ভাত-রুটি খাওয়ানো কঠিন। তবে চিপ্স, কুকি, চকোলেটে কোনও না নেই। খুদেকে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো যে কতটা ঝক্কির ভালই জানেন বাবা-মায়েরা। ব্যতিক্রম যে নেই তা নয়। তবে এমন শিশুর সংখ্যা বোধহয় হাতে গোনা!
অনেক সময়ই সন্তান কিছু খাচ্ছে না বলে অথবা তাদের বায়নার কাছে পরাস্ত হয়ে অভিভাবকেরা কেক, পেস্ট্রি, চিপ্স, কুকি হাতে তুলে দিতে বাধ্য হন। কখনও বা তাদের ভাললাগার মানও রাখতে হয়।কিন্তু মুখরোচক খাবারের ফাঁকে পুষ্টি বাদ পড়লে কী চলে?
ছোট থেকে বড় হওয়ার সময় পুষ্টির অভাব হলে শিশুর বিকাশে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।আবার তার বায়নাও সামলাতে হবে। তাই বানিয়ে ফেলুন সবুজ কুকি। সব্জি এবং ফলের মিশেলে তৈরি কুকিতে চিনিও নেই। তবু তা খেতে চাইবে ছোটরা। কী ভাবে বানাবেন?
উপকরণ
আধ কাপ গলানো মাখন
১ চা-চামচ ভ্যানিলা এক্সট্র্যাক্ট
আধ কাপ ম্যাপেল সিরাপ বা খেজুর বাটা
৪টি ডিম
আরও পড়ুন:
১ টি গাজর
১টি কলা
একমুঠো কচি পালংশাক
মাপ মতো জল
সাড়ে চার কাপ ওট্সগুঁড়ো
স্বাদমতো নুন
১ টেবিল চামচ বেকিং সোডা
এক মুঠো চকো চিপ্স
প্রণালী: একটি পাত্রে ডিম, খেজুর বাটা, ভ্যানিলা এক্সট্র্যাক্ট ভাল করে মিশিয়ে নিন যাতে কোনও দলা না থাকে। মিক্সারে গাজর, কলা, পালংশাক সামান্য জল দিয়ে ঘুরিয়ে নিন। দুই ধরনের মিশ্রণ মিশিয়ে নিন। একটি পাত্রে ওট্সগুঁড়ো, নুন, বেকিং সোডা মিশিয়ে সবুজ তরলটি দিয়ে ভাল করে মাখুন। এমন ভাবে মাখতে হবে যাতে কুকির আকৃতি তৈরি করা যায়।
বেকিং ট্রে-তে বাটার পেপার বসিয়ে মাখন বা সাদা তেল মাখিয়ে কুকিগুলি বসিয়ে দিন। খুদেদের যাতে ভাল লাগে সে জন্য নকশাদার কুকি কাটার দিয়েও নানা রকম আকৃতি দিতে পারেন। বেক করার আগে কুকির উপরে চকোলেট চিপস ছড়িয়ে দিন। ১৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১০-১২ মিনিট বেক করে নিন।
উপকারিতা
· পালংশাকে ভিটামিন এ, সি এবং কে ভরপুর মাত্রায় থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। দৃষ্টিশক্তি ভাল করতেও পালংশাক উপকারী। এই শাক আয়রনে পরিপূর্ণ।
· গাজরে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন, ফাইবার, ভিটামিন এ, পটাশিয়াম। যা দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে, ত্বক ভাল রাখে।
· কলায় রয়েছে পটাশিয়াম, ফাইবার এবং নানা রকম ভিটামিন এবং খনিজ। কলা হজমক্ষমতা বৃদ্ধি করে, পেট পরিষ্কারে সাহায্য করে।
· ডিমে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অ্যামিনো অ্যাসিড। এতে মেলে ক্যালশিয়াম, স্বাস্থ্যকর ফ্যাটও।
সব্জি এবং ফলের গুণে ভরপুর কুকিটি শিশুর স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর নয়। তার উপর ওট্স থাকায়, ফাইবারের চাহিদাও পূরণ হয়। দিনে ২-৩টি কুকি খেতেই পারে ৪-৫ বছরের শিশু।