তাপমাত্রার পারদ যেমন ঊর্ধ্বমুখী, তেমনই অস্বস্তিকর আবহাওয়ার কারণে গলদঘর্ম অবস্থা। চাঁদিফাটা রোদে শরীরে জলশূন্যতা তৈরি হতে পারে। আর তার প্রভাব পড়তে পারে মস্তিষ্কে। এ ভাবেই বাড়তে থাকে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি। ঠিক কী ভাবে এই তীব্র গরম মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর জানেন?
মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী ধমনী বন্ধ হয়ে গেলে অথবা রক্তনালি ছিঁড়ে গিয়ে রক্তক্ষরণ হলে স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এর ফলে মস্তিষ্কের কোষগুলি পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পায় না এবং নষ্ট হতে শুরু করে। এ বার প্রশ্ন উঠবে, তার সঙ্গে উচ্চ তাপমাত্রার কী সম্পর্ক?
ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
আরও পড়ুন:
সাধারণত মনে করা হয়, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস এবং বার্ধক্যের কারণে স্ট্রোক হয়। কিন্তু তা ছাড়াও প্রবল তাপ এবং জলশূন্যতা মস্তিষ্কের এবং রক্তনালির উপর চাপ সৃষ্টি করে। ভারতের জন্য এটি বিশেষ ভাবে প্রাসঙ্গিক, কারণ প্রতি বছর তাপমাত্রা বাড়ছে। গ্রীষ্মের সময়ে প্রবল ঘাম হয়ে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে যায়। ফলে শরীর শুষ্ক হতে থাকে। আর সেই পরিমাণ তরল যদি আবার সময় মতো শরীরে না পৌঁছোয়, তা হলে জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি তৈরি হয়। আর জলশূন্যতা তৈরি হয়ে গেলে ব্যক্তির রক্ত আরও ঘনীভূত হতে থাকে। এর ফলে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকিও তৈরি হয়। আর রক্ত জমাট বেঁধে গেলে মস্তিষ্কে অক্সিজেন-সমৃদ্ধ রক্তের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়, যা ইস্কেমিক স্ট্রোকের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এমন আবহাওয়ায় কার্ডিয়োভাসকুলার সিস্টেমের উপরও চাপ বেড়ে যায়। এর ফলে ধমনীগুলি প্রসারিত হয় এবং হৃৎপিণ্ড পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ করার চেষ্টা করে। বয়স্কদের বা যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, হার্টের রোগ বা উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য এই পরিস্থিতি প্রাণনাশক হতে পারে। এ ছাড়া, ডিহাইড্রেশনের কারণে রক্তচাপ দ্রুত কমে যেতে পারে, ফলে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ সীমিত হয়ে যায়।
সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হল, এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলি এড়িয়ে যান অনেকে। কারণ, প্রথম প্রথম বমি ভাব, দুর্বলতা, শরীরের এক দিকে অসাড়তা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, প্রবল মাথা ব্যথা, আবছা দৃষ্টিশক্তি, মাথা ঘোরানোকে অনেকেই গরমের জেরে ক্লান্তি ভেবে ভুল করেন। কিন্তু সেগুলিই আসলে সতর্কবার্তা। তাই তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ করা জরুরি।