Advertisement
E-Paper

ঘুম তাড়াতে কফি খান? কফি কিন্তু ঘুম পাড়াতেও পারে! কোন ক্ষেত্রে এমন উলটপুরাণ হবে?

আরও বেশি ভারী হয়ে উঠল চোখের পাতা! কফি খেয়ে এমনটা হতেই পারে। সময় বিশেষে ঘুম তাড়ানোর বদলে ঘুমপাড়ানি হতে পারে চেনা কফির কাপ। অন্তত তেমনই বলছে বিজ্ঞান।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২৬ ১৭:৩৮

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ঘুমে ঢুলে আসা চোখ, নেতিয়ে পড়া মগজকে ধাক্কা দিয়ে জাগাতে হলে কফি খেলেন। কিন্তু তাতে কাজ হল না কোনও। কিছু ক্ষণের জন্য সামলে আর দ্রুত ঝিমিয়ে পড়তে শুরু করলেন। আরও বেশি ভারী হয়ে উঠল চোখের পাতা! কফি খেয়ে এমনটা হতেই পারে। সময় বিশেষে ঘুম তাড়ানোর বদলে ঘুমপাড়ানি হতে পারে চেনা কফির কাপ। অন্তত তেমনই বলছে বিজ্ঞান।

কফি খেলে ঘুম পালায় কেন, কেনই বা ঘুম পাবে?

গোটাটাই শরীরে নিঃসৃত এক রাসায়নিক অ্যাডিনোসিনের খেলা। অ্যাডিনোসিন স্বাভাবিক নিয়মেই জমা হতে থাকে মস্তিষ্কে। দিন যত গড়ায়, অ্যাডিনোসিনের মাত্রা যত বাড়ে, ততই শরীরে নামতে থাকে ক্লান্তি। ঘুম নামে দু’চোখের পাতায়। যাকে বলা হয় ‘স্লিপ প্রেশার’। এ হেন ঘুমের চাপ যখন বাড়তে শুরু করে, তখন মস্তিষ্কও নিজের কাজের গতি কমাতে শুরু করে। এই পরিস্থিতিতে কফি খেলে মগজ আবার গা ঝেড়ে উঠে বসে কেন? কারণ, ক্যাফিনে থাকা কিছু উপাদান ওই অ্যাডিনোসিনকে আটকে দিতে পারে।

মস্তিষ্কের যে রিসেপটর বা প্রতিক্রিয়াশীল স্নায়ু রয়েছে, যারা মস্তিষ্ককে বলে দেয়, কোন পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, সেগুলি অ্যাডিনোসিনের ছোঁয়ায় ঘুমোনোর বার্তা পায়। কফি অ্যাডিনোসিনকে আটকে দিলে সেই বার্তা যথাস্থানে পৌঁছয় না। ফলে মস্তিষ্ক বুঝতে পারে না, ঘুমোনোর সময় এসেছে। কিন্তু তা বলে অ্যাডিনোসিনের কাজ তো আর বন্ধ হয়ে যায় না। তা নিয়ম মাফিক জমতে থাকে। কফির প্রভাব কাটলেই হুড়মুড়িয়ে নেমে পড়ে রিসেপটরের উপর। তখন দ্বিগুণ দ্রুততায় ঘুম আর ক্লান্তি এসে ভর করে শরীরে। তখন আর না ঘুমিয়ে উপায় থাকবে না।

কফির প্রভাব কত ক্ষণের?

বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, কফি কে কী ভাবে খাচ্ছেন, তার উপর নির্ভর করে তা কতটা অ্যাডিনোসিনকে আটকাতে পারবে। যদি কেউ নিয়মিত সকালে-বিকালে দু’কাপ কফি খান, তবে তাঁর শরীরে ক্যাফিন খুব বেশি ক্ষণ অ্যাডিনোসিনকে ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। অন্য দিকে কেউ যদি নিয়ম করে কফি না খান, তবে তাঁর মস্তিষ্কে ক্যাফিন কাজ করবে তুলনায় বেশি ক্ষণ।

কফিতে অভ্যস্ত হলে

শরীর কফিতে অভ্যস্ত হলে আরও একটি সমস্যা তৈরি হতে পারে। যেহেতু অ্যাডিনোসিন তৈরি হওয়া বন্ধ হয় না। তাই অনেক সময় মস্তিষ্ক, সেই অ্যাডিনোসিন সামলাতে বাড়তি রিসেপ্টর তৈরি করতে শুরু করে। আর এক কাপ কফির পক্ষে এই সমস্ত রিসেপ্টর থেকে অ্যাডিনোসিনকে দূরে রাখা সম্ভব হয় না। যাঁদের শরীরে দীর্ঘ দিনের কফি খাওয়ার অভ্যাস থেকে এমন বদল ঘটবে, তাঁরাও কফি খেলে আর ততটা চাঙ্গা বোধ করবেন না, যেমনটা আগে করতেন। সে ক্ষেত্রে আগে যে কাজ এক কাপ কফিতেই হয়ে যেত, দেখা যাবে এক মগ কফি খেয়ে তার কিছুটা হচ্ছে।

জিনেরও ভূমিকা থাকে

অনেক সময় জিনগত কারণেও কফি ঘুম তাড়াতে ব্যর্থ হতে পারে। কিছু কিছু জিনের কফি হজম করার ক্ষমতা অন্য ধরনের। তেমন ক্ষেত্রে কফি ঘুম তাড়ানোর ওষুধ হতে পারে না।

অর্থাৎ

কফি খেয়েও যদি ঘুম না যায়, তবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। জানবেন, এর নেপথ্যে রয়েছে আপনার মগজের এক অদ্ভূত রাসায়নিক। যার নাম অ্যাডিনোসিন।

Coffee Crash
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy