শিশুদের চোখের সমস্য স্থায়ী হয়ে যাওয়ার কারণ সঠিক সময়ে তাদের চোখ বা দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করা হয় না। এবং এই সমস্যা দিনের পর দিনের বেড়ে চলেছে। শিশু যদি প্রায়ই বলে যে, চোখে ব্যথা হচ্ছে বা চোখ দিয়ে জল পড়ছে, তা হলে সাবধান হতে হবে। বসন্তের এই সময়ে নানা রকম অ্যালার্জির সংক্রমণ বাড়ে। ইদানীং তা আরও বেড়েছে। বাতাসে ভাসমান রাসায়নিক কণা, ফুলের রেণু বা দূষিত গ্যাসের কারণে চোখের সংক্রমণ বেশি হচ্ছে। কনজাঙ্কটিভাইটিস তো বটেই, কর্নিয়াতেও সংক্রমণ হতে দেখা যাচ্ছে।
অনেক সময়ে চোখের পাওয়ার বেড়ে যাওয়ার কারণেও ‘লেজ়ি আই’ হয়। সে ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে চোখ দেখিয়ে চশমা নেওয়া জরুরি। আবার ছোটবেলাতেই চোখে ছানি পড়া বা কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণেও চোখে ব্যথা হতে পারে। চক্ষুরোগ চিকিৎসক সৌমেন মণ্ডল জানিয়েছেন, শিশু যদি সব সময়েই বলে যে, চোখে ব্যথা হচ্ছে, লেখা পড়তে সমস্যা হচ্ছে, তা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। ছানি পড়লে মণির মধ্যে সাদা ছোপ দেখতে পাবেন। শিশু সোজা ভাবে দেখছে, না কি ঘাড় হেলিয়ে দেখতে চেষ্টা করছে, তা খেয়াল করুন। চোখ থেকে অনবরত জল পড়াও ভাল লক্ষণ নয়।
আরও পড়ুন:
কর্নিয়াল অ্যাবারেশন নিয়েও সতর্ক থাকতে হবে। খেলতে গিয়ে বা ধারালো কিছুর খোঁচা লেগে চোখে ব্যথা হলে সাবধান হতে হবে। অনেক সময়ে বাইরে থেকে বোঝা যায় না, কিন্তু আঘাত লেগে কর্নিয়ায় আঁচড় পড়তে পারে। তখন আলো প্রতিফলনে সমস্যা হয়, ফলে দৃষ্টি ঝাপসা হতে থাকে এবং চোখে ব্যথা শুরু হয়। একে বলে কর্নিয়াল অ্যাবারেশন।
বাবা-মায়েরা কখন সতর্ক হবেন?
চোখের রং লাল হয়ে গেলে এবং চোখে চুলকানি শুরু হলে, বুঝতে হবে কনজাঙ্কটিভাইটিসের সংক্রমণ। নিজে থেকে আই ড্রপ না দিয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
অশ্রুগ্রন্থি বন্ধ হয়ে থাকা শিশুর একটি চোখের একটি মারাত্মক রোগ। এ ক্ষেত্রেও চোখে ব্যথা হবে, চোখের চারপাশ ফুলে উঠবে।
শিশুকে শেখাতে হবে, হাত না ধুয়ে যেন বার বার চোখে হাত না দেয়। গরমের সময়ে নরম সুতির রুমাল রেখে দেবেন শিশুর স্কুলব্যাগে। রুমাল দিয়ে মুখ ও চোখ মোছা শেখাবেন।
প্রতি দিন চোখ জল দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে। মাছ, ডিম ,বেশি ফল সব্জি খাওয়াতে হবে শিশুকে।
প্রতি ৬ মাস অন্তর শিশুর চোখের পরীক্ষা করাতে হবে।