সস্ দেওয়া, ঝুরিভাজা ছড়ানো ভেলপুরি হোক বা পাপড়ি চাট— দেখলেই জিভে জল আসে। ডায়েট নিয়ে কড়াকড়ি যতই থাক, মাঝেমধ্যে ফাঁকিবাজি করাই যায়। এমন ‘চিট ডে’-তে ভেলপুরি না পাপড়ি চাট— ক্যালোরির হিসেব-নিকেশ কষে কোন খাবারটিকে বেছে নেবেন?
ক্যালোরির হিসাবে পাপড়ি চাট বা ভেলপুরি, কোনওটি খুব কম নয়। তবে স্বাস্থ্যের বিচারে ভেলপুরি এগিয়ে থাকতে পারে পাপড়ি চাটের থেকে, বলছেন পুষ্টিবিদেরা। ভেলপুরির মূল উপকরণ মুড়ি, যা হজম করা কঠিন নয়। তা ছাড়া মুড়ি ফাঁপা হওয়ায় এতে ক্যালোরির মাত্রা কম থাকে। অন্য দিকে, পাপড়ি চাটের মূল উপকরণ পাপড়ি। ছাঁকা তেলে ভাজা পাপড়িতে ক্যালোরি অনেকটাই বেশি। ১০০-১২০ গ্রাম পাপড়ি চাট বা ভেলপুরিতে ক্যালোরির মাত্রা ১৫০-২৫০ পর্যন্ত হতে পারে। পুরোটাই নির্ভর করছে সেটি বানানোর প্রক্রিয়ার উপরে।
আরও পড়ুন:
পাপড়ি চাট: পাপড়ি চাটে থাকে ছাঁকা তেলে ভাজা বেসনের পাপড়ি, সেও বা সরু সরু ঝুরিভাজা, আলু, বাদাম, সস্, মশলা, টক দই, ধনেপাতাকুচি। পাপড়িতে ক্যালোরির যথেষ্ট। একমুঠো সরু ঝুরিভাজা দিলে তার ক্যালোরি হবে ৭০-৮০। বাদবাকি সব কিছু মিলিয়ে এক প্লেট পাপড়ি চাটের ক্যালোরি পৌছতে পারে ২০০-২৫০তে।
ভেলপুরি: ভেলপুরির প্রধান উপকরণ মুড়িতে ক্যালোরির মাত্রা বেশি নয়। এটি হজম করাও সহজ। কিন্তু ভেলপুরিতে সস্, ঝুরিভাজা মিশলেই তার ক্যালোরি বেড়ে যায়। বাদাম, ঝুরিভাজার মাত্রা যত বাড়বে, ততই ক্যালোরির পরিমাণ বাড়বে।
বেছে নেবেন কোনটি?
পুষ্টিবিদেরা জানাচ্ছেন, পরিমিত পরিমাণে দু’টি খাবারই খাওয়া যায়। পাপড়ি চাটের ক্ষেত্রে ক্যালোরির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঝুরিভাজা এবং পাপড়ির পরিমাণ কমাতে হবে। ৮-১০টি পাপড়ির বদলে সেটি ৫-৬টিতে নামিয়ে আনতে হবে। মিষ্টি সসে্র মাত্রাও কমাতে পারলে ভাল।
ভেলপুরির ক্ষেত্রে ঝুরিভাজা আর মিষ্টি সসে্র মাত্রা বাড়লে ক্যালোরি বাড়বে। সেটি স্বাস্থ্যকর করে তুলতে হলে নানা রকম সব্জির পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে। পেঁয়াজ, ধনেপাতা, গাজর যোগ করা যেতে পারে। বাদামে ক্যালোরি বাড়লেও তা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর নয়।
তবে স্বাস্থ্য এবং ক্যালোরি, দুই নিরিখেই পাপড়ি চাট এবং ভেলপুরির মধ্যে এগিয়ে থাকবে ভেলপুরি।