কারও কফির গন্ধ নাকে এলেই শরীর-মন চনমনে হয়ে ওঠে। কারও আবার পছন্দের পানীয়ের তালিকায় থাকে গ্রিন টি। কেউ কেউ আবার এই সব ফেলে নতুন ধারায় গা ভাসিয়ে দিচ্ছেন। তাঁরা নিচ্ছেন মাচা। তিন পানীয়ের মধ্যে গুণের বিচারে এগিয়ে কে? কোন পানীয় খেলে পেটের স্বাস্থ্য ভাল থাকবে?
পুণের পেটের রোগের চিকিৎসক কিরণ শিন্ডে জানাচ্ছেন, তিন পানীয়েই অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রয়েছে। গ্রিন টি এবং মাচায় রয়েছে ক্যাচেইনস নামে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং পেটের জন্যও ভাল। প্রক্রিয়াকরণের তফাতের জন্য গ্রিন টি-র চেয়ে মাচায় অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের মাত্রা থাকে বেশি।
কফিতে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকলেও, চিকিৎসক জানাচ্ছেন, এই পানীয় কিছুটা অ্যাসিড জাতীয়। বিশেষত, যাঁদের অম্বলের ধাত আছে বা অল্পেই হজমের সমস্যা হয়, তাঁদের খালি পেটে কফি এড়িয়ে চলাই ভাল। এ ক্ষেত্রে হালকা গ্রিন টি বা মাচা বেছে নিতে পারেন। বেশি কড়া গ্রিন টি বা মাচা খালিপেটে খেলেও অবশ্য কারও কারও বমিভাব দেখা যায়।
তবে শুধু স্নায়ু চাঙ্গা করতে নয়, কফির আলাদা গুরুত্ব আছে। অনেকেরই পেট পরিষ্কারের আগে গরম পানীয় খাওয়ার অভ্যাস আছে। কারণ তা বেগ আনতে সাহায্য করে। সেই তালিকায় তিন পানীয়ের মধ্যে এগিয়ে থাকবে কফি, বলছেন চিকিৎসক। কফির পাশাপাশি গ্রিন টি এবং মাচায় ক্যাফিন থাকলেও, তা কফির মতো কাজ করে না। চায়ে থাকে এল-থিয়ানিন, যা শরীরে ক্যাফিন নিঃসরণের মাত্রা কমিয়ে দেয়। তবে অতিরিক্ত কফি খেলে কারও কারও পেট ভার হতে পারে, পেট ব্যথাও হতে পারে।তা ছাড়া, কফি অম্বলের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে, ফলে বুকজ্বালা, পেটে অস্বস্তির মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। কালো কফিতে সমস্যা কম হলেও, দুধ কফিতে সমস্যা বাড়ে।
বেছে নেবেন কোনটি
অম্বল, গ্যাস, বদহজমের সমস্যায় পানীয় হিসাবে চা বেছে নেওয়া যায়। কারণ, চায়ে ক্যাফিন কাজ করে মৃদু ভাবে। এক ধাক্কায় ক্যাফিনের মাত্রা বেড়ে যায় না। অন্য দিকে, কালো কফি দিনে এক-দু’কাপ খেলে অসুবিধা নেই। তবে বার বার খেলে তা পেটের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। তা ছাড়া, চিকিৎসক মনে করাচ্ছেন, খালি পেটে কোনওটাই খাওয়া ভাল নয়।