খাওয়ার পর পেটফাঁপা, বুকে-পেটে অস্বস্তি, বার বার ঢেকুর, এই সমস্যাগুলি এতটাই সাধারণ যে অনেকেই এগুলিকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, ঘন ঘন এই সমস্যা দেখা দিলে বুঝতে হবে, শরীরের হজম প্রক্রিয়া ঠিক মতো কাজ করছে না। আর সেই সমস্যার সহজ সমাধান হিসাবে ঘরোয়া টোটকা কার্যকরী হতে পারে কখনও সখনও। তার জন্য প্রয়োজন একটি মিশ্রণ। মাত্র পাঁচটি উপাদানেই এই মিশ্রণ তৈরি করতে পারেন ঘরে।
এই গুঁড়োটি তৈরি করতে কী কী প্রয়োজন?
বিশুদ্ধ অ্যালো ভেরা জেল
লেবু
জোয়ান
আমলকি
স্বাদ মতো কালো নুন
হিং দিলেও ক্ষতি নেই
এই গুঁড়োটি তৈরি করতে কী কী প্রয়োজন? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত
কী ভাবে বানাবেন?
সমস্ত উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে ভাল করে শুকোতে দিন। রোদে বা হাওয়ায় অথবা রান্নাঘরে রেখেই শুকিয়ে নিতে পারেন। সমস্ত উপকরণ শুকিয়ে গেলে বায়ুনিরোধী পাত্রে ভরে রাখুন।
কী ভাবে খাবেন?
একটি পাত্রে ঈষদুষ্ণ জল নিয়ে তাতে এই মিশ্রণের এক চামচ গুলিয়ে নিন। তার পর ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে পান করে নিন।
কখন খাবেন?
খুব ব্যস্ত দিনে, অথবা পার্টি-অনুষ্ঠানে ভারী খাবার খাওয়ার পর, কিংবা পাত্রে করে অফিসের ডেস্কেও রেখে দিতে পারেন। শরীরে অস্বস্তি তৈরি হলে, পেটফাঁপার সমস্যা দেখা দিলে গরম জলে মিশিয়ে খেয়ে নেবেন।
এর উপকারিতা কী?
এই প্রতিটি উপাদানই হজমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এবং দীর্ঘ দিন ধরেই ঘরোয়া পরিসরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রান্নাঘরের খুব সাধারণ উপাদান দিয়েই তৈরি হতে পারে এমন এক মিশ্রণ, যা হজমের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। ছোট্ট এই অভ্যাসই এনে দিতে পারে স্বস্তি। জোয়ানে উপস্থিত ‘থাইমল’ নামক উপাদানটি পাচক রস নিঃসরণ বাড়িয়ে খাবার দ্রুত হজম করতে সাহায্য করে এবং পেটফাঁপা কমায়। হিং পেটের গ্যাস বার করে দিতে সাহায্য করে। অন্ত্রের পেশিকে শিথিল করে এবং হজমে সহায়ক এনজ়াইমগুলিকে উদ্দীপিত করে। অ্যালো ভেরায় রয়েছে প্রদাহনাশী বৈশিষ্ট্য। এটি পেটের প্রদাহ কমায় ও হজম প্রক্রিয়াকে সচল রাখে। লেবুর রস পাকস্থলীতে অ্যাসিডের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা বদহজম ও গ্যাসের অস্বস্তি দূর করে। আমলকি পেট থেকে দূষিত পদার্থ বার করে দেয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে পেটকে হালকা রাখে। কালো নুন পাকস্থলীর অতিরিক্ত গ্যাস শোষণ করে নেয় এবং হজমে গতি আনে।
এই গুঁড়ো পেটফাঁপা কমাতে সাহায্য করলেও এটি কোনও স্থায়ী সমাধান নয়। যদি আপনার নিয়মিত পেটফাঁপার সমস্যা হয়, পাশাপাশি তীব্র পেট ব্যথা, বমি ভাব বা হজমে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।