দিনের শুরুর খাবারটি সব সময়েই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু স্বাদ উপভোগ করা কিংবা পেট ভরানোর জন্য নয়। চিকিৎসকেরা বলেন, পুষ্টিকর প্রাতরাশই শরীর সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।
সকালের খাবারের তালিকায় পুষ্টির ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন মনে করান পুষ্টিবিদেরা। সেখানে যেমন প্রোটিন থাকবে, তেমনই রাখতে হবে ফাইবার জাতীয় খাবার। স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফারমেন্টেড বা মজানো খাবার সেই তালিকাকে সম্পূর্ণ করবে। পুষ্টির দিকে নজর রেখে খাবার বাছাই করলেই কি শরীর ভাল থাকবে?
এমস এবং হার্ভার্ডে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক সৌরভ শেট্টি প্রাতরাশে পুষ্টিকর খাবারের তালিকা তৈরি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কোন খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং হজমের জন্য ভাল। আর স্বাস্থ্যকর খাবারের মোড়কে কোন খাবার স্বাস্থ্যহানি করে। তাঁর মতে সকালের জলখাবারে রাখতেই হবে ডিম। রাখতে হবে ফ্লেভার ছাড়া ইয়োগার্ট। এ ছাড়াও, তালিকায় রাখা যায় ওট্স, টোফু, অ্যাভোকাডো টোস্ট, স্মুদি। তিনি পেটের চিকিৎসক সিরিয়াল, গ্র্যানোলার মতো প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
বেঙ্গালুরুর পেটের রোগের চিকিৎসক প্রণব হোন্নাভরা শ্রীনিবাসন মনে করাচ্ছেন, প্রাতরাশের খাবার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রাথমিক শর্ত হওয়া দরকার, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ। যে খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা চড়চড়িয়ে বাড়তে পারে, তা কখনওই আদর্শ বা সঠিক খাবার হতে পারে না। তার পরে আসে প্রোটিন। প্রোটিন পরিপাক হয় ধীরে, শক্তি নির্গত হয় ধীরে ধীরে। এ ছাড়াও প্রয়োজন ফাইবার। ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা বশে রাখতে সাহায্য করে। এটি হজমে সহায় এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। পাশাপাশি দরকার মজিয়ে নেওয়া খাবার।
কোন ধরনের খাবার কী ভাবে খাওয়া ভাল
ইডলি, দোসা-ইডলি, দোসা মজানো খাবার। চিকিৎসক শ্রীনিবাসন মনে করাচ্ছেন, এই খাবারগুলি মজানো বা ফারমেন্টেড হলেও এতে কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। ফলে কেউ পেট ভরে শুধু ইডলি বা দোসা খেলেও রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে। তবে ইডলি বা দোসা খাওয়ার ভাল উপায় হল, সেটির সঙ্গে প্রোটিন জুড়ে নেওয়া। সব্জি দেওয়া সম্বর খেতে হবে সঙ্গে, যাতে ডাল এবং সব্জি যথেষ্ট পরিমাণে থাকবে। ডালে রয়েছে প্রোটিন আর সব্জিতে ফাইবার। যার ফলে ইডলি এবং দোসা খেলেও রক্তে শর্করার মাত্রা বশে থাকবে। এ ছাড়া, দোসা বা ইডলির সঙ্গে ডিম, পনির, ডাল, দইয়ের কোনও একটি বা দু’টি জুড়ে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক, যাতে রক্তে শর্করা ঠিক থাকে।
স্মুদি: ওট্সের সঙ্গে ফল মিশিয়ে স্মুদি খান অনেকেই। চিকিৎসক বলছেন ফলের মাত্রা বেশি হলে খাবারে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাবে। ফলে ওট্সের মাত্রা খানিক বাড়ানো যেতে পারে। দুধের বদলে খাওয়া যেতে পারে টক দই কিংবা ইয়োগার্ট।
বাদামের মাখন: বাদামের মাখন খুবই পুষ্টিকর। তবে মাখন খাওয়ার সময় পরিমাপ ঠিক রাখতে হবে।এতে প্রোটিন থাকলেও ফাইবার নেই। বাদামের মাখন দিয়ে মাল্টিগ্রেন পাউরুটির টোস্ট, উপরে কাটা ফল জুড়ে খাওয়া যেতে পারে।
কখন বুঝবেন প্রাতরাশে সঠিক খাবার বাছাই হচ্ছে না
অনেক সময় স্বাস্থ্যকর খাবারও পেটের সমস্যার কারণ হয়। ফাইবার জাতীয় খাবার ভাল, কিন্তু কতটা খাওয়া হচ্ছে তার উপর ভাল-মন্দ নির্ভর করে। চিকিৎসক জানাচ্ছেন, জলখাবার খাওয়ার ২-৩ ঘণ্টা পরে যদি পেট ভার হয়, দুপুর গড়ালেও খিদে না হয়, দিনভর প্রয়োজনীয় শক্তির অভাব হয় বা ক্লান্তি আসে, তা হলে বুঝতে হবে খাবারটি শরীরে সহ্য হচ্ছে না।