মাড়ি ফোলা, ক্ষয়ে যাওয়া দাঁতে গর্ত, মুখের ঘা, দুর্গন্ধ হওয়া— খুব স্বাভাবিক বলেই ধরে নেন প্রায় সকলেই। তবে ক্ষেত্রবিশেষে, মুখগহ্বরই জানান দিতে পারে, শরীরে কোনও অসুখ বাসা বাঁধল কি না। দিল্লি নিবাসী দাঁতের চিকিৎসক নীতু কামরা জানাচ্ছেন, অনেক সময় সাধারণ সমস্যার আড়ালেও লুকিয়ে থাকতে পারে অসুস্থতার ইঙ্গিত। কোন উপসর্গ কোন অসুখের সঙ্গে সম্পর্কিত?
দাঁতের ক্ষয়-মুখে দুর্গন্ধ
দাঁত ক্ষয়ে গেলে বা মুখে দুর্গন্ধ হলে প্রথমেই মনে করা হয়, ঠিকমতো দাঁত না মাজার জন্যই এটা হচ্ছে। আবার শিশুদের দাঁত ক্ষয়ে গর্ত হয়ে গেলে চকোলেট বা মিষ্টিকে দায়ী করা হয়। অ্যাসিড বা চিনি জাতীয় খাবার খেয়ে মুখ ঠিক করে না ধুলে অবশ্যই দাঁত ক্ষয়ে যেতে পারে। তবে দাঁত ক্ষয়ে যাওয়ার নেপথ্যে থাকতে পারে হজমের সমস্যাও। বিশেষত যাঁদের দাঁতের বাইরের আস্তরণ বা এনামেল খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, দাঁতে গর্ত হয়ে যায়, দাঁত শিরশির করে— তাঁদের অম্বলের ধাত থাকতে পারে। অ্যাসিড রিফ্ল্যাক্সের ফলে এমনটা হয়। মুখে দুর্গন্ধের নেপথ্যে থাকতে পারে ‘জিইআরডি’ অর্থাৎ, ‘গ্যাস্ট্রোইসোফেগাল রিফ্লাক্স ডিজ়িজ়’-ও। সাধারণত এ ক্ষেত্রে চোঁয়া ঢেকুরের মতো সমস্যা হয়। অনেক সময় পেটে সংক্রমণ হলেও মুখে দুর্গন্ধ হয়। দিনে দু’বার ভাল করে দাঁত মাজার পরেও মুখে দু্র্গন্ধ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
মাড়ির রং: মাড়ির রং অনেক সময় ফ্যাকাশে দেখায়। এর নেপথ্যে থাকতে পারে ভিটামিন এবং খনিজের ঘাটতি। আয়রন, ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি হলে মাড়ির রং এমন দেখাতে পারে, মুখে ঘা-ও হতে পারে। ঠোঁট ফাটতে পারে বেশি।
মুখ শুকিয়ে যাওয়া, সংক্রমণ: কারও অনেক সময়েই মুখের ভিতরটা খুব শুকনো লাগে, জল খেলেও সমাধান হয় না। কারও আবার মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ার সমস্যা হয় ঘন ঘন। বার বার সংক্রমণ কিন্তু ডায়াবাটিসের ইঙ্গিতবাহী হতে পারে। রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায় অনেকটাই।
ফুস্কুড়ি, ঘা, ছোপ: মুখের ভিতরে ফুস্কুড়ি, ঘা বা ফোলা অংশ— যদি বেশ কিছু দিন ধরে রয়ে যায়, কিছুতেই না কমে, সতর্ক হওয়া দরকার। জিভে লাল-সাদা ছোপ, আচমকা গলার স্বরে বদল, খেতে গেলে কষ্ট হলে তা এড়িয়ে না যাওয়াই ভাল। প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসার পরেও উপসর্গগুলি না কমলে, তা নিয়ে সতর্ক হওয়া দরকার।
দাঁত নড়বড়ে হয়েও যাওয়া: বয়স হলে দাঁত পড়বেই। তবে বয়সের আগেই দাঁত নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার নেপথ্যে অস্টিয়োপোরোসিস-এর লক্ষণও থাকতে পারে। এতে হাড়ের ঘনত্ব এবং গুণমান কমে যায়। তাতে ক্ষতি হতে পারে চোয়ালেরও। তার ফলেই দাঁত নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে।