অত্যধিক ঘাম, বমি বা ডায়েরিয়ার মতো রোগ হলে শরীর থেকে বেশি পরিমাণে জল বেরিয়ে যায়। তখন নানা ভাবে শরীর জানান দেয় যে, জলশূন্যতা তৈরি হয়েছে। গরমের সময়ে এই সমস্যা আরও বাড়ে। বিশেষ করে ঋতুবদলের এই সময়ে পেটের সমস্যায় বেশি ভুগছে ছোটরাই। যদি জল ও ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি হয়,তা হলে বদহজম, বমি, পেটের সংক্রমণ হবে। ঘন ঘন ডায়েরিয়া হবে। এমন হলে খাওয়াদাওয়ায় বাড়তি নজর দিতে হবে বাবা-মাকে। সকালের জলখাবারে তখন দুধ বা রুটি-পরোটা নয়, বরং স্বাস্থ্যকর ও হালকা কিছু খাবার বানিয়ে দেওয়া জরুরি। অভিভাবকেরা জেনে নিন, কী কী খেলে সুস্থ থাকবে শিশু।
এই বিষয়ে শিশুরোগ চিকিৎসক প্রিয়ঙ্কর পাল জানাচ্ছেন, গরম পড়ছে। এই সময়ে জলশূন্যতা ভোগায় অনেক শিশুকেই। কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ছোটরা ঠিকমতো জল খায় না। স্কুলের সময়টাতে জল খাচ্ছে কি না, তা দেখার কেউ থাকে না। ফলে শরীরে জলের ঘাটতির পাশাপাশি খনিজ উপাদানগুলি যেমন সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইডের ঘাটতি হতে থাকে। এর থেকে বমি, পেটের গন্ডগোল হতে পারে, জ্বরও আসতে পারে। তাই পুষ্টিকর খাবারই রাখতে হবে শিশুর পাতে।
আরও পড়ুন:
আপেল-ওট্সের পায়েস
ওট্সে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে আর আপেল পেটের জন্য খুব উপকারী। ওট্স শুকনো খোলায় নেড়ে নিয়ে গুঁড়ো করে নিন। এ বার দুধ বা জলে ফুটিয়ে নিন। এতে গ্রেট করা আপেল এবং সামান্য দারচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। চিনির বদলে সামান্য গুড় বা মধু ব্যবহার করতে পারেন।
পেঁপে ও কলার স্মুদি
কাঁচা পেঁপে পেটের রোগ সারাতে খুবই উপকারী। তবে জলখাবারে পাকা পেঁপে ও কলার মিশ্রণ শিশুর জন্য খুবই ভাল। পাকা পেঁপে ও পাকা কলা ভাল করে চটকে, সামান্য টক দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এ বার সমস্ত উপকরণ ব্লেন্ড করে মিহি মিশ্রণ তৈরি করে নিন। এর সঙ্গে খেজুরও বেটে নিতে পারেন। এই স্মুদি দীর্ঘ ক্ষণ পেট ভর্তি রাখবে, বাইরের খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমাবে।
সাবুদানার খিচুড়ি
১ কাপ সাবুদানা ভাল করে ধুয়ে ২-৩ ঘণ্টা সামান্য জলে ভিজিয়ে রাখুন যাতে ঝরঝরে থাকে। কড়াইতে ঘি গরম করে জিরে ও কারিপাতা ফোড়ন দিন। এ বার ছোট করে কাটা আলু ও চিনেবাদাম ভেজে নিন। এর সঙ্গে ভেজানো সাবুদানা মিশিয়ে অল্প নুন দিয়ে। সাবু সেদ্ধ হওয়া অবধি নাড়াচাড়া করুন। উপর থেকে ধনেপাতা ছড়িয়ে দিন।