কোমরের নীচ থেকে যন্ত্রণা। নিতম্ব, ঊরু হয়ে পা দিয়ে সেই ব্যথা বিদ্যুতের ঝলকের মতো পৌঁছে যায় পায়ের পাতা পর্যন্ত। এই ব্যথার নেপথ্যে থাকতে পারে সায়াটিক স্নায়ু। চিকিৎসকেরা বলছেন, মানবদেহের দীর্ঘতম এই স্নায়ুটিতে কোনও ভাবে আঘাত লাগলে সুচ ফোটানোর মতো অনুভূতি বা ঝনঝনে ব্যথা হতে পারে। যে কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হতে পারে। গরম সেঁক এবং ওষুধ দিয়ে সেই কষ্ট সাময়িক ভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তবে যোগ প্রশিক্ষকেরা বলছেন, নিয়মিত মকরাসন অভ্যাস করলে এই সমস্যার সুরাহা মিলতে পারে।
পুরাণ অনুসারে ‘মকর’ হল কুমিরের মতোই এক ধরনের জলজন্তু। মাছ, হাতি এবং কুমিরের সংমিশ্রণে তৈরি এক কাল্পনিক জীব, গঙ্গাদেবীর বাহনও মকর। মতান্তরে সংস্কৃতে ‘মকর’ শব্দের অর্থ কুমির। এই আসন করতে গেলে দেহের ভঙ্গি হয় অনেকটা তেমনই।
আরও পড়ুন:
কী ভাবে করবেন?
· ম্যাটের উপর উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। মাথা মাটি থেকে যতটা সম্ভব উপরে তুলুন। বুক, পেট মাটিতে ঠেকে থাকবে। একই সঙ্গে দু’হাত ভাঁজ করে মাথার পিছনে নিয়ে যান। দু’হাতের আঙুল সংযুক্ত করে মাথার উপর রাখুন।
· একই সঙ্গে মাটিতে সমান্তরাল ভাবে রাখা পা দু’টি ধীরে ধীরে উপরে তুলুন। হাঁটু পর্যন্ত তুলে ফেলতে পারলে ভাল। তবে এক দিনে তা সম্ভব নয়। খেয়াল রাখবেন, পেট থেকে ঊরু যেন মাটি স্পর্শ করে থাকে।
· শ্বাস নিতে নিতে মাটি থেকে মুখ, গলা এবং পা উপরের দিকে তুলবেন। ৩০ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন। তার পর শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে একই ভাবে মাথা থেকে হাত সরিয়ে দেহের দু’পাশে রাখুন। পা দু’টিও মাটিতে নামিয়ে ফেলুন। মাথা রাখুন মাটিতে, আরামদায়ক অবস্থানে।
· মাটি থেকে পা তোলা এবং আবার নামিয়ে আনা— এই গোটা বিষয়টা সম্পূর্ণ করলে তবে একটা রাউন্ড হবে। মোটামুটি পাঁচ-সাত রাউন্ড অভ্যাস করতে পারলে ভাল।
আরও পড়ুন:
কেন করবেন?
কোমর, পায়ের ব্যথা কমানোর পাশাপাশি হজমশক্তি উন্নত করতেও সাহায্য করে এই আসন। একটানা বসে থেকে পিঠেও ব্যথা হয়। এই আসন করলে পেশির ব্যথায় আরাম মেলে। রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। অনিদ্রাজনিত সমস্যা দূর করে।
সতর্কতা:
যাঁদের আগে থেকেই কাঁধে বা ঘাড়ে ব্যথা রয়েছে, তাঁরা এই আসন করবেন না। কোমরের চোটের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এই আসন অভ্যাস করা নিষিদ্ধ।