বয়সজনিত কারণে হোক বা বিশেষ কোনও শারীরিক সমস্যায়, হাত ও পায়ের পেশির আড়ষ্টতা বাড়ে অনেক সময়েই। প্রবীণেরা বেশি ভোগেন এই সমস্যায়। বাতের ব্যথার কারণে যেমন তা হতে পারে, তেমনিই হার্টের অসুখ বা আচমকা ব্রেন স্ট্রোকের কারণে শরীরের একদিকের বা উভয়দিকের পেশির অসাড়তা বাড়ে। স্নায়ুর রোগেও এমন হতে পারে, তখন হাত নাড়াতে বা হাঁটাচলা করতে সমস্যা হয়। হস্ত গরুড়াসন করে পেশির জড়তা বা অসাড়তা দূর করা সহজ। বয়স্কেরা আসনটি চেয়ারে বসেই করতে পারেন।
কী ভাবে করবেন?
১) পিঠ সোজা রেখে চেয়ারে পা ঝুলিয়ে বসতে হবে। ঝুঁকে বসলে চলবে না। পিঠ যেন টানটান থাকে।
২) চোখ বন্ধ করে দুই হাত কোলের উপর রেখে গভীর ভাবে শ্বাস নিন ও ছাড়ুন। এতে মন স্থির হবে।
৩) এ বার দুই হাত সামনে বাড়িয়ে দিন, মেঝের সমান্তরাল ভাবে।
আরও পড়ুন:
৪) ডান হাতের নীচ দিয়ে বাঁ হাতের কনুই পেঁচিয়ে ধরুন। এই অবস্থায়, অর্থাৎ দুই হাত পেঁচানো অবস্থায় কনুই কাঁধের উচ্চতায় তোলার চেষ্টা করুন।
৫) এই ভঙ্গিতে ২০ সেকেন্ডের মতো থাকুন।
৬) হাত বদলে একই রকম ভাবে বাঁ হাতের নীচ দিয়ে ডান হাতের কনুই পেঁচিয়ে ধরে একই ভাবে আসনটি করতে হবে।
৭) এক হাতে অভ্যাসের পর শুরুর অবস্থানে এসে বিশ্রাম নিয়ে আবার অন্য হাতে আসনটি করতে হবে।
উপকারিতা:
পেশির জড়তা দূর হবে, হাতের পেশি সচল ও সক্রিয় হবে।
বাতের ব্যথা-বেদনা সারবে, হাত নাড়াতে কষ্ট হয় যাঁদের, তাঁরা আসনটি করলে উপকার পাবেন।
দীর্ঘ সময়ে মাউস ধরে বা টাইপ করার কারণে কব্জিতে ব্যথা হলে, তা সারবে হস্ত গরুড়াসনে।
দুই হাত, কাঁধ ও শরীরের ঊর্ধ্বাংশে রক্ত সঞ্চালন ভাল হবে।
দীর্ঘদিন রোগে ভুগে হাত-পায়ে যন্ত্রণা, পেশির দুর্বলতা বাড়লে আসনটি অভ্যাস করতে পারেন।
কারা করবেন না?
হাতে অস্ত্রোপচার হলে আসনটি না করাই ভাল।
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে আসনটি করা যাবে না।