পরিশোধিত জল থেকেও কি ছড়াতে পারে জীবাণু? জল বিশুদ্ধ রাখতে ওয়াটার পিউরিফায়ার বা আরও ফিল্টার ব্যবহার করেন বহু মানুষ। মনে হতেই পারে, ফিল্টার থেকে যে জল বেরোচ্ছে তা একেবারেই বিশুদ্ধ। কিন্তু আইআইটি মাদ্রাজের এক গবেষণা এ ধারণাকে বদলে দিয়েছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, ফিল্টার জল পরিশোধন করবে তাতে কোনও সংশয়ই নেই, তবে সেই ফিল্টার বা ওয়াটার পিউরিফায়ারটি কী ভাবে ব্যবহার করছেন, তার উপরে অনেক কিছুই নির্ভর করবে। চেন্নাইয়ের ঘরে ঘরে আরও ফিল্টারের জল থেকেই ই কোলাই ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ ঘটেছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। কী ভাবে এমন ঘটল, তার ব্যাখ্যা দিয়ে সতর্কও করেছেন তাঁরা।
কী ভাবে আরও ফিল্টারের জলে জীবাণু সংক্রমণ ঘটছে?
'আরও' অর্থাৎ ‘রিভার্স অসমোসিস’ বা বিপরীত অভিস্রবণ। তা জল পরিশোধনের এমন প্রযুক্তি, যেখানে অত্যন্ত সূক্ষ্ম পর্দার মধ্যে দিয়ে জলকে উচ্চ চাপে চালিত করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় অভিস্রবণ পদ্ধতিতে জলে থাকা ক্ষতিকারক পদার্থ, ভারী ধাতু বা জলে দ্রবীভূত রাসায়নিক ও অশুদ্ধি দূর হয়ে যায়। এই ধরনের ফিল্টারে শোধিত জলে জীবাণু থাকার কথাই নয়। কিন্তু আইআইটি মাদ্রাজের গবেষকেরা চেন্নাইয়ের ২৬২টি বাড়ির ফিল্টার করা জলের নমুনা পরীক্ষা করে চমকে গিয়েছেন। তাঁরা দেখেন, অন্তত ৮১টি নমুনায় ই কোলাই ব্যাক্টেরিয়া রয়েছে।
আরও পড়ুন:
গবেষকদের দাবি, আরও ফিল্টার যদি সময়ান্তরে পরিষ্কার না করা হয়, তা হলে এর ভিতরে জীবাণু সংক্রমণ ঘটতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই ধরনের ফিল্টার বা পিউরিফায়ার পরিষ্কার করা হয় দীর্ঘ সময় অন্তর। ফলে জল পরিশোধনের প্রক্রিয়ার সময়েই তাতে জীবাণু সংক্রমণ ঘটে। দেখা গিয়েছে, আরও ফিল্টারে বেশির ভাগ সময়েই সম্পূর্ণ জল পরিশোধিত হয় না। প্রতি দশ লিটার জল পরিশোধন করে সেখান থেকে পরিশোধিত জল পাওয়া যায় মাত্র ৩ লিটার। আর বাকি ৭ লিটার জলের সঙ্গে আরও বেশি মাত্রায় ধাতু মিশে তা বাইরে বেরিয়ে আসে।
দীর্ঘমেয়াদে এমন ফিল্টার ব্যবহার করা স্বাস্থ্যকর নয় বলেই দাবি গবেষকদের। ‘আরও’ পদ্ধতিটি পরিশ্রুত করার সময়ে জলে মিশে থাকা অশুদ্ধির পাশাপাশি, উপকারী প্রাকৃতিক খনিজ এবং আয়নও নষ্ট করে দেয় অনেক সময়েই। তাই এ ধরনের ফিল্টার ব্যবহার করলে তা নিয়ম মেনে করতে হবে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর তা জীবাণুমুক্ত করার কাজ করতে হবে। সবচেয়ে ভাল হয় ছোটদের জল ফুটিয়ে খাওয়াতে পারলে। উচ্চতাপে জল ফোটালে তাতে থাকা যে কোনও রকম জীবাণুই ধ্বংস হয়ে যায়।