁটের চারপাশ, হাত, পা, আঙুল, হাঁটু, কনুই বা চোখের আশপাশে প্রথম দেখা যায়।

২. শুধু ত্বক নয়, অনেক সময়ে আক্রান্ত জায়গার চুলও সাদা হয়ে যেতে পারে। মাথার চুল, ভ্রু বা আঁখিপল্লবের রঙেও এই পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। অভিভাবকদের তাই শুধু ত্বক নয়, চুলের রঙের পরিবর্তনের দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।

৩. শ্বেতির একটি বৈশিষ্ট্য হল, সাদা দাগে সাধারণত কোনও ব্যথা, চুলকানি বা জ্বালা ভাব থাকে না। এই কারণেই অনেক সময়ে প্রথম দিকে বিষয়টি নজর এড়িয়ে যায়। তাই ব্যথাহীন সাদা দাগ দেখলে সতর্ক হতে হবে।

৪. চিকিৎসকদের মতে, পরিবারে কারও শ্বেতি বা অন্য কোনও অটোইমিউন রোগের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে। থাইরয়েডের কিছু সমস্যা, টাইপ-১ ডায়াবিটিসের মতো রোগের সঙ্গেও কখনও কখনও এর সম্পর্ক থাকে। সে ক্ষেত্রে আগে থেকেই সাবধান হতে হবে।

৫. দেহের এই দাগগুলি যদি আকারে বড় হতে থাকে, বা দেহের অন্যত্র দেখা দিতে শুরু করে, তা হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।

শরীরে প্রভাব পড়ার পাশাপাশি প্রভাব পড়ে মনেও। এখনও এই রোগ নিয়ে বহু ভুল ধারণা সমাজে প্রচলিত রয়েছে। তাই মনে রাখা উচিত, এই রোগ ছোঁয়াচে নয়। স্পর্শ, একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া, খেলাধুলা বা মেলামেশার মাধ্যমে এটি এক জনের থেকে অন্য জনের শরীরে ছড়ায় না। অনেক সময়ে স্কুলে সহপাঠীদের প্রশ্ন, কৌতূহলী দৃষ্টি বা অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য শিশুর আত্মবিশ্বাসে আঘাত করতে পারে। তাই অভিভাবকদের উচিত শিশুর সঙ্গে খোলামেলা কথা বলা এবং তাকে বোঝানো যে এই অবস্থার জন্য সে কোনও ভাবেই অন্যদের থেকে কম নয়।

ত্বকে এমন কোনও সাদা দাগ দেখা দিলে নিজে থেকে ঘরোয়া চিকিৎসা শুরু না করে চর্মরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দ্রুত রোগ নির্ণয় হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা সহজ হয়। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাপদ্ধতির মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই শ্বেতির বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

Vitiligo Child Health

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy