Advertisement
E-Paper

কথায় কথায় প্রচণ্ড বিরক্তি, মেজাজ গরম? কিছু পুষ্টির অভাবেও এমন হতে পারে, জানুন সমাধান

শরীরে কিছু বিশেষ পুষ্টির অভাবেও অল্পেই মাথাগরম, অতিরিক্ত বিরক্তি, রেগে যাওয়া, খিটখিটে মেজাজ, চিৎকার করার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় সিভিয়ার ইরিটেবিলিটি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ ১৯:১৭
মেজাজে লাগাম টানুন পুষ্টি দিয়ে!

মেজাজে লাগাম টানুন পুষ্টি দিয়ে! ছবি: আইস্টক।

অপছন্দের কথা। চাইলে এড়িয়ে যেতেই পারতেন। কিন্তু এড়িয়ে গেলেন না। প্রচণ্ড বিরক্ত হলেন, মাথা গরম হল এবং অভিব্যক্তিতে সেই সব অনুভূতি প্রকাশও করে ফেললেন। চিৎকার করে ফেললেন স্বভাববিরুদ্ধ ভঙ্গিতে। এমন হলে যাঁরা ধৈর্যশীল তাঁরা পাল্টা বিরক্ত না হয়ে হয়তো ভাববেন আপনি মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত। বা নিজেও হয়তো দায়ী করবেন মানসিক চাপকেই। কিন্তু এমনটা ঘটতে পারে শারীরিক কারণেও।

শরীরে কিছু বিশেষ পুষ্টির অভাবেও অল্পেই মাথাগরম, অতিরিক্ত বিরক্তি, রেগে যাওয়া, খিটখিটে মেজাজ, চিৎকার চেঁচামেচি করার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় সিভিয়ার ইরিটেবিলিটি। এর জন্য যেমন অতিরিক্ত মানসিক চাপ দায়ী হতে পারে, তেমনই পুষ্টির অভাবেও এমন ঘটতে পারে। বিশেষ করে কিছু ভিটামিন এবং খনিজের অভাব হলে মস্তিষ্কের ‘নিউরোট্রান্সমিটার’ বা রাসায়নিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়, ফলে খিটখিটে মেজাজ বা সিভিয়ার ইরিটেবিলিটি দেখা দিতে পারে।

কোন কোন পুষ্টির অভাবে এমন হতে পারে?

ম্যাগনেসিয়াম: শরীরের জন্য অতি প্রয়োজনীয় এক খনিজ, যাকে বলা হয় ‘প্রাকৃতিক ট্র্যাঙ্কুলাইজার’। অর্থাৎ এমন ওষুধ যা উদ্বেগ বা উত্তেজনা প্রশমনে কাজে লাগে। শরীরে এর অভাব হলে স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ বাড়বে। অনিদ্রা এবং মাত্রা ছাড়া রাগও দেখা দিতে পারে। পালংশাক, কুমড়োর বীজ, কাজু বাদাম, ডার্ক চকলেট— ইত্যাদি শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের অভাব মেটাতে পারবে।

ভিটামিন বি কমপ্লেক্স: বিশেষ করে বি১২, বি৬, বি৯ ‘সেরোটোনিন’ বা সুখী হরমোন তৈরি করতে সাহায্য করে। এর অভাব ঘটলে মেজাজ খিটখিটে হতে পারে। ডিম, দুধ, মাংস, সবুজ শাকসব্জি, ডালে এই ধরনের ভিটামিন থাকে।

ভিটামিন ডি: একে বলা হয় ‘সানশাইন ভিটামিন’। সূর্যের আলো থেকে পাওয়া যায় বলে তো বটেই। মনমেজাজকেও ঝলমলে রোদের মতো খোলতাই রাখতে আদর্শ এই ভিটামিন। এর অভাবে বিষণ্ণতা আসতে পারে। ঘনঘন মেজাজ পরিবর্তনও হতে পারে। সূর্যের আলো ছাড়া চর্বিযুক্ত মাছ, ডিমের কুসুমে এই ভিটামিন পাওয়া যায়।

জ়িঙ্ক: মস্তিষ্কের সঙ্কেত আদান-প্রদানে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে এর অভাব হলে মস্তিষ্ক বুঝতে পারে না শরীরের কোথায় কী ঘটছে। ফলে খিটখিটে ভাব বাড়ে। পাশাপাশি, ক্লান্তিও বাড়ে। কুমড়োরর বীজ, সামুদ্রিক মাছ, রেড মিট, দানাশস্যে জ়িঙ্ক পাওয়া যায়।

ওমেগা ৩: এটি কোনও ভিটামিন নয়, তবে মস্তিষ্কের কোষের সুরক্ষায় এর অভাব হলে খিটখিটে ভাব বাড়ে। সামুদ্রিক মাছ বা বেশি চর্বিযুক্ত মাছ যেমন— ইলিশ, কাতলা, মাগুর খেতে পারেন। এ ছাড়া তিল, তিসি, আখরোটও খেতে পারেন।

আয়রন: রক্তাল্পতা বা আয়রনের অভাবে মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়, যা বিরক্তিবোধ তৈরি করতে পারে। ডুমুর, থানকুনি পাতা, থোড়, মোচা, বিভিন্ন ধরনের শাক, বেদানায় আয়রন থাকে ভরপুর।

কী ভাবে সমাধান করবেন?

রক্ত পরীক্ষা করা: আন্দাজে ভিটামিন বা খনিজ সমৃদ্ধ সাপ্লিমেন্ট বা বিকল্প ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে দেখুন শরীরে ভিটামিন ডি, বি১২ বা আয়রন উপযুক্ত পরিমাণে আছে কি না। তাতে নিশ্চিত হওয়া যাবে, ঠিক কোনটির অভাব হচ্ছে। সঠিক তথ্য হাতে থাকলে পরবর্তী পদক্ষেপ করতেও সুবিধা হবে।

সঠিক ডায়েট: প্রতিদিনের খাবারে রঙিন সব্জি, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, যেমন বাদাম বা ঘি রাখুন। প্রক্রিয়াজাত খাবার বা অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলুন, কারণ চিনি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে আবার কমিয়ে দেয়, এর প্রভাবও পড়তে পারে মন-মেজাজে।

পর্যাপ্ত ঘুম ও জলপান: ডিহাইড্রেশন বা জলের অভাব এবং ঘুমের ঘাটতি ইরিটেবিলিটির অন্যতম প্রধান কারণ। দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন।

সূর্যের আলো: প্রতিদিন অন্তত ১৫-২০ মিনিট গায়ে রোদ লাগান, যা প্রাকৃতিক উপায়ে ভিটামিন ডি-এর জোগান দেবে।

মনে রাখা জরুরি

যদি ভাল খাবার আর ভাল ঘুমের পরেও মেজাজ নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যেহেতু ‘সিভিয়ার ইরিটেবিলিটি’-র আরও একটি কারণ মানসিক চাপ, তাই সেক্ষেত্রে সে দিকটিও ভেবে দেখতে হবে।

Severe irritability Mood Controlling Nutrition
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy