দুই সন্তানের মা, সইফ আলি খানের ঘরনি, অভিনেত্রী করিনা কপূর ৪৫-এও ফিট। নিয়ম মেনে শরীরচর্চা করেন তিনি। পঞ্জাবি পরিবারের মেয়ে ছোট থেকেই মাখন, পরোটা, ঘিয়ের স্বাদ জানেন। কিন্তু নায়িকা হতে গেলে ছাড়তে হয় এমন অনেক কিছুই। তার উপর ৫০-এর কাছাকাছি পৌঁছলে ডায়েট কড়া হবে, তেমনই ধারণা সকলের।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎাকার তাঁর ‘সিগনেচার’ স্যালাডের কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী। জানিয়েছেন, সেই স্যালাডের ভক্ত বাড়ির অন্যরাও। তাতে থাকে শসা, গাজর, মূলো, লেটুস। উপর থেকে ছড়িয়ে দেন পাতিলেবুর রস। করিনার কথায়, একটু ‘চটপটা’ স্বাদই পছন্দ তাঁর।
কাঁচা স্যালাডে কামড় দিলেই মূলোর মিষ্টি স্বাদের সঙ্গে জুড়ে যায় লেবুর টক ভাব। শসা, গাজরের নিজস্ব স্বাদ-গন্ধ আছেই, আর আছে লেটুসের স্বাদ। করিনা কপূরের পঞ্জাবি কায়দায় তৈরি স্যালাড কি সকলেই খেতে পারেন? স্বাস্থ্যের জন্যই বা তা কতটা উপযোগী?
পুষ্টিবিদ শম্পা চক্রবর্তী বলছেন, ‘‘শসা, লেটুস, গাজর, মূলোর স্যালাডে ক্যালোরি কম,ফাইবার বেশি, আবার তা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর। কাঁচা বলেই এতে পুষ্টিগুণও সবটা মেলে। তাই পেটের সমস্যা বা হজম সংক্রান্ত গোলযোগ না থাকলে এই স্যালাড খাওয়াই যায়।’’
স্যালডটির স্বাস্থ্য-উপযোগিতা
শসা: এতে জলের ভাগ প্রায় ৯৫-৯৬ শতাংশ। লো-ক্যালোরি শসায় অল্প পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজও থাকে। গরমের দিনে শরীরে জলশূন্যতার ঝুঁকি কমাতে পারে শসা। হজমেও সাহায্য করে। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম বলে ডায়াবেটিকেরাও খেতে পারেন।
গাজর: গাজরে থাকে বিটা ক্যারোটিন। বিভিন্ন ক্যারোটিনয়েড ও ভিটামিন এ চোখের কোষগুলি ভাল রাখতে সাহায্য করে। কাঁচা গাজরে থাকা ফাইবার গাট হেল্থ বা পেটের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সহায়ক। কাঁচা গাজরে ভিটামিনের পাশাপাশি কিছু উৎসেচকও মেলে।
মুলো: ফোলেট, ফাইবার, রাইবোফ্ল্যাভিন, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ় এবং ক্যালশিয়ামের মতো খনিজ রয়েছে মুলোয়। এ ছাড়া রয়েছে ‘অ্যান্থোসায়ানিন’ নামক একটি যৌগ, যা হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করতেও সাহায্য করে মুলো।
লেটুস: এতে আছে ভিটামিন সি এবং বিটা ক্যারোটিন, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। যা শরীরের কোষকে যে কোনও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। পাশাপাশি, ক্যানসার, হার্টের অসুখের ঝুঁকিও কমাতে পারে। তা ছাড়া, এতে মেলে ফোলেট, ভিটামিন কে।
পাতিলেবুর রস: পাতিলেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি, যা স্যালাডে শুধু টক স্বাদ আনে না, বাড়তি পুষ্টিও জোগায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে পাতিলেবুর রস খুবই কার্যকর।
এই স্যালাড কারা খাবেন, কারা নয়?
ভিটামিন, খনিজে ভরপুর স্যালাডটি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর। ক্যালোরি কম থাকে বলে, যাঁরা ওজন ঝরাতে চাইছেন তাঁরা এটি নিয়মিত খেতে পারেন। তবে পুষ্টিবিদ শম্পা জানাচ্ছেন, কাঁচা স্যালাডে পুষ্টিগুণ পুরোপুরি মিললেও, এটি সকলের সহ্য হয় না। বিশেষত, আইবিএস (ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম), গ্যাস্ট্রাইটিসের মতো সমস্যায় স্যালাড কাঁচা না খেতে ভাপিয়ে নেওয়া ভাল।
পেটের সমস্যা থাকলে হালকা সেদ্ধ করা গাজর-লেটুস-মুলো খাওয়াই ভাল। সেদ্ধ করলে ভিটামিন-এর পরিমাণ সামান্য কমে যায় যেমন, তেমনই শর্করা বা চিনির পরিমাণও কমে, যা ডায়াবিটিস রোগীদের স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল। তা ছাড়া, ভাপিয়ে নিলে বা সেদ্ধ করলে সব্জিগুলি নরম হয়ে গেলে বয়স্ক বা ছোটদের খেতে সুবিধা হয়। তবে হজমের সমস্যা না থাকলে কাঁচা স্যালাড খাওয়াই সমস্যা নেই। তবে, কাঁচা সব্জি খুব ভাল করে ধুয়ে না নিলে, তা থেকে সংক্রমণের ভয় থেকে যায়।
স্যালাডের স্বাদ এবং পুষ্টিগুণ বৃদ্ধির উপায়
· স্যালাডে গোলমরিচ, ধনেপাতা, জিরে, পুদিনাপাতা। এতে স্যালাড হজম করা এবং পুষ্টিগুণ শোষণ সহজ হয়ে যায়। স্যালাডের স্বাদও বাড়ে।
· ভাতের সঙ্গে স্যালাড না খেয়ে, পেট ভরা খাবার হিসাবেও স্যালাড খাওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে একটু জলঝরানো টক দইয়ের সঙ্গে এক টেবিল চা-চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নেওয়া যায়। টক দই প্রোবায়োটিকের জোগান দেয়, পেটের জন্য উপকারী ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা বাড়ে। অলিভ অয়েল ক্যালোরির মাত্রা বৃদ্ধি করলেও, এতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট শরীরের জন্য ভাল। এ, ডি, ই, কে-র মতো ফ্যাটে দ্রবীভূত ভিটামিন এর ফলে শোষণ করা সহজ হয়।
· স্যালাড খেয়ে পেট ভরাতে হলে এতে জুড়ে নিন প্রোটিন। আমিষ খেলে মাংস, ডিম, গ্রিল করা মাছ জুড়তে পারেন। নিরামিষ পছন্দ করলে পনির, টোফু, অঙ্কুরিত ছোলা-মুগ এতে জুড়ে দেওয়া যায়।