অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যায় যাঁরা ভোগেন, তাঁরাই জানেন এই রোগের যন্ত্রণা। কারণ, এই সমস্যা থাকলে রুটিনের বাইরে কিছু খাওয়াদাওয়া হলেই শুরু হয়ে যেতে পারে বুক-গলায় জ্বালা। রুটিন মেনে খেয়েও যে নিস্তার মেলে, তা নয়। এমন ঘটনা ঘটতে পারে যে কোনও সময়ে। আর ঘটলে কখনও তা ওষুধ খেয়েও না-ও কমতে পারে। সে ক্ষেত্রে দিনভরের অস্বস্তি মেনে নেওয়া ছাড়া গতি থাকে না। এক পুষ্টিবিদ অবশ্য বলছেন, এই অসহায়তা কাটানা সম্ভব, যদি কয়েকটি বিষয় মাথায় রেখে খাওয়া হয়।
গোয়া নিবাসী পুষ্টিবিদ লিউক কুটিনহো জানাচ্ছেন, অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা শুধু বাইরের খাবার খেলেই বাড়ে, তা নয়। অনেক সময় বাড়িতে রান্না করা সাধারণ খাবারও রিফ্লাক্স বাড়িয়ে দিতে পারে। তিনি বলছেন, ‘‘অ্যাসিডিটি হতে পারে এমন খাবার খাওয়া যেমন যাবে না, তেমনই কিছু খাবার যদি নিয়ম করে খাওয়া যায়, তবে সেই অভ্যাস অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা কমাতে পারে।’’
১. আদা
অ্যাসিড রিফ্লাক্সের একটি প্রধান কারণ হল প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন। তাই অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা কমাতে চাইলে প্রথমেই খেয়াল করতে হবে, শরীরে প্রদাহের মাত্রা যেন না বাড়ে। আর সে কাজে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারে আদা। আদা প্রদাহ কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী। পাশাপাশি, এটি হজমেও সাহায্য করে। রান্নায় আদা খাওয়া তো ভালই। তার সঙ্গে আদা চা বা গরম জলে আদা মিশিয়েও খেতে পারেন।
২. কলা
অ্যাসিডের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে ক্ষার। আর কলা হল অ্যালকালাইন বা ক্ষার সমৃদ্ধ ফল। ফলে এটি খেলে পাকস্থলীর অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। খাদ্যনালীর ভিতরের দেওয়ালেও সুরক্ষাকবচ তৈরি হয় কলা খেলে।
৩. ওটস
ওটসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। যা পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিড শোষণ করে নেয়, ফলে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সম্ভাবনা কমে যায়।
৪. সবুজ শাকসবজি
সবুজ শাকসব্জিতে ফ্যাট এবং শর্করার মাত্রা থাকে খুব কম। ফলে পাকস্থলীর অ্যাসিড উৎপাদনের প্রবণতা কমে। তবে রান্নায় অতিরিক্ত মশলা বা তেল ব্যবহার করলে উপকারি শাকসব্জিও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
৫. তরমুজ বা ফুটি
তরমুজ বা ফুটি জাতীয় ফল বা যে সমস্ত ফলে জলের পরিমাণ বেশি, তাতে অ্যাসিডের মাত্রা কম থাকে। পেঁপে, আপেল, নাশপাতি রয়েছে এই তালিকায়। এ ছাড়া নারকেল, খেজুরের মতো ফলও অ্যাসিড বাড়তে দেয় না।