জল ডুবে থাকতে হবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। অথবা জলের স্রোতে বিপরীতে সাঁতার কাটতে হবে। তাতেই শরীরের সমস্ত পেশি ও স্নায়ুতে চাপ পড়বে। ক্ষত নিরাময় তো হবেই, শরীরের রক্ত সঞ্চালনও বাড়বে। চিকিৎসার এই পন্থা নতুন নয়, ধারণা পুরনো। তবে বর্তমান সময়ে এমন চিকিৎসার উপর ভরসা করছেন অনেকেই। এর নাম হাইড্রোথেরাপি। বাতের ব্যথায় যাঁরা হাঁটাচলা করতে পারেন না অথবা স্নায়ুর রোগে ভুগছেন দীর্ঘ সময় ধরে, তাঁরা হাইড্রোথেরাপি করে উপকার পাচ্ছেন।
এই থেরাপির জন্য উষ্ণ জল বা ঠান্ডা জল ব্যবহার করা হয়। পুলে নেমে শরীর ডুবিয়ে রাখতে হয় অনেক ক্ষণ। প্রশিক্ষকেরা শরীর বুঝে জলের তাপমাত্রা কমান বা বাড়িয়ে দেন। এতে লাভ হয় অনেকগুলো। পর্যায়ক্রমে গরম এবং ঠান্ডা জল ব্যবহার করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা যায়। আবার জলে নেমে ফিজ়িয়োথেরাপিও করানো হয়। একে বলে ‘হাইড্রো ম্যাসাজ’। জলের স্রোত ও তাপমাত্রাকে কাজে লাগিয়ে শরীরের বিভিন্ন পেশির স্ট্রেচিং করানো হয়।
আরও পড়ুন:
হাইড্রোথেরাপির ধরন এক রকম নয়। রোগ অনুযায়ী এর পদ্ধতি আলাদা। জলে নেমে ব্যায়াম, জলের তাপমাত্রায় পর্যায়ক্রমিক বদল এনে পুল-বাথ, তা ছাড়া হাইড্রো ম্যাসাজ, পুল ট্রেডমিল অর্থাৎ, জলে নেমে হাঁটা বা দৌড়োনোর চেষ্টা, স্টিম বাথ-সহ নানা রকম পদ্ধতি আছে।
পাবমেড থেকে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে জানানো হয়েছে বয়স্কদের জন্য জলের ব্যায়াম বা হাইড্রোথেরাপি খুবই কার্যকরী। একে বলা হয় ‘অ্যাকোয়া অ্যারোবিক থেরাপি’। পা বা কোমরে ব্যথার কারণে যাঁরা শরীরচর্চা করতে পারছেন না, তাঁরা নিশ্চিন্তে জলে নেমে ব্যায়াম করতে পারেন। কেন জলের ব্যায়াম বয়স্কদের জন্য সুবিধাজনক, সে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন গবেষকেরা। মাটিতে দাঁড়িয়ে যখন শারীরিক কসরত করা হয়, তখন শরীরের উপরে মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রভাবও কাজ করে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, কেউ যখন ওজন তুলে ব্যায়াম করছেন, তখন শরীর যতটা না পরিশ্রম করছে, তার চেয়েও দ্বিগুণ কসরত করতে হচ্ছে মাধ্যাকর্ষণের বিরুদ্ধে সেই ওজনটিকে উপরে তুলতে। সে জন্যই এই ধরনের ব্যায়ামে পরিশ্রম ও কষ্ট, দুটোই বেশি হয়। বয়স্কদের ক্ষেত্রে তা করা সম্ভব নয়। তাই তাঁদের জন্য স্ট্রেংথ এক্সারসাইজ় মানেই হল ‘পুল অ্যারোবিক্স’। জলে নামলে শরীরের ওজন কম মনে হয়। যাঁর ওজন ৬০ কেজি, তিনি জলে নামলে মনে হবে, ওজন অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। ওই অবস্থায় ব্যায়াম করলে শরীরের উপর বেশি চাপ পড়বে না।
ধরা যাক, যিনি হাঁটুর ব্যাথায় পা তুলতে পারছেন না, তিনি যদি জলে নেমে সাধারণ পা ছোড়াছুড়ি করেন, তাতেও কার্ডিয়ো করার মতোই ব্যায়াম হবে। এতে হাঁটু ও শরীরের অস্থিসন্ধিগুলির জোর বাড়বে। বয়সকালে শরীরের ভারসাম্য কমে যায়, তাই জলে নেমে ব্যায়াম করা সুবিধাজনক।
মানসিক চাপ বা অবসাদ কাটাতেও এর প্রয়োগ করা হচ্ছে। আবার হরমোনের ভারসাম্যহীনতায় যিনি ভুগছেন, তাঁর জন্যও কার্যকরী হতে পারে এই থেরাপি। এক একটি সেশনের খরচ পড়ে ২০০০ থেকে ৫০০০ টাকা। তবে কী ধরনের হাইড্রোথেরাপি করানো হবে, তার উপর খরচ নির্ভর করবে।