Advertisement
E-Paper

নারকেল চাষে উৎসাহ বাজেটে, জল-ভরা ফলে পুষ্টির শেষ নেই, রান্নাও করা যায় বাহারি নানা পদ

বাজেটে নারকেল চাষের উন্নতির জন্য বিশেষ প্রকল্পের ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। জল ভরা এই ফলের পুষ্টিগুণ নেহাত কম নয়। তা দিয়ে কী ভাবে করবেন রকমারি রান্না।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:১০
নারকেলের গুণেই ভাল থাকবে স্বাস্থ্য, ফল দিয়ে কী ভাবে রাঁধবেন নানা পদ?

নারকেলের গুণেই ভাল থাকবে স্বাস্থ্য, ফল দিয়ে কী ভাবে রাঁধবেন নানা পদ? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ঝালমুড়ির সঙ্গে একটু নারকেল কুচি, ঝাল-মিষ্টির সুন্দর সমাহার স্বাদই বদলে দেয়। আমিষ হোক বা নিরামিষ, ভারতের নানা প্রান্তে রান্নায় নারকেল দেওয়ার চল রয়েছে। দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্যে নারকেল তেলের রান্না খাওয়ারও চল রয়েছে। প্রসাদ থেকে উৎসবে, রকমারি রান্নায় নারকেল যে শুধু স্বাদ বাড়ায় তা নয়, সুস্বাদু এই ফলের পুষ্টিগুণও নেহাত কম নয়।

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে নারকেলের উৎপাদন বাড়ানোর বিশেষ লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বাজেটে নারকেল চাষের উন্নতির জন্য বিশেষ প্রকল্পের ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। যে গাছগুলি আর উৎপাদনশীল নয়, সেগুলির বদলে নতুন গাছ এবং উন্নত প্রজাতির নারকেলের চারা বসিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যপূরণের কথা বলা হয়েছে চলতি বাজেটে।এই ফসল থেকে আয় ভাল হয় বলেই এই জোর।

নারকেলের শাঁস থেকে জল, এই ফলের পুষ্টিগুণ অনেক। তা ছাড়া নারকেলের খোল দিয়েও হয় হাতের কাজের জিনিস। নারকেলের তেল দিয়েও রান্নার চল রয়েছে। মোদ্দা কথায়, নারকেলের কোনও অংশই ফেলার যোগ্য নয়, কাজে লাগানো যায় সবটাই।

পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক জানাচ্ছেন, ১০০ গ্রাম নারকেলের শাঁসে রয়েছে ৩৫৪ কিলোক্যালোরি, ফ্যাট ৩৩ গ্রাম, প্রোটিন ৩.৩ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ১৫ গ্রাম, ফাইবার ৯ গ্রাম, শর্করা ৬.২ গ্রাম। ফলটির অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে। এতে রয়েছে ভাল মানের ফ্যাটি অ্যাসিড। প্রচুর খনিজ এবং ফাইবার। তবে এর ক্যালোরির মাত্রা বেশি, তাই এটি একবারে বেশি খাওয়া ঠিক নয়।

কী এর উপকারিতা?

· নারকেলের ৮৯ শতাংশই হল স্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা মিডিয়াম-চেন ফ্যাটি অ্যাসিড। ফলে এই ফ্যাট শরীরে জমে না, বরং এটি পরিপাকের সময় লিভারে চলে যায়, যা থেকে শক্তি উৎপাদন হয়।

· নারকেলে প্রচুর পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ় পাওয়া যায়। এটি শরীরে স্বল্পমাত্রায় প্রয়োজন হলেও অত্যাবশ্যক। হাড়ের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে খনিজটি জরুরি। প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেট পরিপাকের জন্যও এই খনিজের প্রয়োজন হয়।এতে রয়েছে সেলেনিয়ামের মতো শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট যা, কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের হাত থেকে রক্ষা করে।

· নারকেলের জলে পটাশিয়াম, সোডিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজে মেলে, যা শরীরে তরলের ভারসাম্য রক্ষার জন্য খুব জরুরি। সেই কারণে গরমের দিনে নারকেলের জল খেলে জলশূন্যতার ভয় থাকে না, ক্লান্তিও কমে।

· প্রচুর পরিমাণে ফাইবার পাওয়া যায় নারকেলে। ১০০গ্রাম নারকেলে ৯গ্রাম ফাইবার পাওয়া যায়। ফাইবার শুধু হজমেই সহায়ক নয়, তা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও জরুরি।

· নারকেলের স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং ফাইবারের জন্যই এটি খেলেও চট করে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে না। নারকেলে ফাইবারের কারণে কার্বোহাইড্রেট শোষণে সময় লাগে এবং বেশ ধীরে গ্লুকোজ বা শর্করা উৎপন্ন হয়। তা ছাড়া, নারকেলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স হল এক ধরনের স্কেল, যা কোনও খাবার খাওয়ার পরে রক্তে শর্করার মাত্রা কত কমছে বা বাড়ছে, তা নির্ধারণ করে। সেই কারণে ডায়াবেটিকেরাও এই ফল খেতে পারেন। তবে ক্যালোরির মাত্রা বেশি বলে তা খেতে হবে পরিমিত।

নারকেলের পুষ্টিগুণ খুব ভাল ভাবে পেতে হলে নারকেলের শাঁস খাওয়া যেতে পারে শুধুই। মিষ্টি শাঁস খুবই সুস্বাদু ওজন বৃদ্ধির ভয় না থাকলে বা ডায়াবিটিস না থাকলে দিনে ৩০-১০০ গ্রাম নারকেল খাওয়া যেতে পারে, তবে পুরোটাই নির্ভর করবে ব্যক্তি বিশেষের স্বাস্থ্য, হজমক্ষমতার উপর।

নারকেল দিয়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবারটি বোধহয় নাড়ু। এ ছাড়া পিঠে থেকে পাটিসাপটা নানা খাবারেই নারকেল থাকে। চাইলে নারকেল দিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন নানা রকম সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর খাবার।

পুডিং: টাটকা নরম নারকেলের শাঁস বার করে মিক্সারে ঘুরিয়ে নিন সামান্য গরম জল দিয়ে। মিশ্রণটি ছাঁকনিতে ছেঁকে নিলেই নারকেলের দুধ পাওয়া যাবে। এবার কড়াইয়ে সাবুদানা জল দিয়ে সেদ্ধ করে জল ঝরিয়ে রাখুন। সাবুদানা এবং নারকেলের দুধ ভাল করে মিশিয়ে নিন। কড়াইয়ে বসিয়ে আঁচ একদম কমিয়ে মিনিট পাঁচেক রান্না করে নিন। একটি কাচের স্বচ্ছ বাটি বা গ্লাসে মিশ্রণটি ঢেলে দিন। ঘরের তাপমাত্রায় এলে, তার উপরে নারকেল কুচি, আখরোট, পেস্তা বাদাম কুচি, কিশমিশ এবং খেজুরের টুকরো ছড়িয়ে ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে নিন। আধ ঘণ্টা রাখলেই মিশ্রণটি জমাট বেঁধে যাবে। কিশমিশ এবং খেজুরের প্রাকৃতিক মিষ্টত্ব খাবারে মিষ্টি স্বাদ যোগ করবে।

নারকেল-মাছ

স্বাস্থ্যকর এবং সুস্বাদু নারকেল মাছ খেয়ে দেখুন।

স্বাস্থ্যকর এবং সুস্বাদু নারকেল মাছ খেয়ে দেখুন। ছবি:সংগৃহীত।

নুন,হলুদগুঁড়ো, লঙ্কা মাখিয়ে পছন্দের মাছ অল্প আঁচে জলে সেদ্ধ করে নিন বা হালকা ভেজে নিন। কড়াইয়ে তেল দিয়ে পেঁয়াজ কুচি, আদা, রসুন, গোল মরিচ, শুকনো লঙ্কা ভাল করে নাড়াচাড়া করে নিন। দিন অনেকটা পরিমাণে নারকেল কোড়া। মিশ্রণটি হালকা নাড়া-চাড়া করে মিক্সারে একটু গরম জল দিয়ে ঘুরিয়ে নিন। নারকেলের ছিবড়ে যাতে মুখে না পড়ে সে জন্য মিশ্রণটি ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিন। কড়াইয়ে নারকেল-পেঁয়াজের মিশ্রণটি দিয়ে সেদ্ধ করা বা ভাজা মাছ আরও ৫ মিনিট ঢাকা দিয়ে রান্না করতে হবে। একদম শেষ ধাপে তেলে কারিপাতা, শুকনোলঙ্কা ফোড়ন দিয়ে সেটি মাছের উপর ছড়িয়ে দিন।

নারকেল দুধের পোলাও: নারকেলের শাঁস কুড়িয়ে মিক্সারে গরম জলের সঙ্গে ঘুরিয়ে নিন। ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে দুধ বার করে রাখুন। সরু চাল ধুয়ে জলে ভিজিয়ে রাখুন। প্রেশার কুকারে ঘি দিয়ে নারকেল কুচি এবং কাজুবাদাম হালকা ভেজে তুলে রাখুন। আবার একটু ঘি দিয়ে তেজপাতা, লবঙ্গ, দারচিনি ফোড়ন দিন। দিয়ে দিন চেরা কাঁচালঙ্কা। পছন্দের সব্জি কুচি যোগ করে হালকা ভেজে নিন। দিয়ে দিন ভেজানো চাল। স্বাদমতো নুন, চিনি দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করে নারকেলের দুধ যোগ করুন। যতটা চাল তার দেড়গুণ নারকেল দুধ দিতে হবে। প্রেশার কুকারে একটি বা দু’টি সিটি পড়া পর্যন্ত মধ্যম আঁচে রান্না করতে হবে। প্রেশার কুকারের ঢাকনা খুলে দেখুন ঝরঝরে হয়েছে কি। শেষধাপে ভাজা নারকেল কুচি এবং কাজুবাদাম মিশিয়ে নিন।

Coconut Nirmala Sitharaman Coconut Health Benefits
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy