ডায়াবিটিস হলে খাওয়াদাওয়ায় বিধিনিষেধ চলে আসে অনেকটাই। তার মধ্যে ফল খাওয়ায় ছাড়পত্র থাকলেও, সব ফলে থাকে না। খেলেও, কষতে হয় হিসেব-নিকেশ। ডায়াবিটিস-বান্ধব ফলের তালিকায় শীর্ষে থাকে কালোজাম, আপেল, পেয়ারা, কমলালেবু, বেরি জাতীয় ফলই। তবে এর বাইরেও রয়েছে সবেদা থেকে আঙুর, কলা। অনেকেরই পছন্দের তালিকায় থাকে এমন ফলও। ডায়াবিটিস হলে তবে কি এমন ফল বাদ দিতে হবে? আঙুর এবং কলার মধ্যে কোনটি ডায়াবিটিস-বান্ধব?
পুষ্টিবিদেরা জানাচ্ছেন, পছন্দের ফল পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে খেতে হবে মাপ বুঝে। ক্যালোরির হিসেব-নিকেশ কষাটাও জরুরি। পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক বলছেন, ‘‘কলা এবং আঙুরের মধ্যে পুষ্টিগুণের তুলনা করলে ডায়াবেটিকদের জন্য ভাল হবে কলা। তবে বেশি পাকা কলা এড়িয়ে যাওয়াই ভাল। তা কী ভাবে খাওয়া হচ্ছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।’’
আরও পড়ুন:
কলা এবং আঙুর
কলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) ৪১ এবং আঙুরের ৪৯। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স হল এমন একটি পরিমাপ সূচক, যা নির্দেশ করে কোনও খাবার খাওয়ার পরে রক্তে শর্করা মাত্রা কতটা দ্রুত বাড়বে বা কমবে। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যত কম হবে, ডায়াবেটিকদের জন্য সেই খাবার ততটাই ভাল। কলা এবং আঙুরের জিআই লোডে খুব বেশি তফাত নেই। কলা এই তালিকায় মাঝামাঝি জায়গায় থাকে। আঙুরের জিআই লোড কম থেকে মাঝারির মধ্যে ঘোরাফেরা করে।
রক্তে শর্করা কতটা দ্রুত বাড়বে, তা অনেকটা নির্ভর করে ফাইবারের উপর। ফাইবার কিছুটা ছাঁকনির কাজ করে। কোনও খাবার খাওয়ার পরে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে বাধা দেয়। আঙুরে ফাইবারের মাত্রা কম থাকে বলে এই ফল খেলে তুলনামূলক দ্রুত হারে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পায়। কলায় ফাইবার বেশি মেলে। তাই এই ফল খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা আঙুরের মতো দ্রুত বাড়ে না।
তবে মুশকিল হল, কলা খাওয়ার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও, আঙুর আকারে ছোট হয় বলে বেশি খেয়ে ফেলার প্রবণতা থাকে। তা ছাড়া কলা খেলে যত সহজে পেট ভরে, তা আঙুরের ক্ষেত্রে হয় না।
অনন্যা জানাচ্ছেন, কাঁচা এবং কম পাকা কলায় রেজ়িস্ট্যান্ট স্টার্চ মেলে, যা শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, কলা পেট ভরাতেও সাহায্য করে। তবে কলা খুব পাকা হলে দ্রুত হারে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে।
বেঝে নেবেন কোনটি?
আঙুর বা কলা, দু’টি খেয়েই রক্তে শর্করা বশে রাখা সম্ভব, যদি তা সঠিক পন্থায় খাওয়া যায়। আঙুর শুধু না খেয়ে স্যালাডে জুড়ে নেওয়া যায়। যে ধরনের খাবারে ফাইবার বেশি, তার সঙ্গে আঙুর খেলে ততটাও সমস্যা হবে না। ওট্সের সঙ্গে আঙুর খাওয়া যেতে পারে। গাজর, শসা, ব্রকোলি বা ফাইবার জাতীয় অন্য খাবার আগে বা পরে খেলে সমস্যা হবে না মনে করাচ্ছেন অনন্যা। কলার ক্ষেত্রেও তা-ই। বেশি পাকা কলা বাদ দেওয়াই ভাল। না হলে ফাইবার জাতীয় খাবারের সঙ্গেও খাওয়া যেতে পারে।