Advertisement
E-Paper

‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক’ ভিডিয়ো: সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়ে জনস্বার্থ মামলা, থানায় অভিযোগ দায়ের! কী দাবি হিমন্তের?

শনিবার অসম বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডল থেকে পোস্ট হওয়া একটি ভিডিয়োকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত। যদিও বিতর্ক শুরু হওয়ার পর পিছু হটে ওই ভিডিয়ো সমাজমাধ্যম থেকে মুছে ফেলা হয়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৫৯
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। — ফাইল চিত্র।

এ বার গড়াল সুপ্রিম কোর্টে। দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা। মামলাকারীর আবেদন, মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য মন্ত্রীদের করা মুসলিম বিরোধী মন্তব্য সাংবিধানিক দায়িত্ব লঙ্ঘনের উদাহরণ।

দেশের শীর্ষ আদালতে দায়ের করা মামলায় মামলাকারীদের আবেদন, মুসলিম বিরোধী এ ধরনের মন্তব্য সাংবিধানিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। সরকারি উচ্চপদের কর্তব্য ক্ষুণ্ণ করে। এই ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়ে মামলা দায়ের করেছেন সমাজকর্মীরা। জানা গিয়েছে, হিমন্ত একা নন, বিভিন্ন সময় বিজেপিশাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের একাধিক মন্তব্যকে ‘উস্কানিমূলক’ বলে উল্লেখ করে উদাহরণ হিসাবে আবেদনের সঙ্গে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

অন্য নেতা, মন্ত্রী বা সরকারি উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বক্তব্যের কথা থাকলেও মামলা হয় হিমন্তের ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পরই। শনিবার অসম বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডল থেকে পোস্ট হওয়া একটি ভিডিয়োকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত। যদিও বিতর্ক শুরু হওয়ার পর পরই পিছু হটে ওই ভিডিয়ো সমাজমাধ্যম থেকে মুছে ফেলে বিজেপি। তবে বিতর্ক পিছু ছাড়েনি।

শনিবার ওই ভিডিয়োকে সামনে রেখে হিমন্তের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন মিমের প্রধান আসাদউদ্দীন ওয়েইসী। হায়দরাবাদের সাংসদের দাবি, ‘‘এ ধরনের ঘৃণা এবং গণহত্যামূলক বক্তব্য এখন স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক।’’ হিমন্তের বিরুদ্ধে মুসলিম সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ওয়েইসী। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছর ধরে নানা সময়ে হিমন্ত এই ধরনের মন্তব্য করে আসছেন।

থানায় অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন হিমন্ত। সংবাদসংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অসমের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি জেলে যেতে প্রস্তুত। যদি উনি (ওয়েইসী) আমার বিরুদ্ধে কোনও মামলা করে থাকেন, তবে আমায় গ্রেফতার করুন। আমার কোনও আপত্তি নেই।’’ কিন্তু বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে তাঁর অবস্থানে তিনি অনড় থাকবেন বলে জানান।

অন্য দিকে, কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ এবং তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তানের যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন হিমন্ত। সেই নিয়েও বিতর্ক চলছে অসমে। রবিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে অসমের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ‘‘অসমের এক ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁর পাকিস্তানের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। দেশকে এটা জানানো আমার কর্তব্য। আমি যখন সিঙ্গাপুরে ছিলাম, তখন একটি ছবি আবিষ্কার করি। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, অসমের এক সাংসদ যুবকদের নিয়ে পাকিস্তানি দূতাবাসে গিয়েছেন।’’ সেই ব্যক্তি যে গগৈ, তা পরে স্পষ্ট করে দেন হিমন্ত। শুধু গগৈ একা নন, তাঁর স্ত্রী এলিজাবেথ কলবার্নের প্রসঙ্গ টেনে অসমের মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘২০১১ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানে গৌরবের স্ত্রীর কর্মরত থাকার বিষয়টিও আমরা খুঁজে পেয়েছি।’’ হিমন্তের সেই দাবি উড়িয়ে দেন গগৈ। হিমন্তের বিরুদ্ধে পাল্টা আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। গগৈয়ের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের দুই শিশুর ছবি ও সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে শিশু সুরক্ষা ও অধিকার সংক্রান্ত আইন ভেঙেছেন, তাই তিনি এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় আদালতের দ্বারস্থ হবেন।

Himanta Biswa Sarma Assam
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy