এক দিকে গনগনে রোদ, অন্য দিকে টলটলে জলে ভরা সুইমিং পুল। গরমের সময়ে সাঁতার কেটেই আনন্দ পান অনেকে। কিন্তু, সাঁতারের কথা ভাবলেই বিষয়টা যত সুখের মনে হচ্ছে, আসলে ততটা নয়। কারণ এরই সঙ্গে আসে নানাবিধ সমস্যা। যেমন, সাঁতার কাটার সময়ে সতর্ক না থাকলে চোখের স্বাস্থ্যের অবনতি হতে পারে। সুইমিং পুলের জলে শুধু ক্লোরিন নয়, অন্য সাঁতারুদের ঘাম, প্রসাধনী, সানস্ক্রিন ও নানা ধরনের অণুজীবও মিশে থাকতে পারে। আর তা থেকে চোখে সংক্রমণ, অ্যালার্জি, শুষ্কতা ইত্যাদি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
চক্ষুরোগ চিকিৎসকদের মতে, কয়েকটি নিয়ম মেনে তবেই জলে নামা উচিত—
১. সুইমিং গগল্স পরতে হবে
ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসকদের মতে, চোখ রক্ষা করার সবচেয়ে সহজ উপায় হল, উচ্চমানের সুইমিং গগল্স পরা। এটি ক্লোরিনযুক্ত জলকে সরাসরি চোখে প্রবেশ করতে দেয় না। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে। তবে গগল্সে যেন চোখের চারপাশ ঠিক ভাবে আটকায়, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ ছাড়া, পুলের উপরে যদি কোনও ছাদ না থাকে, তা হলে সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগনি রশ্মি থেকে চোখকে বাঁচাতে নির্দিষ্ট চশমা কেনা উচিত।
২. কনট্যাক্ট লেন্স খুলতে হবে
ছবি: সংগৃহীত
কনট্যাক্ট লেন্স পরার অভ্যাস থাকলে, অবশ্যই জলে নামার আগে তা খুলে নিতে হবে। চিকিৎসকদের মতে, পুলের জলে থাকা জীবাণু লেন্সের সঙ্গে আটকে গিয়ে গুরুতর সংক্রমণ হতে পারে। বিশেষ করে অ্যাকান্থামিবা কেরাটাইটিস নামের এক ধরনের জীবাণু কর্নিয়ার ক্ষতি করতে পারে। এর ফলে দৃষ্টিশক্তি হারানোরও ঝুঁকি থাকতে পারে।
৩. পরিষ্কার জলে চোখ ধুতে হবে
ছবি: সংগৃহীত
সুইমিং পুলে নামার আগে চোখের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে পরিষ্কার জল দিয়ে চোখ ধুয়ে নেবেন। ফলে আগে থেকেই চোখ তার আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারবে আর ক্লোরিনের প্রভাবও খানিক কম পড়বে চোখে। তা ছাড়া আর্দ্রতা ধরে রাখার আরও ভাল উপায় হল, চোখে ড্রপ দেওয়া। ক্লোরিন চোখে গেলে চোখে যে অস্বস্তি হয়, তার তীব্রতাও অনেকটাই কমে যায় এই পন্থায়।
সাঁতার কাটার পরে চোখ লাল হয়ে গেলে, অতিরিক্ত জল পড়া শুরু হলে, ব্যথা হলে অথবা দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে এলে, তা উপেক্ষা করা একেবারেই উচিত নয়। চিকিৎসকদের মতে, এগুলি সংক্রমণ বা রাসায়নিকের প্রভাবে জ্বালার লক্ষণ হতে পারে। সমস্যাটা দীর্ঘস্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।