ডুবো তেলে ভাজা নয়। চাইলে ভাল তেল বা ভাল ঘি অল্প পরিমাণে ব্যবহার করেও রান্না করা যায়। চাইলে বদলে ফেলা যায় উপকরণও। এমন একটি খাবার তো ওজন কমাতে চাওয়া স্বাস্থ্যসচেতনদের কাছে স্বর্গ! কারণ তাঁরা চাইলে ময়দা দিয়ৈ তৈরি সাধারণ পরেটাকে প্রোটিন, ফাইবার এবং ভিটামিনের ভান্ডার বানিয়ে ফেলতে পারেন। আর তার জন্য যে খুব পরিশ্রম করতে হবে, তা-ও না। আগের দিনের বেঁচে যাওয়া ডাল, তরকারিও হতে পারে পরোটার পুর। যা খেলে শুধু পেট ভরবে না, ঠিকমতো বানিয়ে ফেলতে পারলে স্বাদের অভাবও পূরণ হবে।
১. পনির, ধনেপাতা এবং মেথির পরোটা
মেথি পাতায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর। অন্য দিকে লো-ফ্যাট পনির প্রোটিনের দুর্দান্ত উৎস। এতে ক্যালসিয়ামও প্রচুর থাকে। ওজন কমাতে চাইলে লো-ফ্যাট বা ঘরে তৈরি পনির ব্যবহার করতে পারেন। স্বাদ এবং গন্ধের জন্য ব্যবহার করতে পারেন ধনেপাতা। পনির চটকে নিয়ে তার সঙ্গে সঙ্গে ধনেপাতা, মেথি পাতা, গোলমরিচ, ভাজা মশলা এবং নুন-চিনি মিশিয়ে পুর তৈরি করুন। তার পরে লাল আটার লেচির ভিতরে পুর দিয়ে বেলে নিয়ে ঘি বা অলিভ অয়েলে নেড়ে নিন। প্রোটিন বেশি থাকায় এই পরোটা মেটাবলিজম বা বিপাকের হার বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।
২. পালং-ওটস পরোটা
পালং শাকে ক্যালোরি খুব কম থাকে। পাশাপাশি, এতে আয়রন এবং ভিটামিনও থাকে প্রচুর। পালং শাক ভাপিয়ে বা পেস্ট করে ওটসের গুঁড়ো বা আটার সঙ্গে মেখে পরোটা বানান। মশলা হিসাবে দিতে পারেন, রসুন, কাঁচালঙ্কা, ধনেপাতা ইত্যাদি। এই পরোটা পুষ্টিকর তো বটেই। সেই সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও সাহায্য করে। ওটসে থাকা ফাইবার হজম শক্তি বৃদ্ধিতে, কোলেস্টেরল কমাতে এবং মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। চাইলে পালংশাক এবং ওটসের লেচিতে তরকারির পুরও দিতে পারেন।
৩. ডালের পরোটা
আগের রাতের বেঁচে যাওয়া ঘন ডাল আটার সঙ্গে মেখে নিয়ে তৈরি করতে পারেন ডালের পরোটা। আগের দিনের ডাল যদি বেঁচে না থাকে। তবে সেদ্ধ করা মুগ ডাল আটার সঙ্গে মেখেও পরোটা বানাতে পারেন। ডালের পরোটায় যেমন আটার ফাইবার থাকে, তেমনই থাকে ডালের প্রোটিন। ফলে খাওয়ার পরে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে ধীরে। যা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
আরও পড়ুন:
৪. ছাতুর পরোটা
ছাতুকে বলা হয় ‘গরিবের প্রোটিন’। তবে স্বাদে এবং গুণে বহু পরোটাকেই টক্কর দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এটি দীর্ঘ ক্ষণ ধরে শরীরে শক্তির জোগান দিতে থাকে। পেশির গঠনেও সাহায্য করে ছাতুর পরোটা। আটার লেচির ভিতরে পেঁয়াজ, রসুন, সর্ষের তেল, লঙ্কা এবং লেবুর রস দিয়ে মাখানো ছাতুর পুর ভরে বেলে নিয়ে ঘিয়ে নেড়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে ছাতুর পরোটা।
৫. সয়াবিন কিমা পরোটা
সয়াবিন চাঙ্কস সেদ্ধ করে তার কিমা বানিয়ে পরোটার পুর হিসেবে ব্যবহার করুন। প্রোটিনে ভরপুর এই পরোটাও ওজন কমাতে উপযোগী। যাঁরা আমিষ খান না, তাঁরা নিয়মিত এই পরোটা খেলে শরীরে প্রোটিনের অভাব অনেকটাই পূরণ হবে।