ফোনে এমনই আটকে আছেন যে ঘুমের বারোটা পাঁচ। বুঝতে পারছেন থামতে হবে। হয়তো ভাবছেনও আর পাঁচ মিনিটে ফোন বন্ধ করে ঘুমোতে যাবেন। কিন্তু সেই পাঁচ মিনিট কোথা দিয়ে ৫৫ মিনিট হয়ে যাচ্ছে টেরও পাচ্ছেন না। খেয়াল হচ্ছে তখন যখন জানলা দিয়ে ভোরের পাখির ডাক ভেসে আসছে। কিংবা আকাশে আলো ফুটছে। ঘড়িতে ভোর চারটে বা পাঁচটা। আর তিন কি চার ঘণ্টা পরে ঘুম থেকে ওঠার কথা আপনার। কিন্তু তখন যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। বাকি দিনটা নিজেকে ক্লান্তিতে ডুবিয়ে রাখার ব্যবস্থা নিজে হাতেই করে ফেলেছেন। এতে যে শুধু স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে, তা-ই নয়। নষ্ট হচ্ছে মহামূল্যবান কিছু সময়ও। যা হয়তো কোনও ভাল কাজে ব্যবহার করতে পারতেন।
ডিজিটাল যুগে প্রতি মুহূর্তে নিজেকে মোবাইলে ডুবিয়ে রাখাটা এখন আর স্রেফ অভ্যাস নয়। এটি পারিপার্শ্বিকের সঙ্গে জুড়ে থাকার একটা প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ জুড়ে না থাকলে ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর এই যে নিজেকে প্রতি আপডেটেড রাখার নেশা, তা অনেকের ক্ষেত্রে মানসিক চাপেরও কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সুস্থ থাকতে তাই ফোনের আসক্তি কাটানোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক থেকে শুরু করে যাপন প্রশিক্ষকেরাও।
কী ভাবে ফোনের আসক্তি কাটাবেন?
চেষ্টা করেননি তা নয়। কিন্তু হয়ে ওঠেনি। তবে এ বছর আর আলগা না দিয়ে, যা ভেবেছেন, তা করে ফেলুন। কয়েকটি টোটকা এ ব্যাপারে সাহায্য করতে পারে।
১. ‘নো-ফোন জ়োন’
বাড়ির কিছু জায়গা বেছে নিন, যেখানে কোনও মোবাইল বা গ্যাজেট থাকবে না। সেটা খাওয়ার ঘর হতে পারে, শোওয়ার ঘরও হতে পারে। যে জায়গাটিই বেছে নেবেন সেখানে নিয়ম পালনের শর্ত অক্ষরে অক্ষরে মানতে হবে। তবে শোওয়ার ঘরে ‘নো ফোন জ়োন’ যদি না-ও রাখেন, তবে রাতে ঘুমানোর ১ ঘণ্টা আগে এবং ঘুমনোর ১ ঘণ্টা পরে ফোন সরিয়ে রাখুন। যদি রাতে ফোন অ্যালার্ম হিসেবে ব্যবহার করেন, ফোন না ব্যবহার করে একটি অ্যানালগ ঘড়ি কিনে নিন। তাতে সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোনে হাত দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।
২. নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা
ফোনের বেশিরভাগ নোটিফিকেশনই বিশেষ জরুরি নয়। কিন্তু তা যেকোনও মুহূর্তে মনযোগ নষ্ট করে দিতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ করে রেখে দিন। এতে ফোনের দিকে বারবার মনযোগ চলে যাওয়ার যে প্রবণতা, তা অনেক কমে যাবে।
৩. স্ক্রিন টাইম ট্র্যাকিং
আধুনিক স্মার্টফোনে ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্য সম্পর্কে খেয়াল রাখার ব্যবস্থাও থাকে। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ‘ডিজিটাল ওয়েলবিং’ এবং অ্যাপলের ফোনে ‘স্ক্রিনটাইম’ নামের বিশেষ ফিচার থাকে। প্রতি দিন ফোনের পর্দায় কত ক্ষণ তাকিয়ে থাকছেন, কোন অ্যাপে কত সময় ব্যয় করছেন, সেই সব তথ্য রেকর্ড হয় তাতে। ওই বিশেষ সুবিধার সাহায্য নিয়ে সমাজ মাধ্যম বা গেম খেলার জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিন।
৪. পছন্দের একটি কাজ বেছে নিন
মোবাইল না থাকলে কোন কাজটি করতে সবচেয়ে বেশি ভাল লাগে? নিজেকে প্রশ্ন করুন। সেটা বই পড়া হতে পারে, বাগান করা, ছবি আঁকা, গান শোনা বন্ধুবান্ধব বা প্রিয়জনদের সঙ্গে কথা বলা, আড্ডা দেওয়া, রান্না করা— যা খুশি হতে পারে। দিনের একটা সময় প্রতি দিন সেই কাজটির জন্য কিছুটা সময় বরাদ্দ করুন। এতে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যও ভাল থাকবে।
৫. ছোট ছোট পদক্ষেপ
একবারে এক দিনেই ফোন ছেড়ে দেওয়া কঠিন মনে হতে পারে। তাই ছোট ছোট পদক্ষেপ করুন। যেমন, প্রতি সপ্তাহে এক দিন অন্তত কয়েক ঘণ্টার জন্য ফোন পুরোপুরি বন্ধ রাখুন। বা আপৎকালীন প্রয়োজন ছাড়া হাত দেবেন না। এই সময়টা কী করবেন, তা-ও আগে থেকে ঠিক করে রাখুন। হতে পারে কিছুটা সময় বাগানে বা ছাদে হাঁটাচলা করলেন। বা সেই সময়ে গাছপালা রয়েছে এমন জায়গা থেকে ঘুরে এলেন। বা নিজের সঙ্গে নিজের মতো করে সময় কাটালেন। দেখবেন নিয়ম করে এটা করলে একটা সময় কোথাও না গেলেও ওই সময়ে ফোনে হাত দেওয়ার ইচ্ছে হবে না।