অফিস থেকে শপিং মল, পাশে বসে থাকা সহকর্মী থেকে মেট্রোর সহযাত্রী— হাঁচি, কাশি নিয়ে ভুগছেন অনেকেই। বর্ষার মরসুমে হঠাৎই হাঁচি, কাশি, জ্বরের সমস্যা বেড়ে গিয়েছে। বৃষ্টিতে না ভিজেও এই সমস্যা হচ্ছে। শিশু থেকে বয়স্ক— রেয়াত পাচ্ছেন না কেউই। কাশি এক বার শুরু হলে সহজে তা কমতে চায় না। অত্যধিক কাশি হলে বুকেও কষ্ট হয়। তাই কাশি কমাতে তৎপর হওয়া জরুরি। কিন্তু অনেকেই বুঝতে পারেন না, কী ভাবে মুহূর্তে কাশি কমে যাবে। সে উপায়ও আছে। কয়েকটি ঘরোয়া টোটকায় ভরসা রাখলে দ্রুত কমবে কাশি।
১) আদায় রয়েছে নানা ধরনের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। তাতে প্রদাহ কমানোর ক্ষমতা রয়েছে। কাশি হলেই আদা কুচি দিতে পারেন মুখে। তাতে আরাম মিলবে।
২) মধুও কাশি কমাতে সাহায্য করে। এ সময়ে যত বার চা খাবেন, তাতে চিনির বদলে মধু মেশান। তবেও মিলবে আরাম।
৩) দিনে অন্তত তিন বার গরম জলের ভাপ নিন। নাক-মুখ দিয়ে গরম বাষ্প ঢুকে ভিতর থেকে আরাম দিতে পারে। গলার খুসখুসানি তো কমবেই, সঙ্গে কমবে কাশি।
তবে শুধু তো কাশি কমালে চলবে না। সেই সঙ্গে প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি করতে হবে। তার জন্য নিয়ম মেনে খেতে হবে কয়েকটি খাবার।
রসুন
অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরা এই আনাজের অনেক গুণ রয়েছে। অনেকটা সময় পেট খালি থাকার পর এক কোয়া রসুন খেলে এর রস সহজে শরীর থেকে টক্সিন পদার্থ দূর করে, রক্তকে পরিশুদ্ধ রাখে। কিছু ভাইরাস ও সংক্রমণজনিত অসুখ— যেমন ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া, হাঁপানি প্রতিরোধে রসুন খুব উপকারী।
সবুজ শাকসব্জি ও ফল
ডিহাইড্রেশন থেকে বাঁচতে, শরীরকে স্বাভাবিক শক্তির জোগান দিতে, ভিটামিন সি ও খনিজ পদার্থের জোগানে যাতে ঘাটতি না পড়ে, সে সবের দিকেও এ সময়ে নজর দিতে হবে। প্রতি দিন নিয়ম করে অন্তত একটা মরসুমি ফল খান। খাওয়ার পাতে সঙ্গে রাখুন পর্যাপ্ত সবুজ শাকসব্জি।
টক দই
টক দইয়ে থাকা এনজাইম খাবার হজমের জন্য ভীষণ উপযোগী। টক দইয়ের প্রোবায়োটিক উপাদান লিভারকে যেমন সুস্থ রাখে, তেমনই এর জেরে কোলেস্টেরলও নিয়ন্ত্রণে থাকে। অনেকেই দুধ খেতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে ভরসা রাখতে পারেন দইয়ের উপর। দুধের তুলনায় দই অনেক বেশি সহজপাচ্য। শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বার করার ক্ষেত্রেও দইয়ের জবাব নেই। শরীর যত টক্সিনমুক্ত হবে, ততই সুস্থ থাকবেন।