বয়স ৫২, তবে নেচে গেয়ে মঞ্চ মাতাতে তাঁর ক্লান্তি আসে না। কখনও সুর এতটুকু বিচ্যুত হয় না। মঞ্চে তিনি যখন মাইক ধরেন, তাঁর সুরে ভেসে যায় আট থেকে আশি। কখনও সেই সুরের ছন্দে নেচে ওঠে দর্শকমহল, কখনও আবেগে ভেসে যায়। গায়ক সোনু নিগমের ‘দিওয়ানা’-র সংখ্যা এই বয়সেও অগুন্তি।
কিন্তু কী করে তিনি এত চনমনে থাকেন, মাতিয়ে রাখেন মঞ্চ? ফিটনেস রহস্য নিজেই ফাঁস করলেন সোনু। তাঁর সাম্প্রতিক ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, সূর্য নমস্কার, যোগাসন, পিলাটেজ়-সহ নানা ধরনের শরীরচর্চা করছেন তিনি।
অতীতেও সোনু নিগম জানিয়েছিলেন, রেকর্ডিংয়ের আগে তিনি ৫-৬ দিন অন্তত জিমে যান। কারণ, নিয়ম করে শরীরচর্চার পর তাঁর মনে হয় ফুসফুসের জড়তা কেটে গেল।
কারও মনে প্রশ্ন আসতেই পারে তিনি সুরসাধক, তাঁর কাজ সুরের। সঙ্গীতচর্চার পাশাপাশি শরীরচর্চার কী প্রয়োজন? ফিটনেস প্রশক্ষিকেরা বলছেন, মঞ্চে টানা ২-৩ ঘণ্টা গান গাওয়া, নাচ করতে হলেও দমের দরকার। কার্ডিয়ো এক্সারসাইজ়, যেমন দৌড়, সাইক্লিং, রোয়িং-এর মতো কসরতে শরীরে অক্সিজেন চলাচল ভাল হয়। হার্টে অক্সিজেন যায় বেশি। শ্বাসযন্ত্রের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
আরও পড়ুন:
লুধিয়ানা নিবাসী পুষ্টিবিদ এবং ফিটনেস প্রশিক্ষক গরিমা গয়াল জানাচ্ছেন, ওজন নিয়ে ‘স্কোয়াট’, ‘ডেডলিফ্ট’-এর মতো শরীরচর্চায় হাড় এবং পেশির জোর বাড়ে। অস্থিসন্ধির ব্যথাও এড়ানো যায়, এই ধরনের ব্যায়ামে।
পঞ্চাশোর্ধ্ব পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমতে থাকে। ফলে পেশিক্ষয়, অস্থিসন্ধির ব্যথার মতো নানা সমস্যা হানা দেয়। তা ছাড়া, বিপাকহারের গতি শ্লথ হলে ওজন বেড়ে যাওয়ারও ভয় থাকে। এই বয়সে মঞ্চ মাতাতে হলে ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পেশি মজবুত রাখাও জরুরি। তার জন্যই প্রয়োজন সঠিক কায়দায় শরীরচর্চা।
রেজ়িস্ট্যান্স ট্রেনিং-এ( রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড, ডাম্বেল ব্যবহার করে পেশির সহনশীলতা, শক্তি বৃদ্ধি করা) শুধু শরীর ভাল রাখে না, এতে মানসিক চাপ, উদ্বেগও বশে থাকে। ব্যায়াম করলে এন্ডরফিন নামক হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে, যা মন ফুরফুরে রাখে।
শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপ ঠিক রাখতেও পিলাটেজ়, যোগাসন, স্ট্রেচিং-এ কাজে আসে। মঞ্চে শুধু গায়ক সোনু নিগম থাকেন না, দর্শক দেখেন একজন পারফর্মারকে। এই ধরনের ব্যায়াম করলে, আচমকা পেশিতে টান লাগার ঝুঁকি কমে, পেশির স্থিতিস্থাপকতাও বজায় থাকে। তা ছাড়া প্রাণয়ামে ফুসফুসের কার্যক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। উঁচু তারে গান গাওয়ার জন্য দমের দরকার। আর ঠিক সেই কারণেই একজন গায়কেরও শারীরিক ফিটনেস জরুরি।