Advertisement
E-Paper

পুরুষ বন্ধ্যত্বেরও সমাধান হতে পারে সঠিক ডায়েটে, খাওয়ার ধরন বদলালেই বাড়বে শুক্রাণুর মান

পুরুষদের শুক্রাণুর গুণমান কমে যাওয়ার অন্যতম বড় কারণ হল ডেস্কে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ। এ ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার দায় অনেকটাই। চর্বিজাতীয় বা মশলাযুক্ত খাবার, বিভিন্ন নেশা, রাতের শিফটে কাজ এবং অতিরিক্ত মানসিক সমস্যা তৈরি করছে বন্ধ্যত্ব। এরও সমাধান হতে পারে খাওয়াদাওয়ার ধরন বদলেই।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ ১৫:৪৩
What are the best foods to include in male infertility diet

পুরুষের শুক্রাণু মান বাড়বে, কী কী খেতে হবে? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বন্ধ্যত্বের সমস্যা পুরুষেরও হতে পারে। শুক্রাণুর সংখ্যা ও মান কমে যাওয়াটা অসুখের পর্যায়েই পড়ে। আর এ অসুখ চেপে রাখা হয় বেশির ভাগ সময়েই। অথচ এর সমাধান আছে। নিয়মিত চিকিৎসাতেই সারে তা। চিকিৎসার পাশাপাশি সঠিক ডায়েটও জরুরি। খাওয়াদাওয়ার ধরন বদলালে অনেক জটিল সমস্যারই সমাধান হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা। ওষুধের পাশাপাশি জোর দেওয়া হচ্ছে পথ্যের দিকেও। গোটা বিশ্বেই এই ধারা চলছে। বন্ধ্যত্বের সমস্যাও তার মধ্যে একটি। হরমোনের গোলমালে যে সমস্যার সূত্রপাত, জীবনধারার বদলেই তার নিরাময় সম্ভব।

কেন কমছে শুক্রাণুর মান?

পুরুষদের দীর্ঘ ক্ষণ ডেস্কে বসে কাজ এবং কম শারীরিক কার্যকলাপ বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এমনই মত চিকিৎসক মল্লিনাথ মুখোপাধ্যায়ের। যিনি টানা ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় বসে রয়েছেন, তাঁর শরীরে তাপমাত্রার বদল হবে। বিশেষ করে শুক্রাশয়ের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। পুরুষের শরীরের এই প্রত্যঙ্গটির তাপমাত্রা শরীরের বাকি অংশের তাপমাত্রার চেয়ে ২-৪ ডিগ্রি কম থাকে। এবং তা থাকাই বাঞ্ছনীয়। তা হলেই শুক্রাণুর উৎপাদন স্বাভাবিক ভাবে হবে। শুক্রাশয়ের তাপমাত্রা যদি বৃদ্ধি পায়, তা হলে শুক্রাণুর উৎপাদনে প্রভাব পড়বে। সেটিই হচ্ছে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অত্যধিক নেশা করার প্রবণতাও দায়ী।

মেয়েদের যেমন ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন যেমন যৌনইচ্ছা, সন্তানধারণ থেকে শুরু করে শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সামলায়, ছেলেদের তেমনই জিয়নকাঠি হল টেস্টোস্টেরন হরমোন। শুক্রাণু তৈরি, পুরুষালি শরীরের গঠন সবের পিছনেই কলকাঠি নাড়ে এই হরমোনটিই। সেটির ক্ষরণে গোলমাল হলেও বন্ধ্যত্ব আসতে পারে। এই বিষয়ে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল সায়েন্সের (আইসিএমআর) নির্দেশিকা বলছে, খাওয়াদাওয়ার ধরন বদলালে ও কিছু বিশেষ খাবার রোজের ডায়েটে রাখলে হরমোনের গোলমাল হবে না। বন্ধ্যত্বের ঝুঁকিও কমবে।

কী কী খেতে হবে?

জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে। জিঙ্ক টেস্টোস্টেরনের ক্ষরণ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ছোট মাছ, লিন মিট, কুমড়োর বীজ, ছোলা, মুসুর ডাল জিঙ্কের ভাল উৎস।

শুক্রাণুর মান বৃদ্ধিতে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও রাখতে হবে পাতে। নানা রকম বাদাম ও বীজ ওমেগা ৩-এর ভাল উৎস। ভিটামিন এবং খনিজে সমৃদ্ধ আখরোট, তিসির বীজ, চিয়া বীজে ওমেগা ৩ থাকে। নানা ধরনের মাছও এর ভাল উৎস। অনেকেই হয়তো জানেন না, কালো সর্ষের মধ্যেও ভরপুর মাত্রায় থাকে ওমেগা ৩। বাঙালিদের রান্নায় সর্ষের ব্যবহার হয়ই। সর্ষেবাটা দিয়ে মাছ বা অন্যান্য নিরামিষ পদও রাঁধা হয়। সয়াবিনেও ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড আছে।

টক জাতীয় ফল ও যে সব সব্জিতে ভিটামিন সি আছে, সেগুলিও খেতে হবে নিয়ম করে। লেবু, আমলকি, পেয়ারা, জাম ও রঙিন শাকসব্জিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যে সব পুরুষের শরীরে ভিটামিন ডি ও ক্যালশিয়াম কম, তাঁদের টেস্টোস্টেরন ক্ষরণে গোলমাল হয় বেশি। তাই ডিমের কুসুম, মাশরুম, দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার বেশি করে খেতে হবে।

শুক্রাণুর গুণমান বৃদ্ধিতে লাইকোপিন নামক অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টও জরুরি। তরমুজ, টম্যাটোতে লাইকোপিন থাকে। কাঁচা টম্যাটো খেলে উপকার বেশি হবে।

রসুনে থাকা অ্যালিসিনের কারণেও শুক্রাণুর মান বাড়ে। তবে প্রয়োজনের অধিক রসুন খাওয়া ঠিক নয়।

যে কোনও ডায়েটই শরীর বুঝে করতে হয়। তাই শরীরে সমস্যা হলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Testosteron Male Fertility infertility
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy