নাদুসনুদুস ভুঁড়ি দেখলে, অনেকেরই মনে হয় এ বুঝি সুখী পুরুষের লক্ষণ। তা ছাড়া, বয়স বাড়লে মেদ জমবে, সে-ও অস্বাভাবিক নয়। নারী-পুরুষ নির্বেশেষে পেটে মেদ জমার প্রবণতা দেখা যায়। কখনও সেই নরম, কখনও শক্তপোক্ত। পেটে হাত দিলে তা বেশ টের পাওয়া যায়।
দিল্লির একটি হাসপাতালের পেটের রোগের চিকিৎসক শুভম বাৎস্য জানাচ্ছেন, এই ভুঁড়িতেই লুকিয়ে বিপদ। বিশেষত শক্তপোক্ত মধ্যদেশটি হল ভিসেরাল ফ্যাটের ইঙ্গিতবাহী। ভিসেরাল ফ্যাট জমতে পারে লিভার, পাকস্থলী, অন্ত্র, অগ্ন্যাশয়ের উপরেও। আমেরিকান অ্যানাস্থেশিওলজিস্ট কুণাল সুদ জানাচ্ছেন, এই ধরনের ভিসেরাল ফ্যাট লিভারের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কারণ, এই ধরনের ফ্যাট থেকে প্রদাহনাশক রাসায়নিক নিঃসৃত হয়, যা রক্তে মেশে। এই ফ্যাট নীরবে লিভারের ক্ষতি করতে পারে।
১। অনেকেই সপ্তাহশেষে পার্টি করেন, মদ্যপান করেন। কারও কারও ধারণা, এই ভাবে মদ্যপানে ক্ষতি কম। চিকিৎসক মনে করাচ্ছেন, কেউ নিয়মিত বা সপ্তাহের শেষে দু’দিন মদ খান। লিভারের জন্য দুটোই ক্ষতিকর। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মদ্যপানের অভ্যাস এড়িয়ে চলাই ভাল। মদ্যপানের ফলে লিভারে ফ্যাট জমার প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পায়।
২। ফ্রুক্টোজ় বা অতিরিক্ত চিনি যুক্ত পানীয়ও লিভারের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। লিভার ফ্রুক্টোজ় বিপাকে সাহায্য করলেও, এতে প্রত্যঙ্গটির উপর বাড়তি চাপ পড়ে। বিশেষত যখন সেটি তরল আকারে খাওয়া হয়, সঙ্গে কোনও ফাইবার থাকে না। ফ্রুক্টোজ সরাসরি চর্বিতে পরিণত হয়, ট্রাইগ্লিসারইডের মাত্রা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। বিভিন্ন কার্বোনেটেড পানীয়ে ফ্রুকোজ় থাকে। বাজারচলতি পানীয়ের বদলে লস্যি, ঘোল, পাতিলেবুর শরবত, টাটকা ফলের রস পানীয় হিসাবে বেছে নেওয়া ভাল।
আরও পড়ুন:
৩। কিছু কিছু ওষুধ, বিশেষত মদ্যপানের আগে বা পরে খেলে লিভারের উপরে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যে কোনও ওষুধ মুড়ি–মুড়কির মতো বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া ঠিক নয়।
৪। প্রক্রিয়াজাত খাবারও নিঃশব্দেই লিভারের ক্ষতি করে। এই ধরনের খাবার সুস্বাদু বলে তা খাওয়ার ঝোঁক বাড়ছে। তবে প্রক্রিয়াজাত খাবার ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্সের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বেশি খেলে, শরীরে ইনসুলিন থাকা সত্ত্বেও হরমোনটি ঠিক ভাবে কাজ করতে পারে না। খাওয়া দরকার টাটকা শাকসব্জি, ফল, দানাশস্য।
৫। ভিসেরাল ফ্যাটও লিভারের জন্য ঝুঁকির। লিভারে ফ্যাট জমলে কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে। এই হরমোনটি খাবারের শর্করাকে কোষে পৌঁছোতে এবং তা থেকে শক্তি তৈরিতে সাহায্য করে। কিন্তু ইনসুলিন ঠিক ভাবে কাজ না করলে, রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে শরীরের অন্যান্য প্রত্যঙ্গেও। ফলে পেট মেদ জমলে সতর্ক হওয়া জরুরি। খাদ্যাভ্যাস বদল এবং শরীরচর্চায় মেদ কমানো সম্ভব।