বছর তিনেক আগে মহিলা টেনিস খেলোয়াড় ইগা শিয়নটেককে দেখা গিয়েছিল মুখে টেপ লাগিয়ে অনুশীলন করতে। শিয়নটেক সেই সময় জানিয়েছিলেন, সহনশীলতা বৃদ্ধি করার জন্য শরীরে অতিরিক্ত অক্সিজেন প্রবেশের রাস্তা বন্ধ করেছেন তিনি। ইদানীং আবার মুখে টেপ লাগিয়ে ঘুমোনোর চল দেখা গিয়েছে। কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, নাক ডাকার সমস্যা এবং মুখে দুর্গন্ধের সমস্যা থেকে রেহাই পেতে এই পদ্ধতির উপর ভরসা করা যায়।
কী ভাবে করা হয়?
এ ক্ষেত্রে সাধারণত মাইক্রোপোরাস সার্জিক্যাল টেপের সাহায্য ওষ্ঠাধর অর্থাৎ ঠোঁটের উপরিভাগ আর নীচের ভাগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঘুমোনোর সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া বন্ধ করার জন্যই মূলত এই উদ্যোগ। অনলাইনে খোঁজ করলেই চোখে পড়বে মাউথ টেপ স্ট্রিপ। দাম ৫০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে।
মাউথ টেপিংয়ের সুবিধা কী?
১) বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মাউথ টেপিং করলে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার রোগীদের সমস্যা কিছুটা হলেও কমে। ঘুমোনোর সময় এমন রোগীদের শ্বাস নিতে যে অসুবিধা হয়, তা থেকে খানিকটা রেহাই পাওয়া যায় মাউথ টেপ ব্যবহার করলে।
২) মাউথ টেপিংয়ের ফলে নাক ডাকার সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
৩) যাঁদের মুখে দুর্গন্ধ হয় বা রাতের বেলায় বার বার জল তেষ্টা পায়, তাঁদের ক্ষেত্রেও শোয়ার সময় মাউথ টেপিং ভাল কাজে আসে।
৪) ড্রাই মাউথের সমস্যা, ক্যাভিটি, মাড়ির সমস্যা থেকে রেহাই পেতেও মাউথ টেপিংয়ে ভরসা রাখেন কেউ কেউ।
কাদের সমস্যা হতে পারে?
যাঁদের নাক বন্ধ, নাকের পর্দা বাঁকা বা অ্যালার্জির কারণে যাঁদের নাক বন্ধ থাকে, তাঁদের ক্ষেত্রে বায়ুপ্রবাহ বজায় রাখতে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া প্রয়োজন। যাঁদের রিগার্জিটেশন বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে মুখে টেপ লাগালে শ্বাসরোধ হতে পারে। এর ব্যবহারের ফলে উদ্বেগ বাড়তে পারে, অনেক সময় প্যানিক অ্যাটাকও হতে পারে।
ঘুম কম হচ্ছে বলেই এই প্রকাার মাউথ টেপ কিনে ব্যবহার করতে শুরু করছেন কেউ কেউ। এই অভ্যাসটি মোটেও ভাল নয়। ঘুম কম হলে সবার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি। তিনি পরামর্শ দিলে তবেই মাউথ টেপ ব্যবহার করুন।